উত্তরাঞ্চলের স্বাস্থ্যসেবা ও চিকিৎসা শিক্ষায় নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিল সরকার। দেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের জেলা ঠাকুরগাঁও-এ ‘ঠাকুরগাঁও মেডিকেল কলেজ’ প্রতিষ্ঠার জন্য আনুষ্ঠানিক সরকারি অনুমোদন দিয়েছে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়। এ সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন বুধবার (১৩ মে) জারি করা হয়েছে।
স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের চিকিৎসা শিক্ষা-১ শাখা থেকে জারি করা প্রজ্ঞাপনে স্বাক্ষর করেন স্বাস্থ্যসচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরী। এতে বলা হয়, স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের অধীনে ঠাকুরগাঁও জেলায় নতুন মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সরকার আনুষ্ঠানিক মঞ্জুরি প্রদান করেছে।
উত্তরাঞ্চলের স্বাস্থ্যখাতে নতুন অধ্যায়
দীর্ঘদিন ধরে ঠাকুরগাঁওবাসীর অন্যতম দাবি ছিল জেলায় একটি সরকারি মেডিকেল কলেজ স্থাপন। বর্তমানে উন্নত চিকিৎসা ও চিকিৎসাশিক্ষার জন্য জেলার শিক্ষার্থী ও রোগীদের অনেক ক্ষেত্রেই রংপুর কিংবা ঢাকা-সহ দূরবর্তী শহরের ওপর নির্ভর করতে হয়। নতুন মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠিত হলে স্থানীয় পর্যায়ে চিকিৎসক তৈরির সুযোগ বাড়বে, একই সঙ্গে স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়নেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলছেন, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে চিকিৎসা শিক্ষার বিস্তার এবং জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করার অংশ হিসেবেই নতুন মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে উত্তরাঞ্চলে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক সংকট কমানো এবং আধুনিক স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণ সহজ হবে।
কী থাকছে পরবর্তী ধাপে
সরকারি অনুমোদনের পর এখন জমি, অবকাঠামো, শিক্ষক নিয়োগ, হাসপাতাল সংযুক্তিকরণ ও একাডেমিক কার্যক্রম শুরুর প্রস্তুতি নেওয়া হবে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, পর্যায়ক্রমে কলেজটির প্রশাসনিক কাঠামো গঠন এবং শিক্ষার্থী ভর্তির বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সচেতন মহল এই সিদ্ধান্তকে ‘ঐতিহাসিক’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে দ্রুত বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, মেডিকেল কলেজ চালু হলে শুধু ঠাকুরগাঁও নয়, আশপাশের জেলা ও সীমান্তবর্তী এলাকার মানুষও উন্নত চিকিৎসাসেবা পাওয়ার সুযোগ পাবেন।
✍️ মন্তব্য লিখুন