Aঅনলাইন ডেস্ক
ইরানের পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের পথ ঠেকাতে সামরিক হামলার নির্দেশ দিয়ে ইসরায়েলকে রক্ষা করেছেন বলে দাবি করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাঁর দাবি, ইরান পারমাণবিক অস্ত্রের অধিকারী হলে ইসরায়েলসহ পুরো মধ্যপ্রাচ্যের অস্তিত্ব হুমকির মুখে পড়ত। যুক্তরাষ্ট্রের পদক্ষেপের কারণেই আজও ইসরায়েল ও মধ্যপ্রাচ্য টিকে আছে।
শুক্রবার (৬ নভেম্বর) নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে এসব দাবি করেন ট্রাম্প।
পোস্টে ট্রাম্প বলেন, ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন থেকে বিরত রাখতে তিনি পদক্ষেপ না নিলে আজ ইসরায়েল ও পুরো মধ্যপ্রাচ্যের অস্তিত্ব থাকত না। তাঁর ভাষায়, এ বাস্তবতা কেউ প্রকাশ্যে স্বীকার করতে না চাইলেও সবাই বিষয়টি জানেন।
এর আগেও বিভিন্ন সময়ে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে দেশটির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন ট্রাম্প। তাঁর প্রশাসনের যুক্তি, ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে সক্ষম হলে তা ইসরায়েল ও মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে উঠবে।
চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানে সামরিক অভিযান শুরু করে। কয়েক মাস ধরে চলা সংঘাতের পরও অঞ্চলটিতে উত্তেজনা পুরোপুরি কাটেনি। ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি এবং দেশটির সামরিক সক্ষমতা নিয়ে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে বিরোধ অব্যাহত রয়েছে।
এদিকে ইসরায়েলকে দেওয়া সামরিক সহায়তা নিয়েও নতুন বক্তব্য দিয়েছেন ট্রাম্প। তাঁর ভাষ্য, চলতি বছর থেকে ইসরায়েলকে মার্কিন সামরিক সহায়তা বন্ধ করা হতে পারে। কারণ, ইসরায়েল এখন নিজের প্রয়োজনীয় সামরিক সরঞ্জাম কেনার সক্ষমতা অর্জন করেছে। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইসরায়েলের ১০ বছর মেয়াদি সামরিক সহায়তা চুক্তির আওতায় বছরে প্রায় ৩৮০ কোটি ডলারের সহায়তা দেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে।
ইরান ইস্যুতে ভবিষ্যৎ সামরিক পদক্ষেপের বিষয়ে অবশ্য স্পষ্ট কোনো সিদ্ধান্ত জানাননি ট্রাম্প। এর আগে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি ইরানে নতুন করে হামলার সম্ভাবনা নাকচ না করে বলেন, পরিস্থিতি অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ সম্পর্কে শিগগিরই জানা যাবে।
বিশ্লেষকদের মতে, ইরানকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ও কূটনৈতিক অবস্থান মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে চলমান আলোচনা এবং নতুন করে সামরিক সংঘাতের আশঙ্কা এ অঞ্চলের দেশগুলোর জন্য উদ্বেগের বিষয় হয়ে রয়েছে।
✍️ মন্তব্য লিখুন