নিজস্ব প্রতিবেদক
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতা ও সাবেক সংসদ সদস্য মেজর (অব.) মোহাম্মদ আখতারুজ্জামান রঞ্জনকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি)। শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর ক্যান্টনমেন্টের ডিওএইচএস এলাকার বাসা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি) মো. শফিকুল ইসলাম।
পুলিশ জানিয়েছে, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে লাগেজ ও ট্রলির সংকটকে কেন্দ্র করে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি, সরকারি কাজে বাধা এবং দায়িত্বপালনরত এক নিরাপত্তা কর্মকর্তাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার অভিযোগে আখতারুজ্জামানের বিরুদ্ধে বিমানবন্দর থানায় মামলা করা হয়। ওই মামলাতেই তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার সকালে সৌদি আরবের মদিনা থেকে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের বিজি-৩৩৮ ফ্লাইটটি ঢাকায় আসে। যাত্রীদের লাগেজ সংগ্রহের সময় ৮ নম্বর বেল্ট এলাকায় ট্রলির সংকট দেখা দেয়। এতে লাগেজ পেতে দেরি হওয়ায় কয়েকজন যাত্রীর মধ্যে ক্ষোভ ও উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।
পুলিশের ভাষ্য, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন এস এম রাগীব সামাদ ঘটনাস্থলে গেলে আখতারুজ্জামান তাঁর দিকে আক্রমণাত্মকভাবে এগিয়ে যান এবং হুমকি দেন। এ সময় বিমান ও পর্যটনমন্ত্রী সম্পর্কেও তিনি অশালীন মন্তব্য করেন বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে।
মামলার বিবরণে আরও বলা হয়েছে, আখতারুজ্জামানের সঙ্গে থাকা প্রটোকল সহকারীরা বিমানবন্দরের সংরক্ষিত কেপিআই এলাকায় মুঠোফোনে ভিডিও ধারণ করছিলেন। নিরাপত্তা সুপারভাইজার ওয়ারেন্ট অফিসার মোহাম্মদ কামাল উদ্দিন তাঁদের ভিডিও ধারণে নিষেধ করলে আখতারুজ্জামান ক্ষুব্ধ হন এবং ওই কর্মকর্তাকে গালিগালাজ ও শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। সাধারণ যাত্রীদের সংগ্রহ করা জমজমের পানির বোতলের ক্ষতিসাধন এবং বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের এক প্রতিনিধির সঙ্গে মারমুখী আচরণের অভিযোগও মামলায় রয়েছে।
এ ঘটনায় বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের নিরাপত্তা কর্মকর্তা শাহরিয়ার আলম সজিব বাদী হয়ে শুক্রবার ভোরে বিমানবন্দর থানায় মামলা করেন। মামলায় সরকারি কাজে বাধা, আঘাত, অপরাধমূলক বলপ্রয়োগ, ইচ্ছাকৃত অপমান ও ভয়ভীতি প্রদর্শনসহ বিভিন্ন অভিযোগ আনা হয়েছে।
তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ, প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য ও অন্যান্য আলামত সংগ্রহ করে ঘটনার তদন্ত করা হবে। তদন্তের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে আখতারুজ্জামানের গ্রেপ্তারের প্রতিবাদ জানিয়েছে জামায়াতে ইসলামী। দলটির সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার এক বিবৃতিতে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়ে তাঁর মুক্তির আহ্বান জানিয়েছেন।
✍️ মন্তব্য লিখুন