নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা
লুট হওয়া ও অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে পুলিশের বিশেষ একটি ইউনিট গঠন করা হয়েছে। একই সঙ্গে অস্ত্র উদ্ধারে তথ্য দিয়ে সহায়তা করলে তথ্যদাতাকে ১০ হাজার টাকা থেকে সর্বোচ্চ ২ লাখ টাকা পর্যন্ত পুরস্কার দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমদ।
শনিবার সকালে রাজধানীর রাজারবাগ পুলিশ লাইন অডিটোরিয়ামে বাংলাদেশ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে গত তিন মাসের অপরাধ পরিস্থিতি নিয়ে ত্রৈমাসিক পর্যালোচনা সভা শেষে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান তিনি।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, লুট হওয়া অস্ত্র পুনরুদ্ধার এবং দেশের বিভিন্ন স্থানে থাকা অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে বিশেষ ইউনিটটি ইতিমধ্যে কাজ শুরু করেছে। বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার তথ্য ও সহায়তা নিয়ে ইউনিটটির কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।
অস্ত্র উদ্ধারে জনসাধারণের সহযোগিতা বাড়াতেই আর্থিক পুরস্কারের ব্যবস্থা করা হয়েছে বলে জানান তিনি। ভারী অস্ত্র উদ্ধারে তথ্য দিয়ে সহায়তা করলে সর্বোচ্চ ২ লাখ টাকা পর্যন্ত পুরস্কার দেওয়া হবে। অন্যদিকে পিস্তল, রিভলভার ও শটগানের মতো অস্ত্র উদ্ধারে তথ্য দিলে সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকা পুরস্কারের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া লুট হওয়া অন্যান্য অস্ত্র ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধারে সহায়তার ক্ষেত্রেও পরিস্থিতি বিবেচনায় পুরস্কার দেওয়া হবে বলে জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
সালাউদ্দিন আহমদ বলেন, সারা দেশে অবৈধ ও লুট হওয়া অস্ত্র উদ্ধারে অভিযান চলমান রয়েছে। একই সঙ্গে মাদক, চোরাচালান, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হবে। এ ক্ষেত্রে গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর তথ্যকে গুরুত্ব দিয়ে কার্যক্রম পরিচালনার কথা জানান তিনি।
ত্রৈমাসিক অপরাধ পর্যালোচনা সভায় দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, অপরাধ নিয়ন্ত্রণ এবং পুলিশ বাহিনীর কার্যক্রম নিয়ে আলোচনা হয়। সভায় বিভিন্ন পর্যায়ের পুলিশ কর্মকর্তারা কর্মক্ষেত্রে প্রযুক্তিগত সহায়তা বৃদ্ধি ও প্রয়োজনীয় সক্ষমতা বাড়ানোর বিষয়েও মতামত তুলে ধরেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, পুলিশকে আরও জনবান্ধব ও জনগণের প্রত্যাশার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ বাহিনীতে পরিণত করতে সরকার কাজ করছে। ধীরে ধীরে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির আরও উন্নতি হবে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন।
অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে বিশেষ ইউনিট গঠন এবং তথ্যদাতাদের জন্য পুরস্কার ঘোষণাকে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সরকারের নতুন উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, জনসাধারণের কাছ থেকে নির্ভরযোগ্য তথ্য পাওয়া গেলে লুট হওয়া ও অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারের কার্যক্রম আরও কার্যকর হতে পারে।
✍️ মন্তব্য লিখুন