ঢাকার ফুটপাত দখলমুক্ত করার অভিযান নতুন কোনো ঘটনা নয়। বছরের পর বছর ধরে রাজধানীর গুলিস্তান, মতিঝিল, নিউমার্কেট, ফার্মগেট ও মিরপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় হকার উচ্ছেদ হয়েছে। অভিযান শেষে কিছুদিন ফুটপাত চলাচলের উপযোগী থাকলেও অনেক জায়গায় আবার হকাররা বসে পড়েন। এরপর শুরু হয় নতুন অভিযান, পুনর্বাসনের দাবি এবং নতুন আশ্বাস।
প্রতিবার উচ্ছেদের মুখে হকারদের পক্ষ থেকে বলা হয়, তাঁদের বিকল্প কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে হবে, হকার্স মার্কেটে দোকান দিতে হবে এবং স্থায়ীভাবে পুনর্বাসন করতে হবে। প্রশ্ন হলো, ঢাকায় এত বছর ধরে হকার পুনর্বাসনের জন্য যেসব মার্কেট নির্মাণ করা হয়েছে, যেসব জায়গা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে এবং যেসব উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, সেগুলোর ফলাফল কোথায়?
হকার পুনর্বাসনের ইতিহাস, মার্কেটের সংখ্যা এবং বারবার ফুটপাত দখলে ফিরে আসার কারণ—এসবের জবাব না পাওয়া পর্যন্ত উচ্ছেদ ও পুনর্বাসনের এই চক্র ভাঙা কঠিন।
ঢাকায় হকার্স মার্কেট কতটি?
২০২৬ সালের মে মাসে প্রকাশিত সংবাদ প্রতিবেদনে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের অধীনে মোট ১২৯টি মার্কেট থাকার কথা বলা হয়েছে। এর মধ্যে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ৯১টি এবং ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ৩৮টি। তবে এই ১২৯টি মার্কেটের সবগুলোই হকারদের পুনর্বাসনের জন্য নির্মিত নয়।
সমকালের ২০ মে ২০২৬-এর একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী, গুলিস্তান ও আশপাশের এলাকায় হকারদের জন্য অন্তত ২১টি বহুতল মার্কেট রয়েছে। কিন্তু এসব মার্কেটের সব দোকান প্রকৃত হকারদের হাতে রয়েছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
এখানে একটি মৌলিক প্রশ্ন থেকেই যায়। স্বাধীনতার পর থেকে ঢাকায় হকার পুনর্বাসনের উদ্দেশ্যে ঠিক কতটি মার্কেট নির্মিত হয়েছে, কতজন হকারকে দোকান বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে এবং তাঁদের মধ্যে কতজন এখনো সেই দোকানে ব্যবসা করছেন—এসব তথ্য একত্র করে প্রকাশ করা প্রয়োজন।
উন্মুক্ত সংবাদসূত্রে পাওয়া তথ্য দিয়ে স্বাধীনতার পর থেকে সব উদ্যোগের একটি পূর্ণাঙ্গ ও যাচাইকৃত সংখ্যা নির্ধারণ করা যাচ্ছে না। তাই ২১টি বা ১২৯টির কোনো সংখ্যাকেই ঢাকার সব হকার্স মার্কেটের চূড়ান্ত সংখ্যা হিসেবে দাবি করা যাবে না।
সূত্র: সমকাল—হকার্স মার্কেটে হাতেগোনা হকার | আজকের পত্রিকা—রাজধানীর ফুটপাত
পুনর্বাসনের পরও কেন ফুটপাতে ফিরে আসেন হকাররা?
এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে হলে হকারদের জীবিকা, ক্রেতাদের আচরণ এবং শহরের বাণিজ্যিক বাস্তবতা বুঝতে হবে। গুলিস্তান, মতিঝিল কিংবা নিউমার্কেটের মতো এলাকায় ক্রেতাদের চলাচল বেশি। একজন হকারের কাছে এসব জায়গা তাঁর প্রতিদিনের আয়ের প্রধান উৎস। তাঁকে যদি এমন একটি মার্কেটে দোকান দেওয়া হয় যেখানে ক্রেতা কম, খরচ বেশি কিংবা ব্যবসা চালানোর মতো পরিবেশ নেই, তাহলে তিনি সেখানে যেতে আগ্রহী হবেন কি না, সেটি বিবেচনা করতে হবে।
তবে ক্রেতা বেশি বলে ফুটপাত দখল করে ব্যবসা করার অধিকার কারও তৈরি হয় না। একজন ব্যবসায়ীর জীবিকার অধিকার যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি একজন নাগরিকের নিরাপদে হাঁটার অধিকারও সমান গুরুত্বপূর্ণ।
শুধু একটি দোকান বা নির্দিষ্ট জায়গা বরাদ্দ করলেই পুনর্বাসন সম্পন্ন হয় না। সেই জায়গায় ব্যবসা চালানোর বাস্তব সুযোগ আছে কি না, সেটিও নিশ্চিত করতে হয়।
হকার্স মার্কেটে দোকান আছে, কিন্তু প্রকৃত হকাররা কোথায়?
হকার পুনর্বাসন নিয়ে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নগুলোর একটি হলো—যাঁদের জন্য মার্কেট নির্মাণ করা হয়েছিল, তাঁরা কি সত্যিই সেখানে দোকান পেয়েছেন?
সমকালের ২০ মে ২০২৬-এর প্রতিবেদনে ঢাকা ট্রেড সেন্টার (উত্তর)-এর ১০ জন দোকানমালিকের তথ্য বিশ্লেষণ করে বলা হয়, তাঁদের মধ্যে মাত্র একজন আগে হকার ছিলেন। অন্যদিকে, আজকের পত্রিকার ২৫ মে ২০২৬-এর প্রতিবেদনে একই মার্কেটে কথা বলা ১৫ জন দোকানমালিকের মধ্যে মাত্র দুজনের আগে ফুটপাতে ব্যবসা করার তথ্য পাওয়া যায়।
হকারদের প্রতিনিধিদের অভিযোগ, কিছু মার্কেটে প্রকৃত হকারদের বদলে অন্য ব্যক্তিরা দোকান পেয়েছেন। কোথাও বরাদ্দে প্রভাব খাটানো, কোথাও দোকান ভাড়া দেওয়ার মতো অনিয়মের অভিযোগও সংবাদে এসেছে। এসব অভিযোগ পৃথকভাবে যাচাই করা প্রয়োজন; তবে প্রতিবেদনগুলো পুনর্বাসন ব্যবস্থার স্বচ্ছতা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন তুলেছে।
যদি কোনো মার্কেট হকারদের পুনর্বাসনের উদ্দেশ্যে নির্মিত হয়ে থাকে, তাহলে সেখানে কারা দোকান পেয়েছেন, তাঁদের আগের পেশা কী ছিল, দোকানটি এখন কার দখলে এবং বরাদ্দের শর্ত মানা হচ্ছে কি না—এসব তথ্য প্রকাশ করা জরুরি।
সূত্র: সমকাল | আজকের পত্রিকা
২০০৭ ও ২০১৭ সালের উদ্যোগের পরিণতি কী হয়েছিল?
হকার পুনর্বাসনের ইতিহাসে আগেও একাধিক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। দ্য ডেইলি স্টারের ২০২২ সালের একটি প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০০৭ সালে ঢাকা সিটি করপোরেশন সপ্তাহান্তে চালু রাখার জন্য নগরীর ২০টি স্থানে হলিডে মার্কেটের উদ্যোগ নিয়েছিল। কিন্তু কয়েক মাসের মধ্যেই উদ্যোগটি কার্যত ব্যর্থ হয়।
২০১৭ সালে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন প্রায় ৬ হাজার হকারের একটি তালিকা তৈরি করে এবং তাঁদের স্থানান্তর ও পুনর্বাসনের জন্য ৩ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখে। কিন্তু সেই উদ্যোগও প্রত্যাশিত ফল দেয়নি। গুলিস্তান ও মতিঝিলসহ বিভিন্ন এলাকার উচ্ছেদ হওয়া হকারদের আবার আগের জায়গায় ফিরে আসার খবর প্রকাশিত হয়েছিল।
একটি উদ্যোগ ব্যর্থ হওয়ার পর তার কারণ অনুসন্ধান করে পরবর্তী পরিকল্পনা করা হয়েছিল কি না, সেটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। হকাররা নির্ধারিত স্থানে যেতে না চাইলে কেন চান না? দোকান বরাদ্দ দেওয়া হলে সেই বরাদ্দের শর্ত অনুসরণ করা হচ্ছে কি না? পুনর্বাসনের পরও ফুটপাত দখল হলে দায় কার?
প্রতিবার নতুন প্রকল্প ঘোষণা করলেই আগের প্রকল্পের ব্যর্থতা আড়াল করা যায় না। আগের উদ্যোগের ব্যয়, উপকারভোগীর সংখ্যা, বর্তমান অবস্থা এবং ব্যর্থতার কারণ প্রকাশ করেই নতুন পরিকল্পনা গ্রহণ করা উচিত।
সূত্র: The Daily Star
২০২৬ সালেও একই সমস্যা, নতুন নীতিমালা কতটা কার্যকর হবে?
২০২৬ সালে ঢাকার হকারদের নিয়ন্ত্রণ ও পুনর্বাসনের জন্য নতুন নীতিমালা এবং নিবন্ধনভিত্তিক ব্যবস্থার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নির্দিষ্ট বিক্রয়স্থল, ডিজিটাল পরিচয়পত্র, হলিডে মার্কেট ও নৈশকালীন বাজারের মতো ব্যবস্থার কথা বলা হয়েছে।
এপ্রিলের শেষ দিকে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের উদ্যোগে গুলিস্তানের ১০০ হকারকে ডিজিটাল পরিচয়পত্র দিয়ে রমনা ভবনের পাশের লিংক রোডে স্থানান্তরের উদ্যোগ নেওয়া হয়। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনও মিরপুরের বিভিন্ন এলাকার হকারদের তালিকাভুক্ত করে নির্দিষ্ট স্থানে স্থানান্তরের কার্যক্রম শুরু করে।
কিন্তু উদ্যোগ নেওয়া আর স্থায়ী সমাধান প্রতিষ্ঠা করা এক বিষয় নয়। তালিকা থেকে পুরোনো হকারদের বাদ পড়া, নতুন ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্তি এবং বরাদ্দ নিয়ে অনিয়মের অভিযোগও সামনে এসেছে। উচ্ছেদের পর আবার দখল ফিরে আসার ঘটনাও বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।
সূত্র: The Daily Star—হকার ব্যবস্থাপনা উদ্যোগ | Dhaka Tribune—Evict, return, repeat
তাহলে আর কতবার পুনর্বাসন করতে হবে?
এই প্রশ্নের উত্তর কোনো নির্দিষ্ট সংখ্যা দিয়ে দেওয়া সম্ভব নয়। কারণ পুনর্বাসন কোনো এককালীন ঘোষণা নয়; এটি একটি ব্যবস্থাপনা প্রক্রিয়া। তবে একই সমস্যা বারবার ফিরে এলে সেই প্রক্রিয়ার কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তোলার যথেষ্ট কারণ রয়েছে।
১. সব হকার্স মার্কেটের তালিকা প্রকাশ করতে হবে
ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনকে হকার পুনর্বাসনের উদ্দেশ্যে নির্মিত সব মার্কেটের পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রকাশ করতে হবে। কোন মার্কেট কখন নির্মিত হয়েছে, কতটি দোকান রয়েছে, কতজনকে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল এবং বর্তমানে কতজন প্রকৃত হকার সেখানে ব্যবসা করছেন—এসব তথ্য জনগণের সামনে আনতে হবে।
২. দোকান বরাদ্দে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হবে
প্রকৃত হকারদের পরিচয় যাচাই করে দোকান বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল কি না, বরাদ্দ পাওয়া ব্যক্তি নিজে ব্যবসা করছেন কি না এবং দোকান অবৈধভাবে হস্তান্তর বা ভাড়া দেওয়া হয়েছে কি না, তা তদন্ত করতে হবে।
৩. ব্যবসার উপযোগী পুনর্বাসনস্থল নির্ধারণ করতে হবে
হকারদের এমন জায়গায় পাঠিয়ে দিলে চলবে না যেখানে ক্রেতা নেই বা ব্যবসা চালানো বাস্তবসম্মত নয়। তবে ক্রেতার সুবিধার নামে ফুটপাত পুরোপুরি দখল করে রাখার সুযোগও দেওয়া যাবে না।
৪. নির্দিষ্ট সময় ও স্থানভিত্তিক বাজার চালু করতে হবে
যেসব এলাকায় নৈশকালীন বাজার বা হলিডে মার্কেট করা সম্ভব, সেখানে সময়সীমা, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, চলাচলের জায়গা এবং অনুমোদিত বিক্রেতার সংখ্যা নির্ধারণ করতে হবে।
৫. উচ্ছেদের পর নিয়মিত তদারকি নিশ্চিত করতে হবে
অভিযান শেষে দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থা চলে যাওয়ার পর আবার ফুটপাত দখল হয়ে গেলে শুধু হকারদের দোষ দিয়ে সমস্যার সমাধান হবে না। অবৈধ দখল, অননুমোদিত বরাদ্দ এবং হকারদের কাছ থেকে অর্থ আদায়ের অভিযোগও তদন্ত করতে হবে।
হকারদের জীবিকা গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু ফুটপাত কারও ব্যক্তিগত সম্পত্তি নয়
হকারদের একটি বড় অংশ সীমিত পুঁজি নিয়ে জীবিকা নির্বাহ করেন। তাঁদের বাস্তবতা অস্বীকার করে শুধু উচ্ছেদ চালিয়ে গেলে সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে না। আবার জীবিকার যুক্তিতে ফুটপাত দখলকে স্থায়ীভাবে বৈধতা দেওয়াও গ্রহণযোগ্য নয়।
একজন পথচারী কেন নিজের হাঁটার জায়গা পাবেন না? একজন বয়স্ক মানুষ, শিশু, প্রতিবন্ধী ব্যক্তি কিংবা অসুস্থ মানুষ কেন ফুটপাত ছেড়ে ঝুঁকি নিয়ে মূল সড়কে হাঁটবেন? শহরের জনপরিসর সবার। সেখানে ব্যবসার সুযোগ তৈরি করতে হবে, কিন্তু তা হতে হবে নিয়মের মধ্যে।
পুনর্বাসন প্রকল্পের সাফল্য মাপতে হবে প্রকৃত হকারদের কতজন স্থায়ীভাবে পুনর্বাসিত হয়েছেন এবং ফুটপাত কতটা চলাচলযোগ্য হয়েছে, তার ভিত্তিতে। শুধু কতজনকে উচ্ছেদ করা হয়েছে, কতটি কার্ড দেওয়া হয়েছে বা কতটি প্রকল্প ঘোষণা করা হয়েছে—এসব দিয়ে সাফল্য বিচার করা যায় না।
শেষ প্রশ্ন: পুনর্বাসন, নাকি একই সমস্যার পুনরাবৃত্তি?
ঢাকায় হকার্স মার্কেট আছে, পুনর্বাসনের ইতিহাস আছে, একাধিক উদ্যোগের নজির আছে এবং নতুন নীতিমালাও এসেছে। তারপরও যদি ফুটপাত দখলমুক্ত রাখা না যায়, তাহলে এখন সবচেয়ে জরুরি কাজ হলো আগের উদ্যোগগুলোর পূর্ণাঙ্গ হিসাব প্রকাশ করা।
কতটি মার্কেট নির্মাণ করা হয়েছে? কতজন প্রকৃত হকার দোকান পেয়েছেন? কতজন সেখানে এখনো ব্যবসা করছেন? কতটি দোকান অন্যের দখলে বা ভাড়ায় চলছে? কতবার পুনর্বাসনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং প্রতিটি উদ্যোগের ফলাফল কী?
এই প্রশ্নগুলোর জবাব ছাড়া নতুন করে পুনর্বাসনের প্রতিশ্রুতি দেওয়া মানে একই সমস্যাকে আরেকবার ভবিষ্যতের দিকে ঠেলে দেওয়া।
ঢাকাকে হকারমুক্ত করার নামে মানুষের জীবিকা ধ্বংস করা যেমন সমাধান নয়, তেমনি হকারদের জীবিকার অজুহাতে নগরবাসীর ফুটপাত কেড়ে নেওয়াও সমাধান নয়। প্রয়োজন এমন একটি ব্যবস্থা, যেখানে প্রকৃত হকাররা নিয়ম মেনে ব্যবসা করতে পারবেন, পথচারীরা নিরাপদে চলতে পারবেন এবং সরকারি সম্পদ বরাদ্দে কোনো অনিয়মের সুযোগ থাকবে না।
আর তাই প্রশ্নটি শুধু ‘আর কতবার হকার উচ্ছেদ হবে?’ নয়; প্রশ্ন হলো, ‘এতবার পুনর্বাসনের পরও সমস্যার স্থায়ী সমাধান কেন হয়নি, আর আগের উদ্যোগগুলোর জবাবদিহি নিশ্চিত করবে কে?’

✍️ মন্তব্য লিখুন