নিজস্ব প্রতিবেদক | ঢাকা
সৌদি আরবে অগ্নিকাণ্ডে নিহত প্রবাসী বাংলাদেশিদের মরদেহ দেশে ফেরার অপেক্ষায় দিন কাটছে স্বজনদের। জীবিকার তাগিদে বিদেশে পাড়ি জমানো মানুষগুলোর এমন করুণ পরিণতিতে পরিবারগুলোতে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। প্রিয়জনের মরদেহ শেষবারের মতো দেখার আকুতি আর অনিশ্চয়তা নিয়ে অপেক্ষা করছেন স্বজনেরা।
২০২৬ সালের ৯ আগস্ট সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের একটি সোফা তৈরির কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ১৬ বাংলাদেশি শ্রমিক নিহত হন। তাঁদের অধিকাংশই নওগাঁ, নাটোর ও রাজশাহী জেলার বাসিন্দা ছিলেন। আগুনে মরদেহগুলো মারাত্মকভাবে পুড়ে যাওয়ায় পরিচয় শনাক্তের ক্ষেত্রে জটিলতা দেখা দেয়।
পরবর্তী সময়ে আঙুলের ছাপ পরীক্ষার মাধ্যমে নয়জনের পরিচয় শনাক্ত করা হয়। ২৭ আগস্ট তাঁদের মরদেহ বাংলাদেশে পৌঁছায়। বাকি সাতজনের পরিচয় নিশ্চিত করতে ডিএনএ পরীক্ষার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল।
মরদেহ শনাক্ত ও দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া দীর্ঘ হওয়ায় স্বজনদের অপেক্ষা আরও বেদনাদায়ক হয়ে ওঠে। পরিবারের উপার্জনক্ষম সদস্যকে হারানোর শোকের পাশাপাশি তাঁদের ভবিষ্যৎ নিয়েও দেখা দেয় অনিশ্চয়তা।
প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে নিহতদের পরিবারকে আর্থিক সহায়তার ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল। শনাক্ত হওয়া নয়জনের প্রত্যেকের পরিবারকে লাশ পরিবহন ও দাফন খরচ বাবদ ৩৫ হাজার টাকা এবং এককালীন অনুদান হিসেবে তিন লাখ টাকা দেওয়ার সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়।
প্রবাসে কর্মরত বাংলাদেশিরা দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখলেও তাঁদের নিরাপত্তা, কর্মপরিবেশ এবং দুর্ঘটনার পর মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন থেকে যায়। এমন ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়ানোর পাশাপাশি প্রবাসী শ্রমিকদের নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করাও জরুরি।
সম্পাদকের নোট: ‘বেনাপোলে পাঁচ মরদেহের অপেক্ষায় স্বজনরা’ শিরোনামে ২২ আগস্ট ২০২৬ তারিখের একটি ভিডিও প্রতিবেদন পাওয়া গেছে। তবে পাঁচটি মরদেহের পরিচয়, পরিবারের অবস্থান এবং অপেক্ষার নির্দিষ্ট পরিস্থিতি স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা যায়নি। তাই শিরোনামের ‘পাঁচ মরদেহ’ অংশের সঙ্গে ওপরের প্রতিবেদনের তথ্য পুরোপুরি মেলে কি না, তা মূল প্রতিবেদন দেখে যাচাই করা প্রয়োজন।
✍️ মন্তব্য লিখুন