মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে ইরানকে ঘিরে নতুন কূটনৈতিক বার্তা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট Donald Trump। তিনি বলেছেন, ইরানের সঙ্গে চুক্তি নিয়ে তার “ধৈর্য ফুরিয়ে আসছে”। একই সময়ে China সংঘাত বন্ধ করে দ্রুত স্থায়ী যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানিয়েছে।
২০১৭ সালের পর প্রথমবার বেইজিং সফরে গিয়ে চীনের প্রেসিডেন্ট Xi Jinping–এর সঙ্গে বৈঠক করেন ট্রাম্প। বৈঠকের পর মার্কিন সংবাদমাধ্যম ফক্স নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ইরানের উচিত দ্রুত একটি চুক্তিতে পৌঁছানো। তার ভাষায়, “আমি আর বেশি ধৈর্য ধরব না।”
অচলাবস্থায় ওয়াশিংটন-তেহরান আলোচনা
বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা কার্যত স্থবির হয়ে আছে। ওয়াশিংটনের দাবি, ইরানকে সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত হস্তান্তর করতে হবে এবং ভবিষ্যতে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বন্ধ করতে হবে।
অন্যদিকে Iran যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ, আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং Strait of Hormuz–এর ওপর নিজেদের নিয়ন্ত্রণের স্বীকৃতি দাবি করছে।
তেহরান বরাবরই দাবি করে আসছে, তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যে পরিচালিত হচ্ছে এবং তারা পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির চেষ্টা করছে না।
হরমুজ প্রণালি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র-চীনের একমত
হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, ট্রাম্প ও শি জিনপিং উভয়েই হরমুজ প্রণালি খোলা রাখার প্রয়োজনীয়তার বিষয়ে একমত হয়েছেন। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার জবাবে ইরান ওই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে কার্যত নিয়ন্ত্রণ আরোপ করলে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ও আন্তর্জাতিক নৌ চলাচলে বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি হয়।
চীনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, হরমুজ প্রণালির সামরিকীকরণ কিংবা জাহাজ চলাচলে টোল আরোপ—দুটোরই বিরোধিতা করে বেইজিং।
ট্রাম্প আরও দাবি করেন, চীন ভবিষ্যতে মধ্যপ্রাচ্যের ওপর নির্ভরতা কমাতে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বেশি তেল আমদানিতে আগ্রহ দেখিয়েছে। পাশাপাশি, ইরানকে সামরিক সরঞ্জাম না দেওয়ার আশ্বাসও দিয়েছে বেইজিং—এমন দাবিও করেন তিনি।
চীনের কড়া বার্তা
শুক্রবার চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম সিনহুয়াকে বলেন, চলমান সংঘাত ইরানসহ পুরো অঞ্চলের জন্য বড় ক্ষতির কারণ হচ্ছে।
তার ভাষায়, “এই সংঘাত চালিয়ে যাওয়ার কোনো অর্থ নেই। শুরু থেকেই এটি হওয়া উচিত ছিল না।”
বিশ্লেষকদের মতে, একদিকে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর চাপ বাড়াচ্ছে, অন্যদিকে চীন প্রকাশ্যে যুদ্ধবিরতির পক্ষে অবস্থান নিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে কূটনৈতিক ভারসাম্য রক্ষার চেষ্টা করছে। এতে ভবিষ্যতে ওয়াশিংটন-বেইজিং সম্পর্ক ও ইরান ইস্যুর আন্তর্জাতিক সমীকরণ নতুন দিকে মোড় নিতে পারে।
✍️ মন্তব্য লিখুন