ইতালির ঐতিহ্যবাহী শহর ভেনিস–এর প্রাণকেন্দ্র ইয়েজোলোতে প্রথমবারের মতো আয়োজন করা হলো ব্যতিক্রমী লোকজ উৎসব “পিঠা উৎসব ইয়েজোলো”। বিশ্ব ভালোবাসা দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এই মেলা প্রবাসে থেকেও হৃদয়ে লালিত বাংলার শেকড়, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের এক উজ্জ্বল উপস্থাপনা হয়ে ওঠে। ইউরোপের বুকে যেন এক টুকরো গ্রামবাংলার আবহ ছড়িয়ে পড়ে পুরো আয়োজনে।

মেলার উদ্যোক্তা সাইফুদ্দিন খালেদ সম্পাদক বাংলার প্রভাত নিউজ পোর্টাল, ইয়েজোলো ,সার্বিক সহযোগিতায় ছিল বাংলা প্রেসক্লাব ভেনিস। আয়োজকদের ভাষ্য, এটি কেবল একটি মেলা নয়; প্রবাসে বেড়ে ওঠা নতুন প্রজন্মের কাছে বাংলার লোকজ সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও স্বাদের জীবন্ত পরিচয় তুলে ধরার এক আন্তরিক প্রয়াস।

নারীদের প্রাণবন্ত অংশগ্রহণ
মেলার অন্যতম আকর্ষণ ছিল নারীদের স্বতঃস্ফূর্ত ও নান্দনিক অংশগ্রহণ। প্রায় ৩০ জন রমণি একই রঙের শাড়িতে সজ্জিত হয়ে অংশ নেন, যা পুরো আয়োজনকে দেয় এক দৃষ্টিনন্দন ঐক্যের বার্তা। নারীদের খোঁপায় ও হাতে ছিল তাজা ফুল—যা বিশ্ব ভালোবাসা দিবসের আবহকে আরও গভীর করে তোলে। তাদের প্রাণবন্ত উপস্থিতি ও আন্তরিক পরিবেশনায় মেলা হয়ে ওঠে আরও রঙিন ও প্রাণচঞ্চল।

বাহারি পিঠার সমাহার
মেলায় ছিল ১০টি স্টল, যেখানে বাহারি রকমের ঐতিহ্যবাহী পিঠার সমাহার দেখা যায়। চিতই, ভাপা, পাটিসাপটা, দুধপুলি, পাকনসহ নানা স্বাদের পিঠা দর্শনার্থীদের আকৃষ্ট করে। শুধু পিঠাই নয়, স্থান পেয়েছে বাংলাদেশের জনপ্রিয় মুখরোচক খাবার—পুরকায়স্থ ছটপটি, সিঙ্গারা ও চমুচা। প্রবাসে বসে এমন আয়োজন অনেকের জন্যই ছিল নস্টালজিয়ায় ভরা এক অনুভূতি।

অতিথিদের উপস্থিতি
অনুষ্ঠান পরিচালনায় ছিলেন মামুন ভুঁইয়া ও খলিলুর রহমান বিপ্লব। সার্বিক সহযোগিতায় ছিলেন বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ওমর ফারুক, ইয়েজোলোর ব্যবসায়ী সমাজকর্মী সাইফ উল্লাহ জাহাঙ্গীর, সংগঠক ও সমাজকর্মী ছালাউদ্দিন ফারুক এবং সাংস্কৃতিক সংগঠক বেগমগঞ্জের জহিরুল ইসলাম শাওন।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জনপ্রিয় কনটেন্ট ক্রিয়েটর জাবেদ একরাম, বাংলা প্রেস ক্লাব ভেনিসের সাধারণ সম্পাদক জনাব নাজমুল হক এবং Iসাংগঠনিক সম্পাদক সজীবুল হাসান।
এছাড়া উপস্থিত ছিলেন নিজাম উদ্দিন কচি ভাইস প্রেসিডেন্ট, হৃদয়ে বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন ইয়েজোলো,কামাল হোসেন (উপদেষ্টা, হৃদয়ে বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন)সহ কমিউনিটির গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
অনুষ্ঠান সঞ্চালনায় ছিলেন বাংলাদেশ টেলিভিশনের আবৃত্তিশিল্পী ফয়সুল ইসলাম রুপম, যিনি দক্ষ উপস্থাপনায় পুরো আয়োজনকে প্রাণবন্ত করে তোলেন।
প্রবাসে ভালোবাসা ও সংস্কৃতির মিলনমেলা
বিশ্ব ভালোবাসা দিবসে আয়োজিত এই “পিঠা মেলা ইয়েজোলো” ছিল ভালোবাসা, ঐক্য ও সংস্কৃতির এক অনন্য মিলনমেলা। প্রবাসের মাটিতে এমন উদ্যোগ শুধু আনন্দই নয়, বরং নতুন প্রজন্মের মাঝে বাংলা সংস্কৃতির শিকড়কে দৃঢ় করার এক প্রশংসনীয় পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। আয়োজকরা ভবিষ্যতেও এমন আয়োজন নিয়মিত করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন।
✍️ মন্তব্য লিখুন