৫ নভেম্বর ২০২৬
নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা
আগামী এক থেকে দুই মাসের মধ্যে তৈরি পোশাকশিল্পের শ্রমিকদের জন্য নতুন ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণ করা হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শ্রমিকদের মজুরিসংক্রান্ত দাবি পর্যালোচনা ও নতুন মজুরি কাঠামো নির্ধারণে গঠিত মজুরি বোর্ড ইতিমধ্যে কাজ শুরু করেছে বলেও জানান তিনি।
বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) দুপুরে বাগেরহাটের কাটাখালী মোড়ে খুলনা-মোংলা মহাসড়কে আয়োজিত এক পথসভায় এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। হজরত খান জাহান আলী (রহ.)-এর মাজার জিয়ারতে যাওয়ার পথে তিনি সেখানে বক্তব্য দেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, পোশাকশ্রমিকদের মজুরি নিয়ে বিভিন্ন দাবি রয়েছে। সরকার এসব দাবি বিবেচনায় নিয়ে ইতিমধ্যে মজুরি বোর্ড গঠন করেছে। বোর্ড তার কার্যক্রমও শুরু করেছে। আগামী এক থেকে দুই মাসের মধ্যে নতুন ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণ করা হবে, যাতে শ্রমিকেরা আগের তুলনায় ভালোভাবে জীবনযাপন করতে পারেন।
এ সময় দেশের বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে শ্রমিক অসন্তোষ ও কারখানায় ভাঙচুরের ঘটনা নিয়েও কথা বলেন তারেক রহমান। তিনি বলেন, সরকার দেশে কর্মসংস্থান সৃষ্টি, শিল্পের প্রসার এবং ব্যবসা-বাণিজ্যের পরিবেশ উন্নয়নে কাজ করছে। এমন পরিস্থিতিতে শিল্পকারখানায় হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা দেশের অর্থনীতি এবং শ্রমিকদের জীবিকার জন্য ক্ষতিকর।
তিনি আরও বলেন, কোনো শ্রমজীবী মানুষ নিজের কর্মস্থল ও শিল্পকারখানার ক্ষতি চাইবেন না। কারণ, শিল্পকারখানা ধ্বংস হলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হন শ্রমিকেরা এবং তাঁদের পরিবারের সদস্যরা। তাই শিল্পের স্বার্থ রক্ষায় শ্রমিকসহ সর্বস্তরের মানুষকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান তিনি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের শিল্প ও অর্থনীতিকে এগিয়ে নিতে সরকার দিনরাত কাজ করছে। বন্ধ হয়ে যাওয়া সরকারি-বেসরকারি শিল্পকারখানা পুনরায় চালু করা, দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করা এবং নতুন শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার মাধ্যমে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের।
মজুরি নির্ধারণে প্রেক্ষাপট
এর আগে গত ১ নভেম্বর তৈরি পোশাকশ্রমিকদের নতুন ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণের জন্য ছয় সদস্যের অষ্টম নিম্নতম মজুরি বোর্ড গঠন করে সরকার। শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে চলমান অসন্তোষের পরিপ্রেক্ষিতে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়।
গত বুধবার (৪ নভেম্বর) রাজধানীর সেগুনবাগিচায় মজুরি বোর্ডের প্রথম সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভা শেষে মালিক ও শ্রমিকপক্ষের প্রতিনিধিরা জানান, নতুন মজুরি কাঠামো আগামী ১ ডিসেম্বর থেকে কার্যকর করার বিষয়ে তাঁরা একমত হয়েছেন। সে অনুযায়ী, ডিসেম্বর মাসের বর্ধিত বেতন জানুয়ারিতে পরিশোধের বিষয়ে প্রাথমিক সমঝোতা হয়েছে। তবে নতুন মজুরির পরিমাণ এখনো চূড়ান্ত হয়নি।
উল্লেখ্য, বর্তমানে তৈরি পোশাকশিল্পের শ্রমিকদের সর্বনিম্ন মাসিক মজুরি ১২ হাজার ৫০০ টাকা। শ্রমিকদের পক্ষ থেকে তা বাড়িয়ে ৩০ হাজার টাকা করার দাবি জানানো হয়েছে। নতুন মজুরি নির্ধারণের ক্ষেত্রে শ্রমিকদের জীবনযাত্রার ব্যয়, শিল্পের সক্ষমতা এবং মালিক-শ্রমিক উভয় পক্ষের প্রস্তাব বিবেচনায় নেওয়া হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
দেশের রপ্তানি আয়ের অন্যতম প্রধান খাত তৈরি পোশাকশিল্প। এ খাতে প্রায় ৪০ লাখ শ্রমিক কর্মরত। ফলে নতুন মজুরি কাঠামো নির্ধারণের সিদ্ধান্ত শ্রমিকদের জীবনমানের পাশাপাশি দেশের শিল্প ও অর্থনীতিতেও গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে।
✍️ মন্তব্য লিখুন