Benjamin Netanyahu বলেছেন, ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক আর্থিক সহায়তার ওপর নির্ভরতা কমিয়ে আনতে চায় ইসরায়েল। মার্কিন সংবাদমাধ্যম CBS News–কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, ধীরে ধীরে যুক্তরাষ্ট্রের বার্ষিক সহায়তা শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনার পরিকল্পনা রয়েছে।
বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র থেকে ইসরায়েল বছরে প্রায় ৩ দশমিক ৮ বিলিয়ন ডলার সামরিক সহায়তা পেয়ে থাকে। তবে নেতানিয়াহুর মতে, আগামী এক দশকের মধ্যে নিজেদের সামরিক সক্ষমতা এমন পর্যায়ে নিতে হবে যাতে বাইরের আর্থিক সহায়তার প্রয়োজন না পড়ে।
সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, “আমি চাই এখন থেকেই এই প্রক্রিয়া শুরু হোক। ধীরে ধীরে আমরা যেন যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তা ছাড়াই নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারি।”
ইরান ইস্যুতে কড়া অবস্থান
ইরানের সঙ্গে চলমান উত্তেজনা প্রসঙ্গে নেতানিয়াহু দাবি করেন, যুদ্ধ এখনো পুরোপুরি শেষ হয়নি। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ইরানের হাতে এখনো সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম, ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি এবং আঞ্চলিক মিত্র গোষ্ঠীগুলোর শক্তিশালী নেটওয়ার্ক রয়েছে।
Iran–এর পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে তিনি বলেন, দেশটির ইউরেনিয়াম কার্যক্রম ও পারমাণবিক স্থাপনাগুলো নিষ্ক্রিয় করা প্রয়োজন। তবে সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপ নিয়ে বিস্তারিত কিছু বলতে চাননি তিনি।
এদিকে যুদ্ধবিরতি প্রসঙ্গে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট Donald Trump–ও ইরানের প্রতিক্রিয়াকে “অগ্রহণযোগ্য” বলে মন্তব্য করেছেন।
হিজবুল্লাহ ও গাজা পরিস্থিতি
লেবাননভিত্তিক সশস্ত্র গোষ্ঠী Hezbollah সম্পর্কে নেতানিয়াহু বলেন, ইরানের সঙ্গে সংঘাত থেমে গেলেও হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে যেতে পারে ইসরায়েল। তার দাবি, হিজবুল্লাহকে আগের অবস্থানে ফিরতে দেওয়া হবে না।
একই সঙ্গে Gaza Strip পরিস্থিতি নিয়েও মন্তব্য করেন তিনি। নেতানিয়াহু বলেন, হামাসকে নিরস্ত্র করা এবং গাজাকে সামরিক প্রভাবমুক্ত করাই এখনো ইসরায়েলের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য।
তবে তিনি স্বীকার করেন, চলমান যুদ্ধে ভুলের কারণে বেসামরিক মানুষের প্রাণহানির ঘটনাও ঘটেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইসরায়েলবিরোধী প্রচারণা দেশটির ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত করছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
আরব বিশ্বের সঙ্গে সম্পর্ক বাড়ানোর দাবি
নেতানিয়াহুর দাবি, মধ্যপ্রাচ্যে ইসরায়েলের প্রভাব বাড়ছে এবং কয়েকটি আরব দেশ এখন ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক আরও জোরদারে আগ্রহ দেখাচ্ছে। বিশেষ করে প্রযুক্তি, জ্বালানি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা খাতে সহযোগিতার বিষয়ে ইতিবাচক আলোচনা চলছে বলে জানান তিনি।
এছাড়া তিনি অভিযোগ করেন, China ইরানকে ক্ষেপণাস্ত্র প্রযুক্তিতে সহায়তা করছে। যদিও এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেননি তিনি।
✍️ মন্তব্য লিখুন