বিপি রিপোর্ট
প্রকাশ: ২১ মে ২০২৬
রাজধানীর পল্লবীতে দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী রামিসা আক্তারের নির্মম হত্যাকাণ্ডে শোক, ক্ষোভ ও প্রতিবাদে উত্তাল হয়ে উঠেছে দেশ। সাত বছরের এই শিশুকে হারিয়ে শুধু পরিবারই নয়, শোকাহত তার সহপাঠী, শিক্ষক এবং স্থানীয় বাসিন্দারাও। বৃহস্পতিবার (২১ মে) মিরপুরের পপুলার মডেল স্কুলে গিয়ে মেয়ের সহপাঠীদের জড়িয়ে ধরে কান্নায় ভেঙে পড়েন রামিসার বাবা আবদুল হান্নান মোল্লা। হৃদয়বিদারক সেই দৃশ্য উপস্থিত সবার চোখে জল এনে দেয়।
স্কুল সূত্রে জানা যায়, সকালে রামিসার বাবা মেয়ের শ্রেণিকক্ষে প্রবেশ করলে সেখানে থাকা শিক্ষার্থীরা তাকে ঘিরে ধরে। মেয়ের খালি বেঞ্চ আর সহপাঠীদের মুখ দেখে নিজেকে আর সামলাতে পারেননি তিনি। একপর্যায়ে শিশুদের জড়িয়ে ধরে অঝোরে কাঁদতে থাকেন। বাবার কান্নায় আবেগাপ্লুত হয়ে পড়ে সহপাঠীরাও। পুরো শ্রেণিকক্ষে নেমে আসে শোকের ছায়া।
রামিসার সহপাঠীরা কান্নাজড়িত কণ্ঠে জানায়, “রামিসাকে কখনো ভোলা যাবে না। যারা এমন নিষ্ঠুর কাজ করেছে, তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে।” শিক্ষকরাও বলেন, একটি নিষ্পাপ শিশুর এমন পরিণতি কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।
এদিকে রামিসাকে ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনায় দেশজুড়ে তীব্র ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। রাজধানীর পল্লবীতে বৃহস্পতিবার সকালে রামিসার বাসার সামনে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করেন স্থানীয় বাসিন্দা, সহপাঠী ও বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের সদস্যরা। তারা দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে মামলার কার্যক্রম সম্পন্ন করে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিতের দাবি জানান।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন ভিডিওতে দেখা যায়, ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী পল্লবী থানার সামনে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ করেন। একপর্যায়ে কয়েকজন থানার ভেতরেও প্রবেশের চেষ্টা করেন। বিক্ষোভকারীরা প্রধান আসামি সোহেল রানার দ্রুত বিচার ও প্রকাশ্যে ফাঁসির দাবি জানান।
শিশু হত্যার এই ঘটনায় রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকেও প্রতিবাদ অব্যাহত রয়েছে। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী-এর ঢাকা মহানগর উত্তরের মহিলা বিভাগ রাজধানীতে বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন করেছে। সংগঠনটির নেতারা বলেন, নারী ও শিশু নির্যাতনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিতে হবে এবং রামিসা হত্যার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত বিচারের আওতায় আনতে হবে।
রাজধানীর বাইরেও বিভিন্ন জেলা ও উপজেলায় মানববন্ধন, প্রতিবাদ সমাবেশ এবং বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়েছে। রামিসার গ্রামের বাড়ি শেরপুর-এ স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন “আজকের তারুণ্য” অভিযুক্তদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে কর্মসূচি পালন করেছে।
উল্লেখ্য, গত মঙ্গলবার (১৯ মে) সকালে রাজধানীর পল্লবীর একটি বাসা থেকে রামিসার মস্তকবিহীন মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে বাসার বাথরুম থেকে উদ্ধার করা হয় বিচ্ছিন্ন মাথা। এ ঘটনায় দায়ের করা মামলায় প্রথমে প্রধান আসামি সোহেল রানার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে আটক করা হয়। পরে সোহেল রানাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে সোহেল রানা শিশু রামিসাকে ধর্ষণের পর গলা কেটে হত্যার কথা স্বীকার করেছে।
দেশজুড়ে আলোড়ন সৃষ্টি করা এই ঘটনায় সাধারণ মানুষের একটাই দাবি—দ্রুত বিচার এবং এমন শাস্তি, যাতে ভবিষ্যতে আর কোনো শিশুকে এভাবে প্রাণ হারাতে না হয়।
✍️ মন্তব্য লিখুন