রাশিয়া তাদের নতুন প্রজন্মের আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র (আইসিবিএম) RS-28 Sarmat-এর আরেকটি সফল পরীক্ষা চালানোর দাবি করেছে। দেশটির প্রেসিডেন্ট Vladimir Putin বলেছেন, পারমাণবিক অস্ত্র বহনে সক্ষম এই ক্ষেপণাস্ত্রটি বিশ্বের “সবচেয়ে শক্তিশালী” ক্ষেপণাস্ত্রগুলোর একটি এবং চলতি বছরের শেষ নাগাদ এটি আনুষ্ঠানিকভাবে রুশ সামরিক বাহিনীতে যুক্ত হতে পারে।
রুশ রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রচারিত ভিডিওতে দেখা যায়, কৌশলগত ক্ষেপণাস্ত্র বাহিনীর কমান্ডার Sergey Karakayev প্রেসিডেন্ট পুতিনকে উৎক্ষেপণ সফল হওয়ার তথ্য জানাচ্ছেন। পরে টেলিভিশন ভাষণে পুতিন বলেন, নতুন এই ক্ষেপণাস্ত্র রাশিয়ার পারমাণবিক সক্ষমতাকে আরও শক্তিশালী করবে।
কী বিশেষত্ব রয়েছে সারমাত ক্ষেপণাস্ত্রে?
রাশিয়ার দাবি অনুযায়ী, RS-28 Sarmat একাধিক পারমাণবিক ওয়ারহেড বহনে সক্ষম। এটি সাব-অরবিটাল ফ্লাইট পথ ব্যবহার করতে পারে, ফলে প্রচলিত ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে ফাঁকি দেওয়া সহজ হয়। রুশ কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, এর পাল্লা প্রায় ৩৫ হাজার কিলোমিটার পর্যন্ত হতে পারে এবং এটি ভবিষ্যতের উন্নত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাও ভেদ করতে সক্ষম।
পশ্চিমা দেশগুলোতে ক্ষেপণাস্ত্রটি “সাটান টু” নামে পরিচিত। এটি সোভিয়েত আমলের ভয়েভোদা আইসিবিএমের বিকল্প হিসেবে তৈরি করা হচ্ছে। ভারী ওয়ারহেড বহনের সক্ষমতার কারণে এটি রাশিয়ার কৌশলগত পারমাণবিক শক্তির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
দীর্ঘ উন্নয়ন প্রক্রিয়া ও বিতর্ক
২০১১ সালে সারমাত প্রকল্প শুরু হলেও এর উন্নয়ন প্রক্রিয়ায় বিভিন্ন প্রযুক্তিগত জটিলতা দেখা দেয়। রাশিয়ার পক্ষ থেকে একাধিকবার পরীক্ষার ঘোষণা দেওয়া হলেও সব পরীক্ষা সফল হয়নি। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, ২০২৪ সালের একটি পরীক্ষার সময় বড় ধরনের বিস্ফোরণ ঘটে, যা প্রকল্পটির নির্ভরযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তোলে।
বিশ্লেষকদের মতে, নতুন করে এই সফল পরীক্ষার ঘোষণা এমন সময়ে এলো, যখন রাশিয়া ও পশ্চিমা দেশগুলোর মধ্যে সামরিক উত্তেজনা এবং কৌশলগত প্রতিযোগিতা আরও বাড়ছে। বিশেষ করে Russo-Ukrainian War ঘিরে বৈশ্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি জটিল হয়ে ওঠায় পারমাণবিক সক্ষমতা নিয়ে শক্তিধর দেশগুলোর অবস্থান আবারও আলোচনায় এসেছে।
আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া নিয়ে নজর
রাশিয়ার এই ঘোষণার পর পশ্চিমা দেশগুলোর প্রতিক্রিয়া নিয়ে কূটনৈতিক মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে। সামরিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, নতুন প্রজন্মের এই আইসিবিএম কার্যকরভাবে মোতায়েন করা হলে বৈশ্বিক কৌশলগত ভারসাম্যে নতুন চাপ তৈরি হতে পারে। তবে রাশিয়ার দাবিকৃত অনেক সক্ষমতার স্বাধীন যাচাই এখনো আন্তর্জাতিকভাবে নিশ্চিত হয়নি।
✍️ মন্তব্য লিখুন