
শেরপুর জেলা প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৮ আগস্ট ২০২৬
শেরপুরের ঝিনাইগাতীতে গভীর রাতে তিনটি ঘোড়া জবাই করে মাংস বিক্রির প্রস্তুতির অভিযোগ উঠেছে একটি চক্রের বিরুদ্ধে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলেও তার আগেই অভিযুক্ত ব্যক্তিরা জবাই করা ঘোড়ার মাংস ফেলে পালিয়ে যান। পরে ঘটনাস্থল থেকে মাংসের নমুনাসহ বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করেছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত একটার দিকে উপজেলার নলকুড়া ইউনিয়নের পশ্চিম ভালুকা এলাকার ফুলহারি নামের স্থানে এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, ফুলহারি এলাকায় একটি চক্র দীর্ঘদিন ধরে ঘোড়া জবাই করে মাংস বিক্রির সঙ্গে জড়িত বলে অভিযোগ রয়েছে। বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা ওই এলাকায় তিনটি জবাই করা ঘোড়ার মাংস কাটতে দেখতে পান। সেখানে আরও তিনটি ঘোড়া বাঁধা অবস্থায় ছিল বলেও তাঁরা জানান। স্থানীয় লোকজনের উপস্থিতি টের পেয়ে কারবারিরা দ্রুত সেখান থেকে পালিয়ে যান।
পরে স্থানীয় লোকজন বিষয়টি পুলিশকে জানান। খবর পেয়ে ঝিনাইগাতী থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। পুলিশ সেখানে ঘোড়ার মাংসের আলামত পায় এবং নমুনা সংগ্রহ করে। অবশিষ্ট মাংস মাটিচাপা দেওয়া হয়। তবে পুলিশ পৌঁছানোর সময় সেখানে কোনো জীবিত ঘোড়া পাওয়া যায়নি।
ঝিনাইগাতী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) কানাই চন্দ্র লাল চক্রবর্তী প্রথম আলোকে বলেন, খবর পেয়ে রাতেই ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়। সেখানে ঘোড়ার মাংসের আলামত পাওয়া গেছে এবং নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। পুলিশ পৌঁছানোর আগেই কারবারিরা পালিয়ে যান। ঘটনাটি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকেও জানানো হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, ঘোড়া জবাই ও মাংস বিক্রির সঙ্গে কারা জড়িত, তা শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে। তদন্তের ভিত্তিতে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্থানীয়দের অভিযোগের ভিত্তিতে একটি চক্রের নামও সামনে এসেছে। তবে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কাউকে অভিযুক্ত হিসেবে চূড়ান্তভাবে শনাক্ত করা হয়নি। পুলিশ ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে কাজ করছে।
ঘোড়ার মাংস বিক্রির অভিযোগ নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বিভিন্ন এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযান হয়েছে। ফলে ঝিনাইগাতীর ঘটনাটিও স্থানীয়ভাবে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করেছে।
✍️ মন্তব্য লিখুন