ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবায় পুলিশের ধাওয়ার মুখে গাঁজাবাহী একটি মাইক্রোবাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশের পুকুরে পড়ে গেছে। পরে ক্রেন দিয়ে মাইক্রোবাসটি উদ্ধারের সময় পানিতে ভাসমান অবস্থায় ৯ বস্তা গাঁজা উদ্ধার করেছে পুলিশ। তবে মাইক্রোবাসে থাকা চালক ও মাদক পাচারকারীরা সাঁতরে পালিয়ে যাওয়ায় কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি।
শুক্রবার (২৮ আগস্ট) সকালে কসবা উপজেলার বিনাউটি ইউনিয়নের খিদিরপুর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
পুলিশ জানায়, বিপুল পরিমাণ গাঁজা পাচারের গোপন তথ্যের ভিত্তিতে কসবা থানা পুলিশের একটি দল সৈয়দাবাদ-নয়নপুর সড়কে অভিযান চালায়। এ সময় একটি কালো রঙের মাইক্রোবাসকে থামার সংকেত দেওয়া হলে সেটি না থেমে দ্রুত পালানোর চেষ্টা করে। এরপর পুলিশ মাইক্রোবাসটিকে ধাওয়া করে।
একপর্যায়ে মাইক্রোবাসটি কসবা-সৈয়দাবাদ সড়ক থেকে সংযুক্ত আন্দিরপাড়-মনকাশাইর সড়কে ঢুকে পড়ে। খিদিরপুর গ্রাম অতিক্রম করার সময় চালক নিয়ন্ত্রণ হারালে গাড়িটি সড়কের পাশের একটি পুকুরে পড়ে যায়।
পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর পর মাইক্রোবাসে থাকা ব্যক্তিরা সাঁতরে পুকুর থেকে উঠে পালিয়ে যান বলে জানিয়েছে পুলিশ। গাড়িটি পানিতে পড়ার পর এর ভেতরে থাকা গাঁজার বস্তাগুলো ভেসে উঠতে থাকে। পরে ক্রেন এনে পুকুর থেকে মাইক্রোবাসটি উদ্ধার করা হয় এবং ভাসমান অবস্থায় থাকা ৯ বস্তা গাঁজা জব্দ করা হয়।
কসবা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আলী মোহাম্মদ রাশেদ বলেন, গাঁজা পাচারের গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশের একটি দল অভিযান চালিয়েছিল। পুলিশের ধাওয়া খেয়ে পালানোর সময় মাইক্রোবাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পুকুরে পড়ে যায়। পরে গাড়ি ও গাঁজা উদ্ধার করা হয়েছে।
উদ্ধার হওয়া ৯টি বস্তায় মোট কী পরিমাণ গাঁজা ছিল, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত করা যায়নি। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত ও আটকের চেষ্টা চলছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়াও চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
সীমান্তবর্তী ব্রাহ্মণবাড়িয়া অঞ্চলে মাদক পাচার ঠেকাতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এ ঘটনায় জড়িত পাচারকারীদের আটক করা গেলে গাঁজা পাচারের সঙ্গে জড়িত চক্র সম্পর্কে আরও তথ্য পাওয়া যেতে পারে।
✍️ মন্তব্য লিখুন