Zimbabwe থেকে নাগরিকদের Russia পাঠিয়ে যুদ্ধক্ষেত্রে অংশ নিতে বাধ্য করার অভিযোগে দেশটির চার নাগরিককে মানবপাচারের মামলায় আদালতে হাজির করা হয়েছে। তদন্তে উঠে এসেছে বিদেশে চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে তরুণদের যুদ্ধক্ষেত্রে পাঠানোর উদ্বেগজনক চিত্র।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম Al Jazeera–এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মার্চের শেষ দিকে হারারের একটি আদালতে হাজির করা হয় ওবার্ট হ্লাভাতি, টন্ডেরাই মাফোসা, তানাকা ম্যালকন গওয়ারাদা এবং এডসন ডুডজাই নিয়ামুদেজাকে। অভিযোগ রয়েছে, তারা “ইভান” নামে পরিচিত এক রুশ নাগরিকের সঙ্গে মিলে অন্তত ছয়জন জিম্বাবুইয়ানকে রাশিয়ায় পাঠিয়েছিলেন, যেখানে তাদের Russo-Ukrainian War–এ অংশ নিতে বাধ্য করা হয়।
মামলাটির শুনানি করেন ম্যাজিস্ট্রেট জেসি কুফা। তবে এখনো অভিযুক্তদের আনুষ্ঠানিক জবানবন্দি গ্রহণ করা হয়নি। তদন্তকারীরা বলছেন, এটি শুধু বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা নয়; বরং সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলে শ্রমিক ও তরুণদের পাঠানোর একটি বড় নেটওয়ার্কের ইঙ্গিত মিলছে।
এর মধ্যেই জোশুয়া মকাবুকো এনকোমো আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে দুই ভাইকে রাশিয়াগামী বিমানে ওঠার সময় আটক করা হয়। তারা দাবি করেছিলেন, মস্কোর একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্মুক্ত অনুষ্ঠানে যোগ দিতে যাচ্ছেন। কিন্তু নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের সন্দেহ হওয়ায় তাদের যাত্রা স্থগিত করা হয়।
জিম্বাবুয়ে সরকারের মুখপাত্র নিক মাঙ্গওয়ানা জানিয়েছেন, রুশ বাহিনীর সঙ্গে যুক্ত হয়ে ইউক্রেন যুদ্ধে নিহত চার জিম্বাবুইয়ান নাগরিকের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চলছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, বিদেশি যোদ্ধা হিসেবে পাচার হওয়া অন্তত ১৮ জন জিম্বাবুইয়ান বিদেশে নিহত হয়েছেন। তবে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও আইনি জটিলতার কারণে আপাতত চারজনের মরদেহই ফেরত আনার প্রক্রিয়া চলছে।
দেশটির তথ্যমন্ত্রী ঝেমু সোডা অভিযোগ করেছেন, কিছু অসাধু চাকরি প্রদানকারী সংস্থা উচ্চ বেতন, নিরাপদ চাকরি ও বিদেশে উন্নত জীবনের প্রতিশ্রুতি দিয়ে হতাশ তরুণদের যুদ্ধপ্রবণ অঞ্চলে পাঠাচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, অর্থনৈতিক সংকট, উচ্চ বেকারত্ব এবং বিদেশে কাজের আকাঙ্ক্ষাকে কাজে লাগিয়েই এই ধরনের নেটওয়ার্ক সক্রিয় হচ্ছে।
আফ্রিকার বিভিন্ন দেশ থেকে রাশিয়ায় শ্রমিক বা নিরাপত্তাকর্মী নিয়োগের অভিযোগ নতুন নয়। তবে সাম্প্রতিক সময়ে যুদ্ধের মানবশক্তির চাহিদা বাড়ায় দরিদ্র ও উন্নয়নশীল দেশগুলোর নাগরিকদের লক্ষ্য করে এমন তৎপরতা বেড়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, বিদেশে চাকরির প্রলোভনে যাওয়া তরুণদের অনেকেই শেষ পর্যন্ত সামরিক প্রশিক্ষণ, ঝুঁকিপূর্ণ নিরাপত্তা দায়িত্ব কিংবা সরাসরি যুদ্ধক্ষেত্রে জড়িয়ে পড়ছেন। ফলে মানবপাচার, জোরপূর্বক নিয়োগ এবং আন্তর্জাতিক মানবাধিকার লঙ্ঘনের প্রশ্ন আবারও সামনে চলে এসেছে।
✍️ মন্তব্য লিখুন