আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ফ্রান্সজুড়ে উচ্চবিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ ক্রমেই ছড়িয়ে পড়ছে। শিক্ষকসংকট, অতিরিক্ত শিক্ষার্থী, দীর্ঘ ক্লাস সময়, বিদ্যালয়ের অবকাঠামোর দুরবস্থা ও শিক্ষা খাতে পর্যাপ্ত সম্পদের ঘাটতির অভিযোগে শুরু হওয়া আন্দোলন বৃহস্পতিবার সহিংস রূপ নেয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ফ্রান্সের প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়াঁ লেকর্নু সংকট বৈঠক ডাকেন এবং মন্ত্রীদের পূর্বনির্ধারিত সফর বাতিল করে আন্দোলন পরিস্থিতি মোকাবিলায় মনোযোগ দেওয়ার নির্দেশ দেন।
গত সপ্তাহে প্যারিস অঞ্চলে শুরু হওয়া বিক্ষোভ দ্রুত দেশের বিভিন্ন শহরে ছড়িয়ে পড়ে। বৃহস্পতিবার দেশজুড়ে প্রায় ৯০০টি বিক্ষোভ, স্কুল অবরোধ ও সংশ্লিষ্ট কর্মসূচি চলছিল বলে পুলিশ জানিয়েছে। এর মধ্যে ১৬০টির বেশি স্কুল বন্ধ হয়ে যায়। একই সময়ে প্যারিস ও মার্সেইসহ বিভিন্ন শহরের প্রায় ৩০টি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসেও প্রবেশপথ অবরোধ করা হয়।
সহিংসতা ও অগ্নিসংযোগ
বিক্ষোভকারীরা বিভিন্ন বিদ্যালয়ের প্রবেশপথ অবরোধ করে এবং কোথাও কোথাও আবর্জনার স্তূপে আগুন ধরিয়ে দেয়। নঁতে শহরের একটি স্কুলে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটে। মার্সেইয়ে একটি অগ্নিনির্বাপক গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয় এবং পরিবহনব্যবস্থায়ও বিঘ্ন ঘটে। স্ট্রাসবুর্গে একটি গাড়িতে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটে; তুলুজে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে দাঙ্গা পুলিশের সংঘর্ষ হয়। এসব ঘটনায় বহু মানুষ আহত এবং শত শত মানুষকে পুলিশ আটক করেছে।
ফ্রান্সের শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের হিসাবে, শুক্রবার প্রায় ৪০০ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকার কথা রয়েছে। কিছু এলাকায় নিরাপত্তার কারণে অনলাইনে ক্লাস নেওয়ার প্রস্তুতিও নেওয়া হয়েছে।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ কী
শিক্ষার্থীদের প্রধান দাবির মধ্যে রয়েছে শিক্ষকসংকটের সমাধান, শ্রেণিকক্ষে অতিরিক্ত শিক্ষার্থীর চাপ কমানো, বিদ্যালয়ের জরাজীর্ণ অবকাঠামো সংস্কার এবং শিক্ষার পরিবেশ উন্নত করা। শিক্ষার্থীরা দীর্ঘ ক্লাস সময় ও পর্যাপ্ত শিক্ষক না থাকার বিষয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেছে। আন্দোলনকারীদের একটি অংশ পুলিশের অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের অভিযোগও তুলেছে।
শিক্ষামন্ত্রী এদুয়ার জেফ্রে বলেছেন, শিক্ষার্থীদের কিছু অভিযোগ যৌক্তিক হলেও আন্দোলনের একটি অংশ এখন সহিংসতায় পরিণত হয়েছে। তিনি শুক্রবার শিক্ষার্থী সংগঠন, শিক্ষক ও অভিভাবকদের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করার কথা জানিয়েছেন।
রাজনৈতিক বিতর্কও তীব্র
বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ার পেছনে রাজনৈতিক ভূমিকা রয়েছে কি না, তা নিয়েও ফ্রান্সে বিতর্ক শুরু হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর ঘনিষ্ঠ একটি সূত্রের বরাতে রয়টার্স জানিয়েছে, বৃহস্পতিবারের সংকট বৈঠকে গোয়েন্দা সংস্থাগুলো দাবি করেছে, কট্টর বামপন্থী রাজনৈতিক দল লা ফ্রঁস ইনসুমিজ (LFI) ও তাদের সহযোগীরা আন্দোলনটি সংগঠিত করেছে। তবে LFI-এর আইনপ্রণেতা লুই বোয়ার এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন এবং বলেছেন, তাঁদের দল শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভের পক্ষে।
আন্দোলনের বিস্তার এমন সময়ে ঘটছে, যখন ফ্রান্স সরকার ২০২৭ সালের বাজেটে ব্যয় কমানোর বিভিন্ন পরিকল্পনা প্রকাশ করেছে। ফলে শিক্ষা নিয়ে শুরু হওয়া বিক্ষোভ এখন দেশটির বৃহত্তর রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক বিতর্কের সঙ্গেও যুক্ত হয়ে পড়েছে।
শুক্রবারও দেশের বিভিন্ন শহরে স্কুলের সামনে বিক্ষোভ ও পুলিশের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের সংঘর্ষের খবর পাওয়া গেছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে সরকার একদিকে নিরাপত্তা জোরদার করেছে, অন্যদিকে শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকদের সঙ্গে আলোচনার উদ্যোগ নিয়েছে।
✍️ মন্তব্য লিখুন