অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশিত: ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ আসনে একাধিক প্রভাবশালী ও পরিচিত রাজনৈতিক নেতার পরাজয় জাতীয় রাজনীতিতে বড় ধরনের আলোচনার জন্ম দিয়েছে। দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, সাংগঠনিক প্রভাব এবং শক্তিশালী অবস্থান থাকা সত্ত্বেও অনেক হেভিওয়েট প্রার্থী ভোটারদের রায়ে পরাজিত হয়েছেন, যা এবারের নির্বাচনে পরিবর্তনের বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
খুলনা অঞ্চলে সবচেয়ে আলোচিত ফলাফলের একটি এসেছে খুলনা-৫ আসনে। মিয়া গোলাম পরওয়ার, যিনি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামি-র সেক্রেটারি জেনারেল, তিনি অল্প ভোটের ব্যবধানে পরাজিত হয়েছেন। এ আসনে জয় পেয়েছেন মোহাম্মদ আলি আসগার, যিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-এর প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।
এছাড়া খুলনা-২ আসনে সাবেক বিএনপি নেতা নজরুল ইসলাম মঞ্জু এবং খুলনা-১ আসনে জামায়াতের কৃষ্ণ নন্দী জয়ী হতে পারেননি।
দক্ষিণাঞ্চল ও উপকূলীয় এলাকাতেও কয়েকজন পরিচিত প্রার্থী হেরে গেছেন। কক্সবাজার-২ আসনে হামিদুর রহমান আযাদ, সুনামগঞ্জ-২ আসনে শিশির মনির এবং বরিশাল-৫ ও বরিশাল-৬ আসনে ইসলামী আন্দোলনের শীর্ষ নেতা মুফতি সৈয়দ মোহাম্মদ ফয়জুল করীম পরাজিত হয়েছেন।
রাজধানীসহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ আসনেও চমক দেখা গেছে। পঞ্চগড়-1 আসনে সারজিস আলম, ঢাকা-৮ ও ঢাকা-৯ আসনে যথাক্রমে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ও তাসনিম জারা, ঢাকা-১৩ আসনে মামুনুল হক, ঝিনাইদহ-৪ আসনে রাশেদ খান এবং ঢাকা-১৬ আসনে আমিনুল হক প্রতিদ্বন্দ্বীদের কাছে হেরে যান।
উত্তরাঞ্চলেও বড় পরিবর্তন লক্ষ্য করা গেছে। রংপুর-৩ আসনে জিএম কাদের, যিনি জাতীয় পার্টি-র চেয়ারম্যান, তিনি তৃতীয় অবস্থানে থাকেন এবং বিজয়ী হন জামায়াতের মাহবুবুর রহমান।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসনে হারুনুর রশীদ হারুন-কে পরাজিত করে জয়ী হয়েছেন নুরুল ইসলাম বুলবুল। অন্যদিকে নরসিংদী-২ আসনে গোলাম সারোয়ার তুষার-ও পরাজয়ের মুখ দেখেন।
বিশ্লেষকদের মতে, এবারের নির্বাচনে হেভিওয়েট প্রার্থীদের পরাজয় এবং তুলনামূলক নতুন বা কম আলোচিত প্রার্থীদের বিজয় স্পষ্টভাবে ইঙ্গিত দিচ্ছে যে ভোটাররা পরিবর্তনের পক্ষে রায় দিয়েছেন। ফলে দেশের রাজনৈতিক মানচিত্রে নতুন সমীকরণ তৈরি হয়েছে এবং ভবিষ্যৎ রাজনীতিতে এর প্রভাব সুদূরপ্রসারী হতে পারে।

✍️ মন্তব্য লিখুন