আন্তর্জাতিক ডেস্ক
যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটস অঙ্গরাজ্যের অ্যাক্টনে নিজ বাড়িতে মা ও ছোট ভাইকে হত্যার অভিযোগে ভারতীয় বংশোদ্ভূত ১৭ বছর বয়সী এক কিশোরকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। অভিযুক্তের নাম **অর্জুন অরবিন্দ**। তাঁর বিরুদ্ধে দুটি হত্যার অভিযোগসহ আরও কয়েকটি অভিযোগ আনা হয়েছে।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার রাতে অ্যাক্টনে নিজ বাড়িতে ১৪ বছর বয়সী ছোট ভাই ও মায়ের মরদেহ উদ্ধারের পর ঘটনাটি সামনে আসে। এরপর শুরু হয় ব্যাপক তল্লাশি। বুধবার ভোরে পাশের ওয়েল্যান্ড শহরের একটি পার্কিং লটে একটি গাড়ির ভেতর থেকে অর্জুনকে আটক করা হয়। তাঁকে আটকের সময় কোনো সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেনি।
তদন্তকারীরা বলছেন, হত্যাকাণ্ডের আগে অর্জুন ইন্টারনেট ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক চ্যাটবট **চ্যাটজিপিটিতে** পরিবারকে হত্যার তাত্ত্বিক ধারণা ও কল্পকাহিনি নিয়ে অনুসন্ধান করেছিলেন বলে তথ্য পাওয়া গেছে। তবে এসব অনলাইন কথোপকথন হত্যাকাণ্ডে সরাসরি ভূমিকা রেখেছিল কি না, তা এখনো তদন্তাধীন।
অভিযুক্তের বিরুদ্ধে দুটি খুনের অভিযোগের পাশাপাশি পরিবারের সদস্যের ওপর হামলা ও মারধর এবং অনুমতি ছাড়া মোটরগাড়ি নিয়ে যাওয়ার অভিযোগও আনা হয়েছে। মামলার তদন্তে ফরেনসিক আলামত, পারিপার্শ্বিক সাক্ষ্য এবং অভিযুক্তের বক্তব্যকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
মামলাটিতে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় এসেছে কিশোরটির চ্যাটজিপিটি ব্যবহারের বিষয়টি। তদন্তকারীরা তাঁর অনলাইন কার্যক্রম খতিয়ে দেখছেন। তবে কোনো ব্যক্তি এ ধরনের প্রযুক্তিতে কোনো বিষয় অনুসন্ধান করলেই সেই অনুসন্ধান হত্যাকাণ্ডের কারণ বা সরাসরি প্রমাণ হয়ে যায় না। এ ঘটনায় চ্যাটজিপিটির কথোপকথনের প্রকৃতি, সময় এবং হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে এর সম্পর্ক তদন্তের মাধ্যমে নির্ধারণ করতে হবে।
### তদন্ত এখন যে পর্যায়ে
পুলিশ অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করার পর হত্যাকাণ্ডের উদ্দেশ্য ও ঘটনার পূর্ণাঙ্গ পটভূমি অনুসন্ধান করছে। একই সঙ্গে পরিবারের ভেতরের সম্পর্ক, অভিযুক্তের সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ড এবং হত্যার আগে তাঁর অনলাইন অনুসন্ধানের বিষয়গুলোও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
তবে এখন পর্যন্ত প্রকাশিত নির্ভরযোগ্য প্রতিবেদনে **সম্পত্তির বিরোধকে হত্যার নিশ্চিত কারণ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করা হয়নি**। একইভাবে অভিযুক্তকে কোনো **সরকারি কর্মকর্তা** হিসেবেও শনাক্ত করার তথ্য পাওয়া যায়নি। তাই এ দুটি বিষয়কে নিশ্চিত তথ্য হিসেবে প্রতিবেদনে যুক্ত করা ঠিক হবে না।
**সূত্র:** এনডিটিভি ও প্রথম আলোসহ প্রকাশিত প্রতিবেদন।
✍️ মন্তব্য লিখুন