দেশে হামের সংক্রমণ পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক হয়ে উঠছে। গত ২৪ ঘণ্টায় সারাদেশে উচ্চ সংক্রামক এ রোগে আক্রান্ত হয়ে আরও ৯ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে শনাক্ত হয়েছে ১ হাজার ১৯২ জন সন্দেহজনক ও নিশ্চিত হাম রোগী। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ তথ্য বলছে, চলমান প্রাদুর্ভাবে আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে।
মঙ্গলবার (১২ মে) বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পাঠানো নিয়মিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, মঙ্গলবার সকাল ৮টা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় মারা যাওয়া ৯ শিশুর মধ্যে ৩ জনের শরীরে পরীক্ষায় হাম নিশ্চিত হয়েছিল। বাকি ৬ জন উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে। মৃত শিশুদের মধ্যে ৩ জনই ঢাকা জেলার বাসিন্দা।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, নতুন আক্রান্তদের মধ্যে ১ হাজার ১০৫ জন সন্দেহজনক এবং ৮৭ জনের শরীরে রক্ত পরীক্ষায় হাম শনাক্ত হয়েছে। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আক্রান্তের প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে। কারণ দেশের বিভিন্ন এলাকায় এখনও অনেক শিশু চিকিৎসাসেবা বা পরীক্ষার আওতায় আসছে না।
গত ১৫ মার্চ থেকে শুরু হওয়া এ প্রাদুর্ভাবে এখন পর্যন্ত মোট ৫১ হাজার ৫৬৭ জন সন্দেহজনক এবং ৭ হাজার ২৪ জন নিশ্চিত হাম রোগী শনাক্ত হয়েছে। একই সময়ে মারা গেছে মোট ৪২৪ জন শিশু। এর মধ্যে ৩৫৬ জন সন্দেহজনক ও ৬৮ জন নিশ্চিত হাম রোগী ছিল।
হাসপাতালভিত্তিক তথ্য অনুযায়ী, এ পর্যন্ত ৩৬ হাজার ৮৮১ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। তাদের মধ্যে চিকিৎসা শেষে ৩২ হাজার ৮৭৭ জন হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছে। তবে এখনও দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে হাম আক্রান্ত শিশুদের চাপ অব্যাহত রয়েছে।
সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে সরকার দেশব্যাপী বিশেষ টিকাদান কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, গত ৫ এপ্রিল থেকে এখন পর্যন্ত সারাদেশে ১ কোটি ৮০ লাখ ৪৯ হাজার ৫১৬ শিশুকে হামের টিকা দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে সিটি কর্পোরেশন এলাকাতেই টিকা পেয়েছে ১৮ লাখ ৯৪ হাজার ২৬৬ জন শিশু।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হাম অত্যন্ত সংক্রামক একটি ভাইরাসজনিত রোগ। সময়মতো টিকা গ্রহণই এ রোগ প্রতিরোধের সবচেয়ে কার্যকর উপায়। তারা অভিভাবকদের শিশুদের নির্ধারিত টিকা নিশ্চিত করার পাশাপাশি জ্বর, শরীরে ফুসকুড়ি, কাশি বা চোখ লাল হওয়ার মতো উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
✍️ মন্তব্য লিখুন