জোয়ারের স্রোতে ভেসে গেল ভাসমান রিসোর্ট, আতঙ্কে পর্যটকরা
চাঁদপুর জেলার মতলব উত্তর উপজেলার মোহনপুর এলাকায় জোয়ারের প্রবল স্রোতে নদীতে ভেসে যায় একটি ভাসমান রিসোর্ট ও রেস্টুরেন্ট। সোমবার বিকেলে ঘটে যাওয়া এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরে কয়েক ঘণ্টার চেষ্টায় গভীর রাতে সেটিকে উদ্ধার করা হয়।
স্থানীয় সূত্র জানায়, নদীর তীরে রশি দিয়ে বাঁধা ছিল ধনাগোদা রিভারভিউ ভাসমান রিসোর্ট অ্যান্ড রেস্টুরেন্ট। বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে জোয়ারের পানির তীব্র স্রোতে বাঁধন ছিঁড়ে গেলে রেস্টুরেন্টটি নদীর মাঝখানের দিকে ভেসে যেতে শুরু করে। এ সময় সেখানে থাকা লোকজন আতঙ্কিত হয়ে পড়েন।
ঘটনার পর রিসোর্ট কর্তৃপক্ষ নিজেরাই উদ্ধার অভিযান চালায়। দীর্ঘ কয়েক ঘণ্টা চেষ্টার পর রাত প্রায় ১টার দিকে ভাসমান স্থাপনাটি আবার আগের স্থানে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়।
এ ঘটনায় নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে নদীতে পরিচালিত অননুমোদিত ভাসমান স্থাপনার নিরাপত্তা নিয়ে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, রিসোর্টটির কোনো প্রশাসনিক অনুমোদন ছিল না। শুধু রশির মাধ্যমে বেঁধে নদীতে এ ধরনের স্থাপনা পরিচালনা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ বলেও তারা মন্তব্য করেন।
মাহমুদা কুলসুম মনি বলেন, জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে আগেই রেস্টুরেন্টটি সরিয়ে নেওয়ার জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল। তবে কর্তৃপক্ষ তা মানেনি। তিনি আরও জানান, ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেখেছেন এবং প্রশাসনের কাছে এ বিষয়ে কোনো সহায়তা চাওয়া হয়নি।
অন্যদিকে রিসোর্টটির মালিক সিদ্দিকুর রহমান দাবি করেন, পানি কমে যাওয়ায় রেস্টুরেন্টটি কিছুটা সরানো হয়েছিল। পরে জোয়ারের পানির চাপে সেটি স্রোতে ভেসে যায়। তবে তখন ভেতরে কোনো পর্যটক ছিলেন না, শুধুমাত্র কর্মচারীরা ছিলেন বলে তিনি জানান। এছাড়া ঘটনায় কোনো ক্ষয়ক্ষতিরও কথা অস্বীকার করেন তিনি।
স্থানীয়দের মতে, নদীকেন্দ্রিক পর্যটন ব্যবসা জনপ্রিয় হয়ে উঠলেও নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক তদারকি ছাড়া এ ধরনের উদ্যোগ বড় দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে। তাই ভবিষ্যতে ঝুঁকি এড়াতে নিয়মিত নজরদারি ও কঠোর অনুমোদন প্রক্রিয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।
✍️ মন্তব্য লিখুন