যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় নিহত ইরানের সাবেক সেনাপ্রধান Abdol Rahim Mousavi–এর মৃত্যুর আগে লেখা একটি শেষ বার্তা প্রকাশ করেছে ইরানের আধাসরকারি সংবাদমাধ্যম তাসনিম নিউজ।
শনিবার Al Jazeera–এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়, তাসনিম নিউজে প্রকাশিত ওই হাতে-লেখা নোটটি ২৮ ফেব্রুয়ারির হামলার ঠিক আগে লেখা হয়েছিল বলে দাবি করা হয়েছে। ওই হামলায় ইরানের শীর্ষ সামরিক ও রাজনৈতিক নেতৃত্বের কয়েকজন নিহত হন বলে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সূত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।
শেষ বার্তায় জীবনের ক্ষণস্থায়িত্বের কথা
প্রকাশিত বার্তায় পার্থিব জীবনের অস্থায়ী প্রকৃতি নিয়ে গভীর দার্শনিক উপলব্ধি তুলে ধরেন মোসাভি। সেখানে তিনি লিখেছেন—
> “পৃথিবী আসলে তুচ্ছ জিনিস। কারণ তুমি যদি পুরো পৃথিবীও অর্জন করো, তবুও কিছুই অর্জন করলে না। আবার এটাই পৃথিবীর ভালো দিক যে, তুমি যদি সবকিছু হারিয়েও ফেলো, তবুও আসলে কিছুই হারাও না।”
বার্তাটি প্রকাশের পর ইরানের সামাজিক ও রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। দেশটির রাষ্ট্রীয়পন্থি মহল এটিকে “শহীদের শেষ উপলব্ধি” হিসেবে তুলে ধরছে।
হামলায় নিহত হন খামেনিসহ শীর্ষ নেতারা
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২৮ ফেব্রুয়ারি ভোরে ইরানে চালানো যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যৌথ হামলায় দেশটির সর্বোচ্চ নেতা Ali Khamenei নিহত হন।
বার্তা সংস্থা Reuters–এর বরাতে জানা যায়, হামলার সময় খামেনি শীর্ষ উপদেষ্টাদের সঙ্গে একটি সুরক্ষিত স্থানে বৈঠক করছিলেন। নিহতদের মধ্যে ছিলেন সাবেক জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সচিব Ali Shamkhani এবং ইসলামিক রেভোল্যুশনারি গার্ড কর্পসের কমান্ডার Mohammad Pakpour।
ইরানি সূত্রগুলো আরও জানিয়েছে, ওই বৈঠকে সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সচিব Ali Larijani–ও উপস্থিত ছিলেন।
স্যাটেলাইট ছবিতে ধ্বংসস্তূপ
হামলার পর Al Jazeera খামেনির বাসভবনের স্যাটেলাইট ছবি প্রকাশ করে। সেখানে দেখা যায়, ভবনের বড় অংশ ধসে পড়েছে এবং চারপাশে বিস্ফোরণের চিহ্ন রয়েছে।
তবে হামলায় কী ধরনের অস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে বা কীভাবে অভিযান পরিচালিত হয়েছে—সে বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বকে লক্ষ্য করে চালানো এ হামলা মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। একই সঙ্গে অঞ্চলজুড়ে নতুন নিরাপত্তা ও কূটনৈতিক সংকটের আশঙ্কাও বাড়ছে।
✍️ মন্তব্য লিখুন