
সজীব আল হোসাইন
ইতালির উত্তরাঞ্চলীয় শহর উদিনেতে দুই দিনব্যাপী ভ্রাম্যমাণ কনস্যুলার সেবা ক্যাম্পে ব্যাপক সাড়া দিয়েছেন স্থানীয় বাংলাদেশি প্রবাসীরা। মিলান কনস্যুলেট জেনারেলের উদ্যোগে আয়োজিত এ ক্যাম্পে উদিনে ও পার্শ্ববর্তী বিভিন্ন শহর থেকে আসা প্রবাসীরা স্বল্প সময়ে প্রয়োজনীয় কনস্যুলার সেবা গ্রহণ করেন।
ক্যাম্পে সেবা নিতে আসা প্রবাসীদের অধিকাংশই কনস্যুলেটের বর্তমান কার্যক্রমে সন্তোষ প্রকাশ করেন। তাদের মতে, আগের তুলনায় সেবা গ্রহণের প্রক্রিয়া অনেক সহজ ও গতিশীল হয়েছে। বিশেষ করে দূরবর্তী এলাকা থেকে মিলানে গিয়ে সেবা নেওয়ার পরিবর্তে নিজ শহরের কাছাকাছি ক্যাম্প আয়োজন করায় প্রবাসীদের সময়, অর্থ ও কর্মঘণ্টা—তিনটিই সাশ্রয় হচ্ছে।

সেবাগ্রহীতারা জানান, পাসপোর্ট নবায়ন, এনআইডি সংক্রান্ত বিভিন্ন জটিলতা, শ্রমবাজার ও আইনি বিষয়ে পরামর্শ এবং ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের সদস্যপদ নিবন্ধনের মতো গুরুত্বপূর্ণ সেবায় কর্মকর্তাদের সহযোগিতা ছিল উল্লেখযোগ্য।
প্রবাসীদের ভাষ্য, বর্তমান কনসাল জেনারেল মোহাম্মদ রফিকুল আলমের দিকনির্দেশনায় মিলান কনস্যুলেটের বিভিন্ন কার্যক্রমে ইতিবাচক পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে। কর্মকর্তাদের মধ্যে সেবাদানের মানসিকতা ও আন্তরিকতা বেড়েছে বলেও তারা মন্তব্য করেন।
ক্যাম্পে দায়িত্ব পালনকারী কনসাল ও দূতালয় প্রধান শরিফুল ইসলাম এবং শ্রম কনসাল মিস মেহরুবা ইসলামসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা প্রবাসীদের বিভিন্ন সমস্যা মনোযোগ দিয়ে শুনেছেন। জটিল বিষয়গুলো কীভাবে দ্রুত সমাধান করা যায়, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিক পরামর্শ দেওয়ার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানান সেবাগ্রহীতারা।

একাধিক প্রবাসী বলেন, আগে একটি সাধারণ কনস্যুলার কাজের জন্যও মিলান যেতে হতো এবং দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হতো। এতে যাতায়াত ব্যয়ের পাশাপাশি কর্মস্থল থেকে ছুটি নেওয়ার প্রয়োজন পড়ত। ভ্রাম্যমাণ ক্যাম্পের কারণে এখন সেই বিড়ম্বনা অনেকটাই কমে এসেছে।
স্থানীয় বাংলাদেশি কমিউনিটির নেতারা বলেন, প্রবাসীদের দোরগোড়ায় সরকারি সেবা পৌঁছে দেওয়ার এ উদ্যোগ অত্যন্ত প্রশংসনীয়। নিয়মিতভাবে বিভিন্ন অঞ্চলে এমন ক্যাম্প আয়োজন করা হলে ইতালির বিভিন্ন প্রান্তে বসবাসরত বাংলাদেশিরা আরও সহজে কনস্যুলার সেবা গ্রহণ করতে পারবেন।
তারা আরও বলেন, প্রবাসীবান্ধব মনোভাব নিয়ে কর্মকর্তারা কাজ করলে কনস্যুলেটের সঙ্গে প্রবাসী কমিউনিটির আস্থার সম্পর্ক আরও দৃঢ় হবে। উদিনের দুই দিনের ক্যাম্প সেই আস্থার একটি ইতিবাচক উদাহরণ হয়ে থাকবে বলে মনে করছেন স্থানীয় প্রবাসীরা।
✍️ মন্তব্য লিখুন