প্রকাশ : ১৯ মে ২০২৬
ছবি: সংগৃহীত
মধ্যপ্রাচ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালিকে ইরানের “স্থায়ী কৌশলগত সম্পদ” হিসেবে উল্লেখ করেছেন দেশটির এক জ্যেষ্ঠ আইনপ্রণেতা। তিনি বলেছেন, এই প্রণালির ওপর ইরানের অধিকার ও নিয়ন্ত্রণ রক্ষায় তেহরান সর্বোচ্চ শক্তি প্রয়োগ করতে প্রস্তুত।
ইরানের পার্লামেন্টের জাতীয় নিরাপত্তা ও পররাষ্ট্রনীতি কমিটির চেয়ারম্যান ইব্রাহিম আজিজি মঙ্গলবার প্রকাশিত এক সাক্ষাৎকারে বলেন, হরমুজ প্রণালি শুধু জাহাজ চলাচলের রুট নয়; এটি ইরানের অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও সামরিক নিরাপত্তার সঙ্গে গভীরভাবে সম্পৃক্ত একটি কৌশলগত অঞ্চল।
কৌশলগত গুরুত্বের বার্তা
আজিজি বলেন, এ অঞ্চলে বিদেশি শক্তির প্রভাব বিস্তার বা সামরিক চাপ প্রয়োগের যেকোনো প্রচেষ্টার জবাব কঠোরভাবে দেওয়া হবে। তার ভাষায়, ইরানের সার্বভৌম অধিকার খর্ব করার সুযোগ কাউকে দেওয়া হবে না।
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি দাবি করেন, হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল নিয়ন্ত্রণে নতুন একটি ব্যবস্থাপনা চালু করেছে ইরান। নতুন ব্যবস্থার আওতায় নির্ধারিত রুট ব্যবহারকারী জাহাজগুলোকে বিশেষ নিরাপত্তা ও নৌসেবা বাবদ ফি দিতে হবে। ইরানের দাবি, এর মাধ্যমে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক চলাচল আরও নিরাপদ হবে।
আঞ্চলিক উত্তেজনা ও ‘প্রতিরোধ অক্ষ’
ইব্রাহিম আজিজি আরও বলেন, ইরান নিজস্ব সামরিক সক্ষমতা ও আঞ্চলিক মিত্রদের সহায়তায় জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় পুরোপুরি প্রস্তুত। কোনো নিষেধাজ্ঞা বা চাপ ইরানি জনগণের মনোবল দুর্বল করতে পারবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি মধ্যপ্রাচ্যের তথাকথিত “প্রতিরোধ অক্ষ”-এর প্রশংসা করে বলেন, সাম্প্রতিক আঞ্চলিক উত্তেজনার সময় তারা ঐক্যবদ্ধভাবে ইরানকে সমর্থন দিয়েছে।
কেন গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি
হরমুজ প্রণালি বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন রুটগুলোর একটি। বৈশ্বিক সমুদ্রপথে পরিবাহিত তেলের বড় অংশ এই প্রণালি দিয়েই যায়। ফলে সেখানে সামরিক উত্তেজনা বা নৌ চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি হলে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজার, তেলের দাম এবং বৈশ্বিক বাণিজ্যে বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান উত্তেজনা, আঞ্চলিক নিরাপত্তা সংকট এবং পারস্য উপসাগরকেন্দ্রিক ভূরাজনৈতিক প্রতিযোগিতার প্রেক্ষাপটে হরমুজ প্রণালি আবারও আন্তর্জাতিক আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে।
✍️ মন্তব্য লিখুন