আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে টানা দ্বিতীয় দিনের মতো কমেছে তেলের দাম। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট Donald Trump ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য শান্তি চুক্তির ইঙ্গিত দেওয়ার পরই বাজারে এই নিম্নমুখী প্রবণতা দেখা গেছে।
দাম কমার চিত্র
আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা Reuters জানায়,
ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ১.৬৯ ডলার কমে দাঁড়িয়েছে ১০৮.১৮ ডলার
ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (WTI) কমে হয়েছে ১০০.৬০ ডলার
এর আগের দিনও তেলের দাম প্রায় ৪ শতাংশ কমেছিল, যা বাজারে ধারাবাহিক পতনের ইঙ্গিত দেয়।
—
হরমুজে উত্তেজনা কমার আভাস
মঙ্গলবার Donald Trump ঘোষণা দেন, Strait of Hormuz এলাকায় জাহাজ চলাচল নিরাপদ রাখতে চালানো মার্কিন অভিযান সাময়িকভাবে স্থগিত করা হবে। একই সঙ্গে তিনি ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য সমঝোতার কথাও জানান।
বিশ্লেষকদের মতে, এই ঘোষণা মধ্যপ্রাচ্যের দীর্ঘদিনের উত্তেজনা প্রশমনের ইঙ্গিত বহন করছে। এর ফলে উপসাগরীয় অঞ্চলে আটকে থাকা তেলবাহী জাহাজগুলো আবার চলাচল শুরু করতে পারে, যা বৈশ্বিক সরবরাহ বাড়াতে সহায়ক হবে।
—
সরবরাহ বাড়লেও অনিশ্চয়তা কাটেনি
তবে সম্ভাব্য শান্তি চুক্তির পরও বাজার পুরোপুরি স্থিতিশীল হয়নি। বিশেষজ্ঞদের মতে—
সরবরাহ স্বাভাবিক হতে সময় লাগবে
ইরানের বন্দরগুলোতে মার্কিন নৌ অবরোধ এখনো অব্যাহত
সাম্প্রতিক উত্তেজনায় বৈশ্বিক মজুত কমে গেছে
এই পরিস্থিতিতে তেলের বাজার এখনো ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে।
—
যুক্তরাষ্ট্রে মজুত কমছে
বাজার বিশ্লেষণে দেখা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রে টানা তৃতীয় সপ্তাহে তেলের মজুত কমেছে—
অপরিশোধিত তেল কমেছে প্রায় ৮.১ মিলিয়ন ব্যারেল
পেট্রোল কমেছে ৬.১ মিলিয়ন ব্যারেল
অন্যান্য জ্বালানি কমেছে ৪.৬ মিলিয়ন ব্যারেল
এতে বোঝা যাচ্ছে, সরবরাহ বাড়ার সম্ভাবনা থাকলেও চাহিদা এখনো শক্তিশালী।
—
কী বলছেন বিশ্লেষকরা
বিশেষজ্ঞদের মতে, তেলের বাজার এখন মূলত তিনটি বিষয়ের ওপর নির্ভর করছে—
1. যুক্তরাষ্ট্র–ইরান সম্পর্কের অগ্রগতি
2. Strait of Hormuz অঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতি
3. বৈশ্বিক সরবরাহ ও মজুতের ভারসাম্য
তারা বলছেন, শান্তি আলোচনা বাস্তব চুক্তিতে রূপ নিলে তেলের দাম আরও কমতে পারে। তবে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হলে বাজার আবার অস্থির হয়ে উঠতে পারে।
✍️ মন্তব্য লিখুন