আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ভারতের রাজধানী দিল্লিতে যমুনা নদীর পানিতে ডুব দিয়ে নদীর দূষণ অর্ধেক কমে যাওয়ার দাবি করেছেন ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) সংসদ সদস্য মনোজ তিওয়ারি। বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) দিল্লির সোনিয়া বিহার ঘাটে নদীতে গোসল করার পাশাপাশি যমুনার পানি পানও করেন তিনি। তাঁর দাবি, দিল্লির রेखা গুপ্তার নেতৃত্বাধীন বিজেপি সরকারের পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমের ফলে গত দেড় বছরে নদীর দূষণের মাত্রা উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।
উত্তর-পূর্ব দিল্লির লোকসভা আসনের এই সংসদ সদস্য বলেন, যমুনার বিভিন্ন স্থানে পরিযায়ী পাখির উপস্থিতি নদীর পরিবেশের উন্নতির ইঙ্গিত দেয়। তাঁর ভাষ্য, নদীর পানি পরিষ্কার না হলে এসব পাখির সেখানে আসার কথা নয়। তিনি আরও দাবি করেন, বিজেপি সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর যমুনার প্রায় অর্ধেক অংশের দূষণ নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছে। বাকি অংশের পরিচ্ছন্নতার কাজ আগামী তিন বছরের মধ্যে শেষ করা হবে।
মনোজ তিওয়ারি বলেন, আগে আম আদমি পার্টি (আপ) যমুনার দূষণের জন্য হরিয়ানা সরকারকে দায়ী করত। কিন্তু বিজেপি সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর নদী পরিষ্কারে দৃশ্যমান অগ্রগতি হয়েছে। তিনি আসন্ন ছটপূজায় ভক্তদের আবারও যমুনার তীরে ধর্মীয় আচার পালনের আহ্বান জানান।
তবে বিজেপি নেতার এই দাবির বিরোধিতা করেছে আম আদমি পার্টি (আপ)। দলটির দিল্লি শাখার সভাপতি ও সাবেক মন্ত্রী সৌরভ ভরদ্বাজ বলেন, পল্লা থেকে ওয়াজিরাবাদ পর্যন্ত প্রায় ২৬ কিলোমিটার অংশ ঐতিহাসিকভাবেই তুলনামূলক পরিষ্কার। তাঁর দাবি, দিল্লি দূষণ নিয়ন্ত্রণ কমিটির (ডিপিসিসি) প্রতিবেদনেও আপ সরকারের আমলে ওই অংশের পানির মান ভালো থাকার তথ্য রয়েছে।
বিজেপির দাবির পাল্টা চ্যালেঞ্জ জানিয়ে সৌরভ ভরদ্বাজ মনোজ তিওয়ারি ও দিল্লির পানিসম্পদমন্ত্রী পরবেশ ভার্মাকে কালিন্দী কুঞ্জ ঘাটের পানি পান করার আহ্বান জানান। তাঁর বক্তব্য, যমুনার সবচেয়ে দূষিত অংশগুলোর একটি হলো ওয়াজিরাবাদ থেকে ওখলা পর্যন্ত প্রায় ২২ কিলোমিটার এলাকা। ফলে নদীর একটি তুলনামূলক পরিষ্কার অংশে গোসল করলেই পুরো নদীর পানির মান সম্পর্কে সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায় না।
এদিকে যমুনা পরিষ্কারে সম্প্রতি ৮ হাজার ৯৪১ কোটি রুপি ব্যয়ে ৪৩টি প্রকল্পের উদ্বোধন করেছেন ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। ২০২৯ সালের মে মাসের মধ্যে দিল্লি অংশের যমুনা পরিষ্কারের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে বিজেপি সরকার।
তবে দিল্লির পানিমন্ত্রী পরবেশ ভার্মা স্বীকার করেছেন, পুরো নদী দূষণমুক্ত করতে আরও আড়াই থেকে তিন বছর সময় লাগতে পারে। তাঁর দাবি, পল্লা থেকে ওয়াজিরাবাদ পর্যন্ত অংশ পরিষ্কার করা হয়েছে এবং ওয়াজিরাবাদ থেকে কালিন্দী কুঞ্জ পর্যন্ত পরিচ্ছন্নতার কাজ চলছে।
এদিকে এনডিটিভির প্রকাশিত ডিপিসিসির পানির গুণগত মানসংক্রান্ত তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, আইটিও এলাকায় পানিতে জৈব দূষণের নির্দেশক বায়োকেমিক্যাল অক্সিজেন ডিমান্ডের (বিওডি) মাত্রা ২০২৫ সালের জুলাইয়ে প্রতি লিটারে ৭০ মিলিগ্রাম থেকে কমে ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরে ১৮ মিলিগ্রাম হয়েছে। তবে গোসলের পানির জন্য নির্ধারিত মান প্রতি লিটারে ৩ মিলিগ্রাম বা তার কম। অর্থাৎ উন্নতি হলেও ওই এলাকার পানি এখনো নির্ধারিত মানের চেয়ে অনেক বেশি দূষিত।
যমুনার দূষণ নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিজেপি ও আপের পাল্টাপাল্টি বক্তব্যের মধ্যেই নদীর পানির প্রকৃত মান, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমের কার্যকারিতা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
✍️ মন্তব্য লিখুন