ইয়ানূর রহমান : বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেন, নারীরা পোশাক শিল্পে কাজ করে দেশের অর্থনীতি সচল রেখেছেন । জামায়াত নেতাদের মধ্যে যারা নারীদের অসম্মান করে, যারা মিথ্যার আশ্রয় নেয়, তারা কখনো দেশপ্রেমিক বা জনদরদি হতে পারেন না। আর তারাই নির্বাচনকে বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা করছে। সোমবার দুপুর ৩টার দিকে যশোরে উপশহর ডিগ্রি কলেজ মাঠে অনুষ্ঠিত বিএনপির নির্বাচনী জনসভায় তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি আরো বলেন, বাংলাদেশের লক্ষাধিক নারী পোশাক শিল্পে কাজ করে দেশের অর্থনীতি সচল রেখেছেন। নিম্ন-মধ্যবিত্ত ও মধ্যবিত্ত পরিবারের নারীরা দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির কারণে সংসার চালাতে স্বামীর পাশাপাশি কাজ করছেন। অথচ আজ তাদেরই অপমান করছে এক দল।
নির্বাচনকে সামনে রেখে ঐ রাজনৈতিক দলের নারীবিদ্বেষী বক্তব্যের তীব্র সমালোচনা করে তিনি আরো বলেন, একটি দল প্রকাশ্যে নারীর নেতৃত্বে বিশ্বাস করে না বলে ঘোষণা দিয়েছে। সম্প্রতি ওই দলের এক নেতা কর্মসংস্থানে নিয়োজিত মা-বোনদের উদ্দেশে এমন কুরুচিপূর্ণ শব্দ ব্যবহার করেছেন, যা বলতেও লজ্জা লাগে। এটি শুধু নারীদের নয়, পুরো দেশের জন্যই কলঙ্ক।
তারেক রহমান আরও বলেন, যারা ইসলাম কায়েমের কথা বলে, তারা ভুলে যাচ্ছে নবী করিম (সা.)-এর সহধর্মিণী হযরত বিবি খাদিজা (রা.) ছিলেন একজন সফল ব্যবসায়ী। তাহলে নারীদের কর্মজীবনকে অপমান করার অধিকার কারও নেই।
তিনি অভিযোগ করেন, ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়ে ওই রাজনৈতিক দল আইডি হ্যাক হওয়ার অজুহাত দিয়েছে। কিন্তু বিশেষজ্ঞরা পরিষ্কারভাবে জানিয়েছেন, এভাবে আইডি হ্যাক হওয়ার কোনো সুযোগ নেই। নির্বাচনের আগে জনগণের সামনে মিথ্যাচার করে তারা নিজেদের আসল চরিত্র প্রকাশ করছে। আর তারায় বিকাশ নাম্বার চাচ্ছেন ও ভোটার আইডিকার্ড নম্বার চাচ্ছেন।
বিএনপি সরকার গঠন করলে প্রতিটি পরিবারে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ পৌঁছে দেওয়ার ঘোষণা দিয়ে তারেক রহমান বলেন, এই কার্ডের মাধ্যমে নারীদের ধীরে ধীরে স্বাবলম্বী করে তোলা হবে, যাতে তারা কারও মুখাপেক্ষী হয়ে না থাকে। একই সঙ্গে কৃষকদের জন্য কৃষি কার্ডের মাধ্যমে সুবিধা প্রদানের প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।
তরুণ সমাজের জন্য আইটি পার্ক ও আধুনিক সুযোগ-সুবিধা গড়ে তোলার অঙ্গীকার করে তিনি বলেন, কৃষকদের জন্য কৃষি কার্ড চালু করা হবে। এই কার্ডের মাধ্যমে ঋণ, সার, বীজ ও কীটনাশক সহজে পাওয়া যাবে। পাশাপাশি বর্তমানে যেসব কৃষকের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ রয়েছে, তা সুদসহ মওকুফ করা হবে। এছাড়া যশোরের ফুল চাষকে বৈদেশিক শিল্প হিসেবে গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি। একই সঙ্গে দক্ষিণ অঞ্চলের বন্ধ চিনিকলগুলো সচল করে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করার আশ্বাস দেন। এছাড়া ইমাম, মোয়াজ্জিন এবং ভিন্ন ধর্মের সম্মানিত ব্যক্তিদের জন্য সম্মানীর ব্যবস্থা করার ঘোষণাও দেন তিনি।
এ সময় তিনি যশোরসহ আশপাশের সাতটি জেলার ধানেরশীষের ২২ জন প্রার্থীকে পরিচয় করিয়ে দেন। তাদের হাতে ধানের শীষ প্রতীক তুলে দিয়ে বিএনপির পক্ষে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ১২ তারিখ পর্যন্ত আপনারা এই ২২ জনের জন্য কাজ করুন। ১২ তারিখের পর তারা আপনাদের জন্য কাজ করবেন। আপনাদের সমস্যা হলে তারা আপনাদের পাশে দাঁড়াবেন।
সমাবেশ পরিচালনা করেন জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন খোকন এবং সভাপতিত্ব করেন জেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট সৈয়দ সাবেরুল হক সাবু।
অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যাপক নার্গিস বেগম, ভাইস চেয়ারম্যান নিতাই রায় চৌধুরী, খুলনা বিভাগীয় ভারপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক অনিন্দ্য ইসলাম অমিতসহ কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।
✍️ মন্তব্য লিখুন