আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে দিল্লির যন্তর মন্তর এলাকায় বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে ৫০০-এর বেশি মানুষকে আটক করেছে পুলিশ। শুক্রবার (২ অক্টোবর) বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, ছাত্র ও নাগরিক সংগঠনের নেতা-কর্মীরা বিক্ষোভে অংশ নিতে সেখানে জড়ো হওয়ার চেষ্টা করলে পুলিশ তাঁদের আটক করে।
বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, ভারতের ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন (এসআইআর) কার্যক্রমে অনিয়ম হয়েছে এবং এর ফলে বিপুলসংখ্যক ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ পড়েছে। এসব অভিযোগের জেরে তাঁরা প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ দাবি করছেন। নির্বাচন কমিশন অবশ্য এসআইআরকে ভোটার তালিকা সংশোধন ও অযোগ্য বা দ্বৈত নাম বাদ দেওয়ার প্রক্রিয়া হিসেবে তুলে ধরেছে।
যন্তর মন্তরে যাওয়ার পথে বাধা
দিল্লি পুলিশ আগেই যন্তর মন্তরে প্রস্তাবিত বিক্ষোভের অনুমতি দেয়নি। শুক্রবার বিক্ষোভের আগে মধ্য দিল্লিতে নিরাপত্তা জোরদার করা হয় এবং ব্যারিকেড বসানো হয়। পুলিশ ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতা (বিএনএসএস)-এর ১৬৩ ধারা জারি করে অনুমতি ছাড়া পাঁচ বা তার বেশি মানুষের জমায়েত, মিছিল ও বিক্ষোভ নিষিদ্ধ করে।
পুলিশের বরাতে বিভিন্ন ভারতীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, যন্তর মন্তর ও আশপাশের এলাকা থেকে ৫০০-এর বেশি মানুষকে আটক করা হয়েছে। অন্য একটি পুলিশ সূত্রের হিসাবে, যন্তর মন্তরে যাওয়ার চেষ্টা করা প্রায় ৭০০ এসএফআই সদস্যকে অশোকা রোডের একটি গোলচত্বরে আটকে দেওয়া হয়। ফলে আটক ব্যক্তির সংখ্যা নিয়ে বিভিন্ন প্রতিবেদনে কিছুটা পার্থক্য রয়েছে।
বিরোধী নেতা ও ছাত্রনেতারাও আটক
আটক ব্যক্তিদের মধ্যে আম আদমি পার্টির (এএপি) নেতা ও সাবেক দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী আতিশি, দিল্লি এএপির সভাপতি সৌরভ ভরদ্বাজ এবং বিভিন্ন ছাত্র ও নাগরিক সংগঠনের নেতা-কর্মীরা রয়েছেন। এএপির রাজ্যসভার সাংসদ সঞ্জয় সিংকেও বিক্ষোভস্থলের দিকে যেতে বাধা দেওয়া হয়।
বিক্ষোভে অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন (এআইএসএ), স্টুডেন্টস ফেডারেশন অব ইন্ডিয়া (এসএফআই), ন্যাশনাল স্টুডেন্টস ইউনিয়ন অব ইন্ডিয়া (এনএসইউআই), ডেমোক্রেটিক ইয়ুথ ফেডারেশন অব ইন্ডিয়া (ডিওয়াইএফআই)সহ বিভিন্ন সংগঠনের কর্মীরা অংশ নেন।
মেট্রো চলাচলেও প্রভাব
বিক্ষোভ ঘিরে নিরাপত্তা ব্যবস্থার অংশ হিসেবে দিল্লি মেট্রোর কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ স্টেশনের প্রবেশ ও বহির্গমন পথ সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়। কেন্দ্রীয় দিল্লির বিভিন্ন এলাকায় বিপুলসংখ্যক পুলিশ ও নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েন করা হয়।
এদিকে, একই দিনে ভারতের বিভিন্ন শহরেও নির্বাচন কমিশনের কার্যক্রম ও ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে বিক্ষোভের কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। দিল্লির পাশাপাশি মুম্বাইয়েও নির্বাচন কমিশনের প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে কর্মসূচির খবর পাওয়া গেছে।
✍️ মন্তব্য লিখুন