নিজস্ব প্রতিবেদক
রাজধানী ঢাকার বায়ুমান আবারও উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বায়ুদূষণের কারণে নগরবাসীর স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ছে। বিশেষ করে শিশু, বয়স্ক ব্যক্তি এবং শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যায় ভোগা মানুষের জন্য দূষিত বাতাস বাড়তি ঝুঁকি তৈরি করছে।
বায়ুমানের সূচক (একিউআই) অনুযায়ী, বাতাসের মান নির্ধারণ করা হয়। তবে ঢাকার বৈশ্বিক অবস্থান ও দূষণের মাত্রা সময়ের সঙ্গে পরিবর্তিত হয়। তাই নির্দিষ্ট সময়ের তথ্যের ভিত্তিতে অবস্থান উল্লেখ করা জরুরি।
বিশ্বে পঞ্চম অবস্থানে
সুইজারল্যান্ডভিত্তিক বায়ুমান পর্যবেক্ষণকারী প্রতিষ্ঠান আইকিউএয়ারের (IQAir) তথ্য অনুযায়ী, ২ নভেম্বর ২০২৬, সোমবার সকাল ৮টা ১৫ মিনিটের বৈশ্বিক দূষিত শহরের তালিকায় ঢাকা ছিল পঞ্চম স্থানে। এ সময় ঢাকার বায়ুমান সূচক (একিউআই) ছিল ১৬৪। একই সময়ে তালিকায় প্রথম স্থানে ছিল পাকিস্তানের লাহোর। দ্বিতীয়, তৃতীয় ও চতুর্থ স্থানে ছিল যথাক্রমে ভারতের নয়াদিল্লি, মিসরের কায়রো ও ভারতের কলকাতা।
একিউআই ১৬৪, কী বোঝায় এই মাত্রা?
আইকিউএয়ারের পরিমাপ অনুযায়ী, একিউআই ১৫১ থেকে ২০০-এর মধ্যে থাকলে বাতাসকে ‘অস্বাস্থ্যকর’ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এ অবস্থায় সুস্থ মানুষেরও শারীরিক অস্বস্তি দেখা দিতে পারে। বিশেষ করে শিশু, প্রবীণ ব্যক্তি এবং শ্বাসকষ্ট বা হৃদ্রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের স্বাস্থ্যঝুঁকি বেশি থাকে।
দূষণের কারণ কী?
বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্ষা বিদায়ের পর শুষ্ক মৌসুম শুরু হলে দেশের বায়ুমানের অবনতি ঘটে। এ সময় বাতাসে ধুলাবালু ও সূক্ষ্ম বস্তুকণার উপস্থিতি বাড়ে। ইটভাটার ধোঁয়া, যানবাহনের নির্গত ধোঁয়া, নির্মাণকাজের ধুলা এবং শিল্পকারখানার দূষণও বায়ুদূষণের অন্যতম উৎস।
পরিবেশ অধিদপ্তরের বায়ুমান পর্যবেক্ষণসংক্রান্ত তথ্যের বরাতে বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস) জানিয়েছে, শুষ্ক মৌসুমে বাতাসের প্রবাহের পরিবর্তন এবং ইটভাটার কার্যক্রম বেড়ে যাওয়ায় দূষণের মাত্রা বাড়তে পারে।
স্বাস্থ্য সুরক্ষায় করণীয়
বায়ুমান অস্বাস্থ্যকর থাকলে অপ্রয়োজনে বাইরে অবস্থান না করা, খোলা জায়গায় শরীরচর্চা এড়িয়ে চলা এবং বাইরে বের হলে ভালো মানের এন৯৫ বা সমমানের মাস্ক ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়। ঘরের দরজা-জানালা বন্ধ রাখা এবং বায়ু পরিশোধক ব্যবহার করাও সহায়ক হতে পারে।
রাজধানীর বায়ুদূষণ কেবল পরিবেশগত সমস্যা নয়, এটি জনস্বাস্থ্যের জন্যও বড় উদ্বেগের বিষয়। বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত নজরদারি, নির্মাণকাজে ধুলা নিয়ন্ত্রণ, যানবাহনের নির্গমন কমানো এবং ইটভাটার দূষণ নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ জরুরি।
✍️ মন্তব্য লিখুন