আন্তর্জাতিক ডেস্ক
চিকিৎসা ও শিল্পের কাজে নিয়ন্ত্রিতভাবে গাঁজা চাষের অনুমতি দিয়েছে নেপালের গান্দাকি প্রদেশ। এর মধ্য দিয়ে দেশটির প্রথম কোনো প্রদেশ হিসেবে গান্দাকি গাঁজা চাষের জন্য আইনি কাঠামো তৈরি করল। তবে এটি বিনোদনমূলক ব্যবহারের বৈধতা নয়; চাষ ও ব্যবহার থাকবে কঠোর সরকারি নিয়ন্ত্রণ ও অনুমতির আওতায়।
সম্প্রতি গান্দাকি প্রদেশের প্রাদেশিক পরিষদ চিকিৎসা ও শিল্পের কাজে গাঁজা চাষ নিয়ন্ত্রণ ও ব্যবস্থাপনা–সংক্রান্ত আইন অনুমোদন করে। পরে প্রাদেশিক প্রধান দিল্লি রাজ ভট্ট আইনটিতে অনুমোদন দেন। আইনটি কার্যকর হওয়ার পর নির্দিষ্ট শর্ত পূরণকারী কৃষকেরা সরকারি লাইসেন্স নিয়ে গাঁজা চাষ করতে পারবেন।
নতুন আইনে গাঁজা চাষের জন্য নির্দিষ্ট এলাকা নির্ধারণ, কৃষকদের লাইসেন্স প্রদান এবং উৎপাদন কার্যক্রমের ওপর সরকারি নজরদারির ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। অনুমোদন ছাড়া চাষ বা নির্ধারিত ব্যবস্থার বাইরে গাঁজা উৎপাদন বৈধ হবে না।
গান্দাকি সরকারের উদ্যোগের মূল লক্ষ্য চিকিৎসা ও শিল্পে গাঁজার সম্ভাবনাকে কাজে লাগানো। প্রদেশটির পক্ষ থেকে এর আগে গবেষণা, উৎপাদন ও গাঁজাভিত্তিক মূল্যশৃঙ্খল উন্নয়নের জন্য নিয়ন্ত্রিত ব্যবস্থার কথা বলা হয়েছিল।
তবে নেপালের জাতীয় আইনে গাঁজার অবস্থান এখনো কঠোর। দেশটিতে গাঁজার চাষ, দখল ও বিতরণ সাধারণভাবে নিষিদ্ধ। ফলে গান্দাকি প্রদেশের নতুন আইনকে জাতীয় পর্যায়ে গাঁজা বৈধ করার সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। বরং প্রাদেশিক পর্যায়ে চিকিৎসা ও শিল্পের নির্দিষ্ট উদ্দেশ্যে নিয়ন্ত্রিত চাষের পথ খুলেছে।
নেপালে গাঁজার সঙ্গে দীর্ঘদিনের সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় সম্পর্ক রয়েছে। দেশটির বিভিন্ন পাহাড়ি এলাকায় প্রাকৃতিকভাবেও গাঁজা জন্মে। তবে ১৯৭০-এর দশকের শেষ দিকে আন্তর্জাতিক মাদকবিরোধী নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে দেশটি গাঁজার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে।
নতুন আইনের ফলে গান্দাকিতে গাঁজাকে চিকিৎসা ও শিল্পের কাঁচামাল হিসেবে কাজে লাগানোর সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে লাইসেন্স, নির্ধারিত এলাকা ও সরকারি তদারকির মাধ্যমে অবৈধ উৎপাদন ও অপব্যবহার ঠেকানোর ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।
✍️ মন্তব্য লিখুন