নিজস্ব প্রতিবেদক
গাইবান্ধায় ডেঙ্গুর সংক্রমণ বাড়ছে। জেলার বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালে রোগীর চাপ বাড়লেও গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালে ডেঙ্গু আক্রান্ত অনেক রোগীকে মশারি ছাড়াই চিকিৎসা নিতে হচ্ছে। শয্যাসংকটের কারণে রোগীদের ওয়ার্ডের পাশাপাশি করিডোর, বারান্দা ও মেঝেতেও থাকতে হচ্ছে। একই সঙ্গে ডেঙ্গু ও সাধারণ রোগীদের একসঙ্গে চিকিৎসা দেওয়ায় সংক্রমণের ঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
ঢাকা পোস্টের ২৬ অক্টোবর প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ২৫ অক্টোবর পর্যন্ত গাইবান্ধায় চলতি বছরে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫৮৯। এর মধ্যে আগের ২৪ ঘণ্টায় জেলার সরকারি চিকিৎসাকেন্দ্রগুলোতে নতুন করে ৪৩ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হন। গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালে নতুন সাতজনসহ মোট ৩১ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি ছিলেন। আক্রান্তদের মধ্যে স্থানীয়ভাবে সংক্রমিত রোগীও রয়েছেন।
মশারি ছাড়াই চিকিৎসা, বাড়ছে উদ্বেগ
হাসপাতালে সরেজমিনে দেখা যায়, বিভিন্ন ওয়ার্ডে সাধারণ রোগীদের সঙ্গে ডেঙ্গু আক্রান্ত ব্যক্তিরাও চিকিৎসা নিচ্ছেন। তাঁদের কেউ কেউ শয্যায়, আবার কেউ মেঝেতে চিকিৎসা নিচ্ছেন। অনেক রোগীর আশপাশে মশারি টানানো ছিল না। এতে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীদের পাশাপাশি অন্য রোগী ও তাঁদের স্বজনদের মধ্যেও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
ডেঙ্গু ভাইরাসে আক্রান্ত ব্যক্তিকে এডিস মশা কামড়ানোর পর সেই মশা অন্য কাউকে কামড়ালে সংক্রমণ ছড়াতে পারে। তাই আক্রান্ত রোগীদের মশারির মধ্যে রাখা এবং মশার কামড় থেকে সুরক্ষিত রাখা গুরুত্বপূর্ণ। হাসপাতালে রোগীদের যথাযথভাবে মশারির আওতায় রাখতে না পারলে সংক্রমণ প্রতিরোধের উদ্যোগ ব্যাহত হতে পারে।
ধারণক্ষমতার চেয়ে কয়েক গুণ বেশি রোগী
হাসপাতালটিতে রোগীর অতিরিক্ত চাপ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। হাসপাতালের নার্সিং ইনচার্জের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২৫ অক্টোবর সেখানে ১০০ শয্যার বিপরীতে ৩৯৩ জন রোগী ভর্তি ছিলেন। শয্যা না পেয়ে অনেককে করিডোর, বারান্দা ও মেঝেতে থেকে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে।
হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) আসিফ রহমানের ভাষ্য অনুযায়ী, অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা, জনবলসংকট ও অন্যান্য সমস্যার কারণে প্রত্যাশিত সেবা নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়েছে। নতুন ভবন থাকলেও প্রয়োজনীয় জনবল ও অন্যান্য ব্যবস্থাপনার সীমাবদ্ধতায় সেটি পুরোপুরি চালু করা সম্ভব হয়নি। ডেঙ্গু রোগীদের জন্য পৃথক ওয়ার্ড চালু করাও কঠিন হয়ে পড়েছে।
স্থানীয় সংক্রমণ প্রতিরোধে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগ
স্বাস্থ্যসংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, গাইবান্ধায় শুধু বাইরে থেকে আক্রান্ত হয়ে আসা রোগী নন, স্থানীয়ভাবে সংক্রমিত ব্যক্তির সংখ্যাও বাড়ছে। ফলে পরিস্থিতি মোকাবিলায় হাসপাতালকেন্দ্রিক চিকিৎসার পাশাপাশি মশার প্রজননস্থল ধ্বংস, জমে থাকা পানি অপসারণ এবং আক্রান্ত রোগীদের মশারির মধ্যে রাখার ব্যবস্থা জোরদার করা প্রয়োজন।
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী, বাড়ির আশপাশে জমে থাকা পানি নিয়মিত পরিষ্কার করা, পানির পাত্র ঢেকে রাখা এবং দিনের বেলায়ও মশার কামড় থেকে সুরক্ষিত থাকা জরুরি। জ্বর দেখা দিলে অবহেলা না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগীদের নিরাপদ চিকিৎসা নিশ্চিত করতে পর্যাপ্ত শয্যা, মশারি, প্রয়োজনীয় জনবল এবং পৃথক চিকিৎসাব্যবস্থা কত দ্রুত নিশ্চিত করা যায়, এখন সেটিই গুরুত্বপূর্ণ।
✍️ মন্তব্য লিখুন