নিজস্ব প্রতিবেদক
বিমানবাহিনীর সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট কে এম তাহসিফ সাউরির মৃত্যুর ঘটনায় দায়ের করা হত্যা মামলায় তাঁর বান্ধবী জেরিকা তাসনীম দিশাকে গ্রেপ্তার করেছে নৌ পুলিশ। পরে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য চার দিনের রিমান্ডে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত।
রোববার (১ নভেম্বর) ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত এ আদেশ দেন। এর আগে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা দিশাকে সাত দিনের রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মুহাম্মদ শামসুদ্দোহা সুমন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শনিবার দিবাগত রাত প্রায় দুইটার দিকে রাজধানীর কাফরুল এলাকার নিজ বাসা থেকে দিশাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁর বয়স ১৯ বছর।
তদন্তসংশ্লিষ্টদের দাবি, বিভিন্ন স্থানের সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, গত ২৭ অক্টোবর রাতে তাহসিফের সঙ্গে উত্তরার একটি রেস্টুরেন্ট ও বারে গিয়েছিলেন দিশা। সেখানে তাহসিফের বন্ধু আহমেদ শাহরিয়ার রেজা দীপও উপস্থিত ছিলেন। রাত ১০টা ১৭ মিনিটের দিকে তাঁরা রেস্টুরেন্টে প্রবেশ করেন এবং প্রায় দেড় ঘণ্টা পর সেখান থেকে বেরিয়ে যান।
এ ছাড়া তদন্তে তাহসিফ ও দিশার মধ্যে একাধিকবার ফোনে যোগাযোগের তথ্য পাওয়া গেছে বলে আদালতে দাখিল করা রিমান্ড আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। একটি মোটরসাইকেল গ্যারেজেও তাঁদের একসঙ্গে দেখা যাওয়ার তথ্য পেয়েছেন তদন্তকারীরা।
তদন্ত কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, তাহসিফের মৃত্যুর আগে কী ঘটেছিল, ঘটনার সঙ্গে কারা জড়িত এবং অন্য কোনো ব্যক্তি এ ঘটনায় সম্পৃক্ত কি না, তা জানতে দিশাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে আগে গ্রেপ্তার হওয়া দীপের বক্তব্যের সঙ্গে দিশার বক্তব্য মিলিয়ে দেখার কথাও বলা হয়েছে।
এর আগে একই মামলায় তাহসিফের বন্ধু আহমেদ শাহরিয়ার রেজা দীপকে গ্রেপ্তার করা হয়। শনিবার আদালত তাঁরও চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। তদন্তকারীরা তাঁর দেওয়া তথ্য ও অন্যান্য আলামত যাচাই করছেন।
উল্লেখ্য, গত ২৮ অক্টোবর বিকেলে রাজধানীর উত্তরখানের রাজাবাড়ি ঘাটসংলগ্ন তুরাগ নদ থেকে তাহসিফ সাউরির মরদেহ উদ্ধার করে নৌ পুলিশ। এর আগে ২৭ অক্টোবর সন্ধ্যায় তিনি বাসা থেকে বের হয়েছিলেন। রাতে মাকে ভয়েস বার্তা পাঠিয়ে বাসায় ফেরার কথা জানালেও আর ফিরে আসেননি।
তাহসিফের বাবা কে এম এনায়েতুল করিম ছেলের মৃত্যুর ঘটনায় উত্তরখান থানায় অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করে হত্যা মামলা করেন। মামলায় তাঁর ছেলেকে বন্ধু দীপ বাসা থেকে ডেকে নিয়ে যাওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করা হয়।
তাহসিফের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ, ঘটনার সঙ্গে কারা জড়িত এবং কীভাবে তাঁর মৃত্যু হয়েছে—এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। তবে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কারও সংশ্লিষ্টতা সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই।
তথ্যসূত্র: বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস), দ্য ডেইলি স্টার ও সময়ের আলো।
✍️ মন্তব্য লিখুন