নিজস্ব প্রতিবেদক
নেপাল-তিব্বত সীমান্তে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যার ক্ষত না শুকাতেই নতুন করে বন্যার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। সীমান্তের কাছে ভূমিধসে সৃষ্ট একটি জলাধার বা ‘ব্যারিয়ার লেক’ উপচে পড়তে শুরু করায় আরও বড় ঢলের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। পরিস্থিতির অবনতি ঠেকাতে চীনা কর্তৃপক্ষ তিব্বতের সীমান্তবর্তী এলাকায় উদ্ধার ও অনুসন্ধান কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে। ([Reuters][1])
গত বুধবার নেপাল ও তিব্বতের সীমান্তবর্তী এলাকায় ভয়াবহ আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসে ব্যাপক প্রাণহানি ও ধ্বংসযজ্ঞের পর উদ্ধারকাজ চলছিল। কিন্তু নতুন করে তৈরি হওয়া জলাধারটির পানি বাড়তে থাকায় শুক্রবার পরিস্থিতি আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে। চীনা রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম সিসিটিভির তথ্য অনুযায়ী, জলাধারটি ভেঙে গেলে নতুন করে আকস্মিক বন্যা দেখা দিতে পারে—এমন আশঙ্কায় উদ্ধারকারী দল ও যানবাহনকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। ([The Guardian][2])
### কীভাবে তৈরি হলো নতুন ঝুঁকি
প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, সীমান্তের পার্বত্য এলাকায় বরফ, পাথর ও মাটির বিশাল ধস নেমে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ বাধাগ্রস্ত করে। এর ফলে সেখানে একটি অস্থায়ী জলাধার তৈরি হয়। কয়েক দিন ধরে এতে পানি জমতে থাকায় সেটি এখন উপচে পড়ছে। জলাধারটির পানি নেপালের ভোতে কোশি নদীর দিকে প্রবাহিত হওয়ায় নদীতীরবর্তী এলাকায় নতুন করে বন্যার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। ([Reuters][1])
রয়টার্স জানিয়েছে, জলাধারটিতে আনুমানিক ২৫ লাখ ঘনমিটার পানি জমেছে। পানি উপচে পড়ায় সীমান্তের দুই পাশেই সতর্কতা বাড়ানো হয়েছে এবং ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরে যেতে বলা হয়েছে। ([Reuters][1])
### ভয়াবহ ক্ষয়ক্ষতি
২৬ আগস্টের আকস্মিক বন্যায় নেপালের রাসুয়া ও নুওয়াকোটসহ বিস্তীর্ণ এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। সড়ক, সেতু, বিদ্যুৎকেন্দ্র ও বসতবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সীমান্তের গুরুত্বপূর্ণ রাসুওয়াগাধি-গিরং এলাকা বিশেষভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
শুক্রবার পর্যন্ত হতাহতের সংখ্যা নিয়ে বিভিন্ন সংস্থার হিসাবে কিছুটা পার্থক্য রয়েছে। রয়টার্সের সর্বশেষ প্রতিবেদনে নেপালে ৪৮৯ জন এবং তিব্বতে পাঁচজন নিহত হওয়ার কথা বলা হয়েছে; প্রায় এক হাজার মানুষ তখনো নিখোঁজ ছিলেন।
নিখোঁজ ব্যক্তিদের মধ্যে বিপুলসংখ্যক বিদেশি নাগরিক রয়েছেন। তাঁদের অনেকেই কৈলাস-মানসসরোবর তীর্থযাত্রায় ছিলেন। ফলে দুর্যোগটির প্রভাব নেপাল ও চীনের গণ্ডি ছাড়িয়ে আন্তর্জাতিক উদ্বেগ তৈরি করেছে।
### উদ্ধারকাজে বড় বাধা
বন্যার পর নেপাল ও চীনের উদ্ধারকারী দল দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় অনুসন্ধান চালিয়ে আসছিল। হেলিকপ্টার, নৌযান, ড্রোন ও স্থলপথে উদ্ধারকাজ পরিচালনা করা হচ্ছিল। কিন্তু নতুন করে জলাধার ভেঙে পড়ার আশঙ্কায় তিব্বতের কিছু এলাকায় উদ্ধারকর্মীদের নিরাপদ দূরত্বে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
নেপালের ভোতে কোশি ও ত্রিশূলী নদীর তীরবর্তী এলাকাতেও নতুন বন্যার সতর্কতা জারি করা হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের নদী ও ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ি এলাকা থেকে দূরে থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।
### আবহাওয়া নিয়ে উদ্বেগ
দুর্যোগের পর নতুন করে বৃষ্টি ও পাহাড়ি এলাকায় ভূমিধসের আশঙ্কা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হিমালয় অঞ্চলে হিমবাহ ও পাহাড়ের অস্থিতিশীলতা বাড়ায় এ ধরনের আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসের ঝুঁকিও বাড়ছে।
এ অবস্থায় উদ্ধার তৎপরতার পাশাপাশি জলাধারটির পানির স্তর ও পার্শ্ববর্তী নদীগুলোর প্রবাহ নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। নতুন করে বড় ধরনের ঢল নামার আশঙ্কা কেটে না যাওয়া পর্যন্ত সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতে সতর্কতা অব্যাহত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
✍️ মন্তব্য লিখুন