জাবি প্রতিনিধি
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর হল-সংলগ্ন খেলার মাঠ সংস্কারের কাজ প্রশাসনের সাময়িক স্থগিতাদেশের পরও চলতে দেখা গেছে। হল সংসদের সহসভাপতি (ভিপি) অমিত বণিক ও সাধারণ সম্পাদক (জিএস) মাহমুদুল হাসান ইমনের নির্দেশে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজ চালিয়ে যাচ্ছে বলে জানা গেছে।
সরকারি ক্রয় বিধিমালা (পিপিআর) লঙ্ঘন এবং দরপত্র ছাড়াই লাইসেন্সবিহীন ঠিকাদারকে কাজ দেওয়ার অভিযোগ ওঠার পর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন মাঠ সংস্কারের কাজ সাময়িকভাবে স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নেয়। একই সঙ্গে অভিযোগ তদন্তে চার সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে ১৫ কর্মদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।
তবে প্রশাসনের এই সিদ্ধান্তের পরও শুক্রবার দুপুরে সরেজমিনে মাঠে সংস্কারকাজ চলতে দেখা যায়। একটি বুলডোজার দিয়ে মাঠের মাটি সমান করা হচ্ছিল। পাশাপাশি ট্রাক্টরে করে মাটি এনে মাঠে ফেলা এবং শ্রমিকদের কোদাল ও ঝুড়ি দিয়ে মাটি সরানোর কাজ করতে দেখা যায়।
বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের নোটিশ পাওয়ার পর তিনি ঠিকাদারকে কাজ বন্ধ করতে এবং মাঠ থেকে সরঞ্জাম সরিয়ে নিতে নির্দেশ দিয়েছিলেন। এরপরও কীভাবে কাজ চলছে, সে বিষয়ে তিনি অবগত নন বলে জানান।
তবে হল সংসদের ভিপি অমিত বণিক মাঠ সংস্কারের কাজ চালিয়ে যাওয়ার পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। তাঁর ভাষ্য, হলের শিক্ষার্থীরা দীর্ঘদিন ধরে মাঠ সংস্কারের দাবি জানিয়ে আসছেন এবং শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশার কারণেই কাজ চালু রাখা হয়েছে। তিনি মনে করেন, বৈধ কারণ ছাড়া মাঠ সংস্কারের কাজ বন্ধ রাখা উচিত নয়।
এ বিষয়ে হল সংসদের জিএস মাহমুদুল হাসান ইমনের বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া যায় বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রশাসনের নির্দেশের পরও কাজ চলার বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মোহাম্মদ কামরুল আহসান বলেন, তদন্ত চলাকালে মাঠ সংস্কারের কাজ বন্ধ থাকবে। তদন্ত শেষে দ্রুত কাজটি সম্পন্ন করার উদ্যোগ নেওয়া হবে এবং অনিয়মের সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করে জবাবদিহির আওতায় আনা হবে।
বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর হলের অসমাপ্ত খেলার মাঠ সংস্কারের জন্য প্রায় **৭ লাখ ৩১ হাজার টাকা** বাজেট ধরা হয়েছে। তবে সংস্কারকাজে অনিয়মের অভিযোগ এবং প্রশাসনের স্থগিতাদেশের পরও কাজ চালিয়ে যাওয়ার ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে।
মাঠ সংস্কার নিয়ে একদিকে শিক্ষার্থীদের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা, অন্যদিকে সরকারি বিধি অনুসরণ ও আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ—এই দুই বিষয়কে সামনে রেখে এখন তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের দিকেই তাকিয়ে আছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্টরা।
✍️ মন্তব্য লিখুন