প্রকাশ: ১৩ মে ২০২৬, ০৯:০৬ এএম
পরিষ্কার জ্বালানি উৎপাদনে নতুন প্রযুক্তির সম্ভাবনা দেখাচ্ছে চীন। দেশটির সিচুয়ান প্রদেশের ইবিন শহরে পরীক্ষামূলকভাবে চালানো হয়েছে আকাশে ভাসমান এক ধরনের উইন্ড টারবাইন, যার নাম দেওয়া হয়েছে “এস২০০০ স্ট্র্যাটোস্ফিয়ার এয়ারবোর্ন উইন্ড এনার্জি সিস্টেম”।
চীনা প্রকৌশলীদের দাবি, উচ্চ আকাশের শক্তিশালী ও স্থিতিশীল বাতাস ব্যবহার করে তুলনামূলক কম অবকাঠামো ব্যয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যেই এই প্রযুক্তি তৈরি করা হয়েছে। বছরের শুরু থেকেই এ নিয়ে একাধিক পরীক্ষা পরিচালিত হচ্ছে। ইউরোনিউজ, সিএনএনসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ও স্থানীয় সংবাদমাধ্যমে এ বিষয়ে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে।
বিশাল বেলুনসদৃশ এই উড়ন্ত বিদ্যুৎব্যবস্থাটি দেখতে অনেকটা সাদা এয়ারশিপের মতো। এর দৈর্ঘ্য প্রায় ৬০ মিটার এবং প্রস্থ ও উচ্চতা প্রায় ৪০ মিটার। টারবাইনগুলো এয়ারশিপের শরীরের সঙ্গে সংযুক্ত অবস্থায় থাকে।
পরীক্ষার সময় এটি প্রায় ৩০ মিনিটে ২ হাজার মিটার উচ্চতায় উঠে সেখানে স্থিতিশীলভাবে ভেসে থাকে। এ সময় উৎপাদিত প্রায় ৩৮৫ কিলোওয়াট-ঘণ্টা বিদ্যুৎ বিশেষ কেবলের মাধ্যমে নিচে পাঠিয়ে জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করা হয়।
প্রকৌশলীরা জানান, প্রযুক্তিটি মূলত প্রচলিত উইন্ড টারবাইন ব্যবস্থা এবং আকাশভিত্তিক প্ল্যাটফর্ম প্রযুক্তির সমন্বয়ে তৈরি। হিলিয়ামভর্তি এয়ারোস্ট্যাট সিস্টেম পুরো কাঠামোকে আকাশে ভাসিয়ে রাখে, আর বিশেষ কেবল একদিকে বিদ্যুৎ পরিবহন করে, অন্যদিকে কাঠামোটিকে স্থিতিশীল রাখে।
প্রকল্পসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দাবি, ভবিষ্যতে এই প্রযুক্তির সর্বোচ্চ উৎপাদনক্ষমতা ৩ মেগাওয়াট পর্যন্ত হতে পারে। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, এক ঘণ্টায় উৎপাদিত বিদ্যুৎ দিয়ে প্রায় ৩০টি উচ্চক্ষমতার বৈদ্যুতিক গাড়ি সম্পূর্ণ চার্জ দেওয়া সম্ভব।
বিশেষজ্ঞরা অবশ্য বলছেন, প্রযুক্তিটি সম্ভাবনাময় হলেও দীর্ঘমেয়াদি ব্যবহার এখনো বড় চ্যালেঞ্জের মুখে। বিশেষ করে নিরাপত্তা, প্রতিকূল আবহাওয়া, বিমানের চলাচল, রক্ষণাবেক্ষণ এবং বিমা সংক্রান্ত বিষয়গুলো নিয়ে আরও পরীক্ষা ও নীতিগত প্রস্তুতি প্রয়োজন।
বিশ্বজুড়ে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানোর প্রচেষ্টার মধ্যে চীনের এই উদ্যোগকে নতুন ধরনের বিকল্প জ্বালানি প্রযুক্তির পরীক্ষামূলক অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।
✍️ মন্তব্য লিখুন