আন্তর্জাতিক | ২৮ অক্টোবর ২০২৬
ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভার কাছে পরাজিত হওয়ার পর দেশ ছেড়েছেন ডানপন্থী প্রার্থী ও সিনেটর ফ্লাভিও বলসোনারো। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, তিনি যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশে যাত্রা করেছেন। তাঁর দেশত্যাগের খবর এমন সময়ে সামনে এসেছে, যখন অর্থপাচারসংক্রান্ত তদন্তের অংশ হিসেবে সুপ্রিম কোর্ট তাঁকে পাসপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন।
বার্তা সংস্থা রয়টার্স, অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি) ও আল–জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২৫ অক্টোবরের নির্বাচনে লুলার কাছে হেরে যাওয়ার পর ফ্লাভিওর অবস্থান ও দেশত্যাগের প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন দেখা দেয়। যুক্তরাষ্ট্রের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ফ্লাভিও ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের জন্য ভিসা দেওয়া হবে।
নির্বাচনের ফল ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট
২৫ অক্টোবর অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় দফার ভোটে লুলা ৫১ দশমিক ৮ শতাংশ ভোট পেয়ে জয়ী হন। ফ্লাভিও বলসোনারো ফল মেনে নেওয়ার বিষয়ে শুরুতে আপত্তি জানান এবং ভোটে অনিয়মের অভিযোগ তুলে ফল বাতিলের দাবি করার কথা বলেন। তবে তাঁর দল লিবারেল পার্টি পরে লুলার বিজয় স্বীকার করে। নির্বাচনে দুই প্রার্থীর ব্যবধান ছিল ৪৪ লাখের বেশি ভোট।
পাসপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ, তদন্তের মুখে ফ্লাভিও
নির্বাচনের পর সোমবার ব্রাজিলের সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি আলেকজান্দ্রে দে মোরায়েস ফ্লাভিওকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে পাসপোর্ট জমা দিতে নির্দেশ দেন। অর্থপাচারসংক্রান্ত একটি তদন্তের অংশ হিসেবে এ নির্দেশ দেওয়া হয়। অভিযোগের বিষয়ে ফ্লাভিও কোনো অপরাধ করার কথা অস্বীকার করেছেন।
নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পাসপোর্ট জমা না দেওয়ার পর তাঁর ব্রাজিলীয় ও কূটনৈতিক পাসপোর্ট বাতিল করা হয়েছে বলে সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট সূত্র। তবে তাঁর ইতালীয় নাগরিকত্বও রয়েছে বলে এএফপি জানিয়েছে। কীভাবে তিনি দেশ ছাড়লেন, তা নিয়ে শুরুতে অনিশ্চয়তা ছিল।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ফ্লাভিও, তাঁর স্ত্রী ও দুই মেয়ে প্রথমে আর্জেন্টিনার মিসিওনেস প্রদেশে প্রবেশ করেন। পরে তাঁরা একটি ব্যক্তিগত উড়োজাহাজে ইকুয়েডরের গুয়ায়াকিলের উদ্দেশে যাত্রা করেন। তাঁদের বর্তমান অবস্থান সম্পর্কে প্রতিবেদন প্রকাশের সময় নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা দেওয়ার ঘোষণা
ফ্লাভিও ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের জন্য ভিসা দেওয়া হবে বলে জানিয়েছে দেশটির পররাষ্ট্র দপ্তরের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও ফ্লাভিওর যুক্তরাষ্ট্রে আসার বিষয়ে সমর্থন জানিয়েছেন।
অন্যদিকে, লুলা বলেছেন, ফ্লাভিওর ব্রাজিলে থেকে নিজের নির্দোষিতা প্রমাণ করা উচিত ছিল। তাঁর দেশত্যাগকে তিনি লজ্জাজনক বলে মন্তব্য করেন। তবে ফ্লাভিওর বিরুদ্ধে চলমান তদন্তের অভিযোগ এখনো আদালতে প্রমাণিত অপরাধ হিসেবে বিবেচিত নয়।
ব্রাজিল-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কে নতুন টানাপোড়েন?
ফ্লাভিওর দেশত্যাগ ব্রাজিল ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার রাজনৈতিক টানাপোড়েন আরও বাড়াতে পারে বলে রয়টার্সের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। লুলা এর আগে বলসোনারো পরিবারের রাজনৈতিক প্রত্যাবর্তনে ওয়াশিংটনের ভূমিকা নিয়ে অভিযোগ করেছিলেন। তবে ফ্লাভিওর দেশত্যাগে যুক্তরাষ্ট্র সরকার সরাসরি সহায়তা করেছে—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর মতো পূর্ণাঙ্গ প্রমাণ প্রকাশিত হয়নি।
ফ্লাভিওর পরাজয়, তাঁর বিরুদ্ধে চলমান তদন্ত এবং যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার খবর—সব মিলিয়ে ব্রাজিলের রাজনীতিতে নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। এখন নজর থাকবে তদন্তের পরবর্তী অগ্রগতি, ফ্লাভিওর অবস্থান এবং বিরোধী রাজনীতিতে তাঁর ভূমিকার দিকে।
✍️ মন্তব্য লিখুন