বিবি ডেস্ক
প্রকাশ: ১৭ মে ২০২৬
ভারতের উত্তরপ্রদেশের রাজধানী লখনউয়ে পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের প্রলোভন দেখিয়ে এক নারী শিক্ষার্থীকে দীর্ঘদিন ধরে যৌন হয়রানির অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছেন পরমজিৎ সিং। তিনি লখনউ বিশ্ববিদ্যালয়-এর প্রাণিবিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। একটি আপত্তিকর ফোনালাপের অডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ঘটনাটি দেশজুড়ে আলোচনার জন্ম দেয়।
ভারতের শীর্ষস্থানীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়, অভিযুক্ত শিক্ষক দীর্ঘদিন ধরে এক বিএসসি শিক্ষার্থীকে পরীক্ষার প্রশ্নপত্র পাইয়ে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে ব্যক্তিগতভাবে দেখা করার জন্য চাপ দিয়ে আসছিলেন। ফাঁস হওয়া অডিও ক্লিপে তাকে বলতে শোনা যায়, “ডার্লিং, তোমার জন্য দুটি প্রশ্নপত্র জোগাড় করেছি। কবে দেখা করতে আসবে?”
জবাবে ওই ছাত্রী জানান, তার পড়াশোনা ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে এবং প্রশ্নপত্রের প্রয়োজন নেই। এরপরও অভিযুক্ত শিক্ষক তাকে পরীক্ষার আগে সাত দিনের মধ্যে দেখা করতে চাপ দেন। অডিওর শেষ অংশে ছাত্রী অভিযোগ করেন, তাকে আবারও শারীরিকভাবে হেনস্তার উদ্দেশ্যেই ডাকা হচ্ছে।
ঘটনার পর ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের কাছে অডিও ক্লিপসহ লিখিত অভিযোগ জমা দেন। অভিযোগ পাওয়ার পর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন থানায় মামলা দায়ের করলে পুলিশ অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত শিক্ষককে গ্রেপ্তার করে।
এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনও কঠোর অবস্থান নিয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য জে পি সাইনি অভ্যন্তরীণ অভিযোগ কমিটিকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি বলেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পরিবেশ নষ্ট করে এমন কোনো অপরাধ বরদাশত করা হবে না।
অন্যদিকে, গ্রেপ্তার হওয়া শিক্ষক পরমজিৎ সিং তার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তার দাবি, বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ রাজনীতির কারণে তাকে ষড়যন্ত্রমূলকভাবে ফাঁসানো হয়েছে।
ঘটনার প্রতিবাদে ছাত্র সংগঠন অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদ (এবিভিপি) বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে। সংগঠনটির নেতাকর্মীরা অভিযুক্ত শিক্ষকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ক্ষমতার অপব্যবহার এবং প্রশ্নফাঁসকে কেন্দ্র করে অনৈতিক প্রভাব বিস্তারের ঘটনা শিক্ষাব্যবস্থার জন্য উদ্বেগজনক বার্তা বহন করে। এ ধরনের অভিযোগের দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্ত শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও আস্থা রক্ষায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
✍️ মন্তব্য লিখুন