নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা
বাংলাদেশ থেকে মালয়েশিয়ায় আবারও বড় পরিসরে কর্মী পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আগামী **সেপ্টেম্বরের শেষ দিক থেকে পর্যায়ক্রমে দুই লাখ বাংলাদেশি কর্মী** মালয়েশিয়ায় যাওয়ার সুযোগ পাবেন। পুরো প্রক্রিয়াটি আগামী ছয় মাসের মধ্যে সম্পন্ন করার পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী **মীর শাহে আলম**।
রোববার (৩০ আগস্ট) সচিবালয়ে বাংলাদেশে নিযুক্ত মালয়েশিয়ার হাইকমিশনার **মোহাম্মদ সুহাদা ওসমান** স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী **ড. আবদুল মঈন খান**–এর সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান প্রতিমন্ত্রী।
মীর শাহে আলম বলেন, মালয়েশিয়ার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বাংলাদেশ থেকে জনশক্তি নেওয়ার প্রক্রিয়া সেপ্টেম্বরের শেষ নাগাদ শুরু হবে। এরপর পর্যায়ক্রমে ছয় মাসের মধ্যে দুই লাখ কর্মী পাঠানোর প্রক্রিয়া শেষ করা হবে।
### তালিকাভুক্ত কোম্পানির মাধ্যমে নিয়োগ
দুই লাখ কর্মী কীভাবে মালয়েশিয়ায় যাবেন—এ বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী জানান, দেশটির **তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর মাধ্যমে** এসব কর্মী নিয়োগ দেওয়া হবে। ফলে নিয়োগপ্রক্রিয়ায় সংশ্লিষ্ট কোম্পানি ও অনুমোদিত ব্যবস্থার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।
এর বাইরে আরও **১০ হাজার বাংলাদেশি কর্মীকে কোনো ধরনের অভিবাসন ব্যয় ছাড়াই**, অর্থাৎ ‘জিরো কস্ট’ ব্যবস্থায় মালয়েশিয়ায় নেওয়া হবে বলেও জানান প্রতিমন্ত্রী। এই কর্মী পাঠানোর প্রক্রিয়াও সেপ্টেম্বরের শেষ দিক থেকে পর্যায়ক্রমে শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।
### দীর্ঘদিন পর বড় পরিসরে সুযোগ
মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। দেশটিতে ইতিমধ্যে বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি কর্মী কাজ করছেন। নতুন করে দুই লাখ কর্মী পাঠানোর উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশের বৈদেশিক কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে এটি বড় সুযোগ তৈরি করতে পারে।
তবে কর্মী পাঠানোর ক্ষেত্রে **নিয়োগপ্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা, অভিবাসন ব্যয়, কর্মীদের বেতন ও কর্মপরিবেশ এবং নিয়োগদাতার দায়বদ্ধতা** নিশ্চিত করা জরুরি। অতীতে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে বাংলাদেশি কর্মী পাঠানো নিয়ে নানা জটিলতা ও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছিল। নতুন প্রক্রিয়ায় এসব বিষয় কীভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হবে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।
বৈঠকে শ্রমবাজারের পাশাপাশি বাংলাদেশে মালয়েশিয়ার বিনিয়োগ এবং বিভিন্ন খাতে দুই দেশের সহযোগিতা নিয়েও আলোচনা হয়েছে বলে জানা গেছে।
এখন সেপ্টেম্বরের শেষ নাগাদ কর্মী পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু হলে নিয়োগের শর্ত, সংশ্লিষ্ট কোম্পানির তালিকা, কর্মীদের অভিবাসন ব্যয় এবং আবেদনপ্রক্রিয়া সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশের অপেক্ষায় রয়েছেন আগ্রহী কর্মীরা।
✍️ মন্তব্য লিখুন