আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ২১ মে ২০২৬
আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলে নতুন নিয়ম ও তদারকি ব্যবস্থা চালু করেছে ইরান। বুধবার দেশটির সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে নতুন নজরদারি অঞ্চলের সীমা ঘোষণা করে। নতুন এই সিদ্ধান্তের ফলে মধ্যপ্রাচ্যের সামুদ্রিক নিরাপত্তা ও বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
ইরানের হরমুজ প্রণালি ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নতুন তদারকি অঞ্চলটি ইরানের কুহ মোবারক এলাকা থেকে সংযুক্ত আরব আমিরাতের দক্ষিণ আল-ফুজাইরাহ পর্যন্ত বিস্তৃত। এছাড়া কেশম দ্বীপ থেকে উম্ম আল-কুয়াইন পর্যন্ত পুরো জলসীমাও এই নজরদারির আওতায় থাকবে।
নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করতে আগ্রহী সব জাহাজকে নির্ধারিত যোগাযোগ ব্যবস্থার আওতায় থেকে পারস্য উপসাগর জলপথ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আগাম সমন্বয় করে অনুমতি নিতে হবে। ইরান বলছে, এই পদক্ষেপের মূল উদ্দেশ্য হলো কৌশলগত এই নৌপথে নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করা এবং সম্ভাব্য নিরাপত্তা ঝুঁকি প্রতিরোধ করা।
এর আগে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরানের ইসলামিক রেভ্যুলুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) জাহাজ চলাচলের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত কিছু শর্ত আরোপ করেছে। এর মধ্যে একটি সম্পৃক্ততা নথি জমা দেওয়ার বিষয়ও রয়েছে, যেখানে নিশ্চিত করতে হবে যে সংশ্লিষ্ট জাহাজটির যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েলের সঙ্গে কোনো ধরনের সম্পর্ক নেই।
প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, নতুন অনুমোদন প্রক্রিয়ার কারণে জাহাজ চলাচলে এক সপ্তাহ পর্যন্ত বিলম্ব হতে পারে। কিছু ক্ষেত্রে অনুমোদন ও সংশ্লিষ্ট কার্যক্রমের জন্য দেড় লাখ মার্কিন ডলারের বেশি ফিও গুনতে হতে পারে বলে দাবি করা হয়েছে। পাশাপাশি রাশিয়া ও চীনের সঙ্গে সম্পৃক্ত জাহাজগুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে বলেও বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে।
এ বিষয়ে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেন, ওমানের সহযোগিতায় কয়েকটি দেশের সঙ্গে সমন্বয় করে হরমুজ প্রণালিতে নিরাপদ জাহাজ চলাচল নিশ্চিত করার চেষ্টা করছে তেহরান। তিনি বলেন, “আমরা বিভিন্ন দেশের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ বজায় রাখছি, যাতে তাদের জাহাজ নিরাপদে হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করতে পারে।”
তবে একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করে বলেন, ইরানের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি তৈরি করতে পারে—এমন কোনো কর্মকাণ্ড দেশটি মেনে নেবে না।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, সাম্প্রতিক আঞ্চলিক উত্তেজনা, যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের সঙ্গে বিরোধ এবং মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে ইরানের এই নতুন পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি বাজারে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে। কারণ বিশ্বের উল্লেখযোগ্য পরিমাণ তেল ও গ্যাস প্রতিদিন হরমুজ প্রণালি দিয়েই পরিবাহিত হয়।
✍️ মন্তব্য লিখুন