কূটনৈতিক প্রতিবেদক
জাতিসংঘের বৈশ্বিক জলবায়ু সম্মেলন **কপ-৩১**-এ অংশ নিতে আগামী নভেম্বরে তুরস্ক সফর করবেন প্রধানমন্ত্রী **তারেক রহমান**। সৌদি আরবের জেদ্দায় অনুষ্ঠিত ইসলামী সহযোগিতা সংস্থার (ওআইসি) পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের কাউন্সিলের বৈঠকের সাইডলাইনে তুরস্কের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী মুসা কুলাকলিকায়ার সঙ্গে বৈঠকে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির এ তথ্য জানিয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) জেদ্দায় অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকে বাংলাদেশ ও তুরস্কের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়। বিশেষ করে **বাণিজ্য, বিনিয়োগ, অর্থনীতি, কূটনীতি ও প্রতিরক্ষা সহযোগিতা** আরও জোরদার করার বিষয়ে দুই পক্ষের আগ্রহের কথা উঠে আসে।
### কপ-৩১ হবে আন্তালিয়ায়
এবারের জাতিসংঘ জলবায়ু সম্মেলন **কপ-৩১** তুরস্কের আন্তালিয়ায় অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। সম্মেলনের নির্ধারিত সময় **৯ থেকে ২০ নভেম্বর**। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলা, বৈশ্বিক উষ্ণতা কমানো এবং জলবায়ুজনিত ক্ষয়ক্ষতির জন্য অর্থায়নসহ গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে সেখানে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।
জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকা দেশগুলোর একটি বাংলাদেশ। ফলে কপ সম্মেলনে বাংলাদেশের জন্য **জলবায়ু অর্থায়ন, অভিযোজন এবং ক্ষয়ক্ষতির অর্থ** পাওয়ার বিষয়গুলো গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। প্রধানমন্ত্রী সম্মেলনে অংশ নিলে এসব বিষয়ে বাংলাদেশের অবস্থান আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তুলে ধরার সুযোগ তৈরি হবে।
### তুরস্কের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদারের বার্তা
প্রধানমন্ত্রীর সফরের ঘোষণা এমন সময়ে এল, যখন ঢাকা ও আঙ্কারা দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও বিস্তৃত করার বিষয়ে আগ্রহ দেখাচ্ছে। সাম্প্রতিক আলোচনায় অর্থনীতি ও বাণিজ্যের পাশাপাশি প্রতিরক্ষা ও অন্যান্য ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। দুই দেশের সম্পর্ককে আরও উচ্চপর্যায়ে নেওয়ার বিষয়ে বৈঠকে উভয় পক্ষই আগ্রহ প্রকাশ করেছে।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবিরের সঙ্গে তুরস্কের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী মুসা কুলাকলিকায়ার বৈঠকেই প্রধানমন্ত্রীর আসন্ন সফরের বিষয়টি জানানো হয়। তবে এখন পর্যন্ত প্রকাশিত তথ্যে **সফরের নির্দিষ্ট তারিখ ও প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গীদের বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হয়নি**।
প্রধানমন্ত্রীর এই সফর তাই শুধু কপ-৩১-এ বাংলাদেশের অংশগ্রহণের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না; এর পাশাপাশি তুরস্কের সঙ্গে **বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও কৌশলগত সহযোগিতা বাড়ানোর কূটনৈতিক সুযোগ** হিসেবেও সফরটি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
✍️ মন্তব্য লিখুন