আন্তর্জাতিক ডেস্ক
বয়স যে শেখার পথে বাধা হতে পারে না, তারই অনন্য উদাহরণ ভারতের হরিয়ানার সিরসার বাসিন্দা লালচাঁদ গোদারা। ৮৫ বছর বয়সে তিনি মাস্টার অব আর্টস (এমএ) ডিগ্রি অর্জন করেছেন। এবার তাঁর লক্ষ্য পিএইচডি অথবা আইন বিষয়ে আরও একটি ডিগ্রি নেওয়া।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম হিন্দুস্তান টাইমস ও ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস-এর প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। গোদারা ইন্দিরা গান্ধী ন্যাশনাল ওপেন ইউনিভার্সিটি (ইগনু) থেকে এমএ সম্পন্ন করেছেন। সম্প্রতি প্রকাশিত ফলে তিনি ১ হাজার ২০০ নম্বরের মধ্যে ৯৬৫ নম্বর পেয়েছেন।
লালচাঁদ গোদারা ভারতীয় সেনাবাহিনীতে কর্মরত ছিলেন। ১৯৬২, ১৯৬৫ ও ১৯৭১ সালের যুদ্ধে তিনি দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৭২ সালে সেনাবাহিনী থেকে অবসর নেওয়ার পর তিনি হরিয়ানা সরকারের পরিবহন বিভাগে যোগ দেন। সেখানে ইয়ার্ডমাস্টার হিসেবে কাজ করে ২০০২ সালে অবসর নেন।
তবে চাকরি থেকে অবসর নেওয়ার পর তাঁর পড়াশোনার ইচ্ছা থেমে থাকেনি। ৭৬ বছর বয়সে তিনি আবার বই হাতে নেন। পাঁচ বছর পর, ৮১ বছর বয়সে তিনি স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। এরপর ২০২৩ সালে ইগনুর এমএ প্রোগ্রামে ভর্তি হন।
গোদারা বলেন, তাঁর পরিবারে আগের প্রজন্মে শিক্ষার সুযোগ সীমিত ছিল। ছোটবেলা থেকেই পড়াশোনার প্রতি আগ্রহ থাকলেও নানা পরিস্থিতিতে তা এগিয়ে নিতে পারেননি। তাই জীবনের শেষ প্রান্তে এসে সেই অপূর্ণ ইচ্ছা পূরণে আবার পড়াশোনায় ফেরেন তিনি।
পড়াশোনার পাশাপাশি খেলাধুলাতেও সক্রিয় গোদারা। অবসরের পর তিনি মাস্টার্স অ্যাথলেটিকসে অংশ নেওয়া শুরু করেন। হরিয়ানা, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ের বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে তিনি পদকও পেয়েছেন। তাঁর পরিবারের দাবি, বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় তাঁর পদকের সংখ্যা প্রায় ২০০।
৮৫ বছর বয়সে এমএ পাস করেও থামতে চান না গোদারা। তাঁর পরবর্তী লক্ষ্য পিএইচডি অথবা আইন বিষয়ে ডিগ্রি অর্জন। তাঁর ভাষায়, বয়স কখনো শেখার পথে বাধা হওয়া উচিত নয়; শিক্ষা মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি ও চিন্তার পরিধি আরও বিস্তৃত করে।
৭৬ বছর বয়সে নতুন করে পড়াশোনা শুরু করে ৮১ বছরে স্নাতক এবং ৮৫ বছরে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জনের এই যাত্রাকে তিনি জীবনের আরেকটি ধাপ হিসেবে দেখছেন—শেষ গন্তব্য হিসেবে নয়।
✍️ মন্তব্য লিখুন