আন্তর্জাতিক কূটনীতির উত্তপ্ত প্রেক্ষাপটে তিন দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে চীন যাচ্ছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট Donald Trump। আগামী বুধবার শুরু হতে যাওয়া এ সফরকে বৈশ্বিক রাজনীতি ও অর্থনৈতিক ভারসাম্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা।
সফরকালে চীনের প্রেসিডেন্ট Xi Jinping–এর সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে অংশ নেবেন ট্রাম্প। আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা, বৈশ্বিক বাণিজ্য, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সামরিক ব্যবহার এবং চলমান ভূরাজনৈতিক সংকট—এসব বিষয় আলোচনায় প্রাধান্য পেতে পারে বলে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।
হোয়াইট হাউস সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে জানা গেছে, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত নিরসনে চীনের সক্রিয় ভূমিকা নিশ্চিত করাই ট্রাম্প প্রশাসনের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। বিশেষ করে ইরানের ওপর বেইজিংয়ের জ্বালানি ও অর্থনৈতিক প্রভাবকে কাজে লাগিয়ে তেহরানকে আলোচনার টেবিলে আনার বিষয়ে জোর দিতে পারে ওয়াশিংটন। মার্কিন প্রশাসনের ধারণা, চীন যদি ইরানের সঙ্গে কিছু কৌশলগত বাণিজ্যিক সম্পর্ক সীমিত করে, তাহলে যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবিত সমঝোতা উদ্যোগে ইতিবাচক অগ্রগতি আসতে পারে।
এদিকে বৈঠকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ পরিস্থিতিও গুরুত্বের সঙ্গে আলোচিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, রাশিয়া ও ইরানের কাছে চীনের সামরিক ও দ্বৈত ব্যবহারযোগ্য প্রযুক্তি সরবরাহের বিষয়টি ট্রাম্প সরাসরি উত্থাপন করতে পারেন। এ নিয়ে ওয়াশিংটনের উদ্বেগ আগেই প্রকাশ পেয়েছে।
অর্থনৈতিক দিক থেকেও সফরটি তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। দীর্ঘদিন ধরে চলা যুক্তরাষ্ট্র-চীন শুল্ক বিরোধ কমানো, বাণিজ্যিক সমঝোতার সময়সীমা বাড়ানো এবং দুই দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা পুনরুদ্ধারের বিষয়ে আলোচনা হতে পারে। পাশাপাশি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তির সামরিক ব্যবহার ও সম্ভাব্য ঝুঁকি মোকাবিলায় যৌথ নীতিমালা তৈরির বিষয়েও দুই নেতার মধ্যে মতবিনিময়ের সম্ভাবনা রয়েছে।
সফরের অংশ হিসেবে ট্রাম্প বেইজিংয়ের ঐতিহাসিক Temple of Heaven পরিদর্শন করবেন। এছাড়া তাঁর সম্মানে বিশেষ চা-আড্ডা ও রাষ্ট্রীয় ভোজসভার আয়োজন করবে চীনা কর্তৃপক্ষ। কূটনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই আয়োজনগুলো দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান উত্তেজনা কমাতে প্রতীকী বার্তা বহন করতে পারে।
উল্লেখ্য, চলতি বছরের মার্চ মাসে সফরটি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিতিশীল পরিস্থিতির কারণে তা পিছিয়ে যায়। বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে ট্রাম্প-শি বৈঠক আন্তর্জাতিক সম্পর্কের নতুন সমীকরণ তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
✍️ মন্তব্য লিখুন