বিশেষ প্রতিনিধি | ৩ নভেম্বর ২০২৬
দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করার চেষ্টা শুধু ডিসেম্বর মাসকে কেন্দ্র করে নয়, বরং শেখ হাসিনা যত দিন জীবিত থাকবেন, তত দিন এ ধরনের তৎপরতা চলতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। এসব অপচেষ্টা প্রতিহত করার কথাও জানিয়েছেন তিনি।
মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) সচিবালয়ে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
শেখ হাসিনার দেশে ফেরার পথ তৈরি করতে আগামী ডিসেম্বরকে কেন্দ্র করে দেশে অস্থিরতা সৃষ্টি করা হচ্ছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে জাহেদ উর রহমান বলেন, বিষয়টি শুধু ডিসেম্বরের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। শেখ হাসিনা জীবিত থাকা পর্যন্ত এ ধরনের চেষ্টা অব্যাহত থাকতে পারে বলে সরকার মনে করছে।
তিনি বলেন, ‘এটা ডিসেম্বর না। এটা পুরো সময়, যত দিন উনি বেঁচে আছেন, উনার এই চেষ্টা চলবে বলে আমরা মনে করি এবং আমরা এটাকে প্রতিহত করব।’
আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, রাজনৈতিক দল হিসেবে আওয়ামী লীগ এখন সরাসরি কিছু করতে পারবে বলে সরকার মনে করে না। তবে দলটির হাতে থাকা অর্থ ব্যবহার করে বিভিন্ন জায়গায় নাশকতা সৃষ্টির চেষ্টা হতে পারে বলে আশঙ্কা রয়েছে।
পোশাকশ্রমিকদের আন্দোলন ঘিরে সহিংসতা ও অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরির অভিযোগ প্রসঙ্গেও কথা বলেন তিনি। তাঁর দাবি, শ্রমিকদের ন্যায্য দাবির আন্দোলনের সঙ্গে অন্য পক্ষের সম্পৃক্ততা থাকতে পারে। তবে প্রকৃত শ্রমিকদের আন্দোলন এবং এর সুযোগ নিয়ে কেউ সহিংসতা বা নাশকতা করলে—দুটি বিষয়কে এক করে দেখা উচিত নয়।
শ্রমিকদের মজুরি প্রসঙ্গে জাহেদ উর রহমান বলেন, সাধারণত পাঁচ বছর পরপর পোশাকশ্রমিকদের মজুরি পুনর্নির্ধারণ করা হয়। ২০০৬, ২০১০, ২০১৩, ২০১৮ ও ২০২৩ সালে মজুরি পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছিল। সে হিসাবে ২০২৬ সালে নতুন করে মজুরি বোর্ড গঠনের বাধ্যবাধকতা না থাকলেও জীবনযাত্রার ব্যয় ও মূল্যস্ফীতি বিবেচনায় সরকার আগেভাগেই মজুরি বোর্ড গঠন করেছে।
তিনি আরও বলেন, শ্রমিকদের জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়েছে এবং তাঁদের জীবন কঠিন হয়ে উঠেছে—এ বাস্তবতা সরকার স্বীকার করে। শ্রমিকদের ন্যায্য দাবির বিষয়টি আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের সুযোগ তৈরি করতেই আগাম মজুরি বোর্ড গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সরকারের অবস্থান তুলে ধরে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, অস্থিরতা মোকাবিলায় সরকার আগের মতো দমন-পীড়নের পথ অনুসরণ করতে চায় না। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে আইন মেনে এবং পরিস্থিতি বিবেচনায় আনুপাতিক হারে বল প্রয়োগ করতে হবে। একই সঙ্গে সাধারণ মানুষ যাতে অযথা ভোগান্তি, ভয়ভীতি ও ক্ষয়ক্ষতির শিকার না হন, সে বিষয়েও সতর্ক থাকার কথা জানান তিনি।
উল্লেখ্য, রাজধানীর মিরপুরসহ বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে পোশাকশ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে কয়েক দিন ধরে বিক্ষোভ ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটছে। এসব পরিস্থিতির মধ্যে শ্রমিকদের দাবি-দাওয়া, সহিংসতা এবং রাজনৈতিক অস্থিরতার আশঙ্কা নিয়ে সরকারের পক্ষ থেকে বক্তব্য এল।
✍️ মন্তব্য লিখুন