ভেনিসের জলরাশিতে এবার উঠবে জেমসের গিটারের ঢেউ
২৩ আগস্ট—তেয়াত্রো কর্সোর মঞ্চে বাংলা রকের কিংবদন্তি জেমস। পরিবার, স্মৃতি আর প্রবাসের আবেগকে সঙ্গে নিয়ে প্রস্তুত ভেনিস
বিশেষ প্রতিনিধি
ভেনিসকে বলা হয় ভালোবাসার শহর। জল, স্থাপত্য আর অসংখ্য গল্পে ঘেরা এই শহরের প্রতিটি সন্ধ্যার নিজস্ব এক সুর আছে। কিন্তু আগামী ২৩ আগস্ট সেই সুরের সঙ্গে যোগ হতে যাচ্ছে আরেকটি পরিচিত শব্দ—বাংলা রকের গর্জন।
সেদিন ভেনিসের ঐতিহাসিক তেয়াত্রো কর্সো (TEATRO CORSO)-র মঞ্চে উঠবেন বাংলাদেশের সংগীতের কিংবদন্তি শিল্পী, ‘নগর বাউল’খ্যাত জেমস।
একটি কনসার্টের জন্য হয়তো এই আয়োজন। কিন্তু প্রবাসী বাংলাদেশিদের কাছে এর অর্থ আরও অনেক বেশি।
এটি শেকড়ের কাছে ফিরে যাওয়ার এক সন্ধ্যা।
এটি কৈশোরের প্রিয় গানগুলোকে আবার নতুন করে অনুভব করার মুহূর্ত।
এটি হাজার মাইল দূরে থেকেও নিজের ভাষা ও সংস্কৃতির সঙ্গে একাত্ম হওয়ার একটি উপলক্ষ।
আর সেই আবেগের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকবেন—জেমস।
যে কণ্ঠের সঙ্গে বড় হয়েছে একটি প্রজন্ম
জেমসের গান শুধু গান নয়—অনেকের জীবনের গল্প।
কেউ তার গান শুনেছেন প্রথম প্রেমে পড়ে। কেউ শুনেছেন বন্ধুত্বের আড্ডায়। কেউ জীবনের কঠিন সময়ে তার কণ্ঠে খুঁজে পেয়েছেন সাহস। আবার প্রবাসে পাড়ি জমানোর পর অনেকের কাছে তার গান হয়ে উঠেছে ফেলে আসা বাংলাদেশকে মনে করার একটি দরজা।
তার কণ্ঠের সেই স্বতন্ত্র ভার, গিটারের তীব্রতা আর মঞ্চে উপস্থিতির সেই অদ্ভুত শক্তিই তাকে তৈরি করেছে ‘নগর বাউল’ হিসেবে।
এবার সেই কণ্ঠই শোনা যাবে ভেনিসে।
ভেনিসের মঞ্চে বাংলার রক
২৩ আগস্টের সন্ধ্যায় তেয়াত্রো কর্সোতে শুধু আলো জ্বলবে না—জ্বলবে প্রবাসী বাংলাদেশিদের বহুদিনের অপেক্ষাও।
জেমসের জনপ্রিয় গান, তার স্বকীয় পরিবেশনা এবং লাইভ মিউজিকের উত্তাপ মিলিয়ে তৈরি হবে এমন এক সন্ধ্যা, যেখানে ভেনিসের দর্শনীয় সৌন্দর্যের সঙ্গে মিশে যাবে ঢাকার গলি, পুরোনো বন্ধুত্ব, তারুণ্যের স্মৃতি আর বাংলার গান।
মনোয়ার ক্লার্কের পরিবেশনায়, গ্র্যান্ডমেলা (Grandmela)-এর আয়োজনে এবং বাংলাদেশ কমিউনিটির সার্বিক সহযোগিতায় এই বিশেষ আয়োজনকে ঘিরে ইতোমধ্যেই শুরু হয়েছে প্রস্তুতি।
ইতালির বিভিন্ন প্রান্ত থেকে দর্শকদের আসার প্রস্তুতিও চলছে।
শুধু তরুণদের জন্য নয়—পুরো পরিবারের জন্য
আয়োজকদের পরিকল্পনায় এবারের অনুষ্ঠানকে রাখা হয়েছে পরিবারবান্ধব।
শিশু থেকে প্রবীণ—সব বয়সী দর্শক যেন স্বাচ্ছন্দ্যে অনুষ্ঠান উপভোগ করতে পারেন, সে বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে ভেন্যু নির্বাচনে।
তেয়াত্রো কর্সোর শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে থাকছে সুশৃঙ্খল দর্শক ব্যবস্থাপনা, নিরাপত্তা ব্যবস্থা, পার্কিং সুবিধা, খাবার ও পানীয়ের আয়োজন এবং জরুরি প্রয়োজনে ফার্স্ট এইড ও চিকিৎসা সহায়তার ব্যবস্থা।
অর্থাৎ সন্ধ্যাটি শুধু জেমসের গান শোনার জন্য নয়; পরিবারকে সঙ্গে নিয়ে প্রবাসের জীবনে একটি স্মরণীয় সময় কাটানোরও সুযোগ।
টিকিট শুরু €৩৫ থেকে
বিভিন্ন শ্রেণির দর্শকের কথা বিবেচনা করে রাখা হয়েছে একাধিক টিকিট ক্যাটাগরি।
Premium Elite — €350
ব্যাকস্টেজ অ্যাকসেস, প্রায়োরিটি এন্ট্রি ও ডিনার; সীমিত আসন।
Premium VIP + Dinner — €250
ফ্রন্ট-রো প্রিমিয়াম সিট ও নৈশভোজ।
Gold VIP — €150
ভিআইপি সিট, ফাস্ট-ট্র্যাক এন্ট্রি ও প্রায়োরিটি মিট অ্যান্ড গ্রিট।
Red VIP — €100
ভিআইপি সিট ও মিট অ্যান্ড গ্রিটের সুযোগ।
Standard Seating — €70
আরামদায়ক আসন ও স্টেজের ভালো ভিউ।
Roof Top Front View — €50
সামনের দিকের দৃশ্য উপভোগের সুযোগসহ স্বাচ্ছন্দ্যপূর্ণ সিটিং।
General Seating — €35
সাশ্রয়ী মূল্যে সাধারণ প্রবেশাধিকার।
ভেনিসের বিভিন্ন প্রান্তে টিকিটের ব্যবস্থা
অনলাইনের পাশাপাশি সরাসরি টিকিট সংগ্রহের সুবিধাও রাখা হয়েছে।
Jesolo
KING PUB JESOLO — Via Ugo Foscolo, 50
মোবাইল: 351 123 7030
Marghera
MOOD BANGLA RESTAURANT — Via della Rinascita, 14
মোবাইল: 392 490 1651
HALAL PIZZA & KEBAB — Via Agostino Stefani, 3/B
মোবাইল: 329 655 3565
Mestre
KHAN EXPRESS — Corso del Popolo, 94/C
মোবাইল: +39 327 295 9096
VHL MULTI SERVICE CAF — Via Gaspare Gozzi, 6/C
মোবাইল: 328 101 2921
ANSAP VENEZIA ITA OFFICE CAF 6 PATRONATO — Via Gaspare Gozzi, N.53
মোবাইল: +39 351 225 5725
Mestre Centro
MM SHOPPING CENTER MINIMARKET — Via Viale San Marco, 19A
মোবাইল: +39 327 551 0470
VIP ও সরাসরি যোগাযোগ
নূর আলম: 380 909 4761
সুমন: 328 822 2742
সরাসরি যোগাযোগ: পাদোভা বার্তা ইতালি
অনলাইন টিকিট: Grandmela — www.grandmela.it
এবার গল্পটা শুধু ভেনিসের নয়
প্রবাসে বসবাস করা মানে শুধু দেশ থেকে দূরে থাকা নয়। কখনো কখনো একটি পরিচিত গানই হয়ে ওঠে দেশের সঙ্গে যোগাযোগের সবচেয়ে শক্তিশালী মাধ্যম।
জেমসের কণ্ঠে সেই গানগুলো যখন ভেনিসের মঞ্চে উঠবে, তখন দর্শকদের চোখের সামনে হয়তো ভেসে উঠবে বহু পুরোনো কোনো বিকেল, বন্ধুর সঙ্গে কাটানো কোনো রাত, ঢাকার কোনো রাস্তা কিংবা ফেলে আসা প্রিয় মানুষদের মুখ।
এই কারণেই ২৩ আগস্টের আয়োজনটি হয়তো শেষ হবে মঞ্চের আলো নিভে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে, কিন্তু তার স্মৃতি থেকে যাবে আরও অনেক দিন।
যে রাতে ভেনিস শুনবে বাংলার হৃদস্পন্দন
একদিকে ভেনিসের নীল জল।
অন্যদিকে আলোয় ভেসে থাকা তেয়াত্রো কর্সো।
আর মাঝখানে দাঁড়িয়ে বাংলার রকের এক কিংবদন্তি কণ্ঠ।
২৩ আগস্টের সেই রাত হয়তো জেমসের জন্য আরেকটি কনসার্ট। কিন্তু হাজারো প্রবাসী বাংলাদেশির জন্য এটি হতে পারে নিজের শেকড়কে আরেকবার ছুঁয়ে দেখার রাত।
ভেনিসের ক্যানাল হয়তো প্রতিদিনই ঢেউ তোলে।
কিন্তু ২৩ আগস্ট সেই ঢেউয়ের সঙ্গে মিশে যাবে বাংলার গিটারের শব্দ।
সেদিন ভেনিস শুধু একটি কনসার্ট দেখবে না—
শুনবে একটি দেশের গান, একটি প্রজন্মের স্মৃতি এবং এক কিংবদন্তি শিল্পীর কণ্ঠ।
জেমস আসছেন।
মঞ্চ প্রস্তুত।
ভেনিসও প্রস্তুত—
এবার দেখা যাক, সেই রাতে কতটা দূর পর্যন্ত পৌঁছে যায় বাংলার রকের ঢেউ।
(ছবি সংগৃহীত)

✍️ মন্তব্য লিখুন