আন্তর্জাতিক ডেস্ক
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের নীতির প্রতিবাদে দেশজুড়ে বিক্ষোভ করেছেন হাজারো মানুষ। শনিবার (১৭ অক্টোবর) দেশটির বিভিন্ন শহর ও ছোট ছোট জনপদে ‘নো কিংস’ (রাজা নয়) আন্দোলনের ব্যানারে এসব কর্মসূচি পালিত হয়। এবারের বিক্ষোভে আগামী ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ভোটারদের আগাম ভোট দিতে উৎসাহিত করার বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে।
আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের ৫০টি অঙ্গরাজ্যজুড়ে আড়াই হাজারের বেশি স্থানে বিক্ষোভ, সমাবেশ ও অন্যান্য কর্মসূচির পরিকল্পনা করা হয়েছিল। ওয়াশিংটন ডিসি, নিউইয়র্ক ও লস অ্যাঞ্জেলেসসহ বিভিন্ন শহরে মানুষ রাস্তায় নেমে নিজেদের দাবি তুলে ধরেন। তবে দেশজুড়ে মোট কত মানুষ এসব কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছেন, তা নির্দিষ্ট করে বলা কঠিন বলে আয়োজকেরা জানিয়েছেন।
কেন ‘নো কিংস’ আন্দোলন?
‘নো কিংস’ কথাটির অর্থ—যুক্তরাষ্ট্রে কোনো রাজা নেই। আন্দোলনটির মূল বক্তব্য হলো, দেশ পরিচালনায় কোনো ব্যক্তির হাতে অতিরিক্ত ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত হওয়া উচিত নয়; বরং গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান, সংবিধান ও জনগণের অধিকারকে গুরুত্ব দিতে হবে।
ট্রাম্প প্রশাসনের বিভিন্ন নীতি ও ক্ষমতা প্রয়োগের ধরন নিয়ে উদ্বেগ থেকে এই আন্দোলনের বিস্তার ঘটে। আন্দোলনকারীদের অনেকে প্রশাসনের কর্মকাণ্ডকে কর্তৃত্ববাদী প্রবণতা হিসেবে দেখছেন। তবে বিক্ষোভে অংশগ্রহণকারীদের দাবি ও অগ্রাধিকারে ভিন্নতা রয়েছে।
এবার আগাম ভোটে গুরুত্ব
এবারের কর্মসূচির অন্যতম প্রধান লক্ষ্য ছিল রাজপথের প্রতিবাদকে নির্বাচনী অংশগ্রহণে রূপ দেওয়া। আয়োজকেরা ভোটারদের আগাম ভোট দিতে, ভোটাধিকার সম্পর্কে সচেতন হতে এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে উৎসাহিত করেন।
যুক্তরাষ্ট্রে আগামী ৩ নভেম্বর মধ্যবর্তী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। এ নির্বাচনে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ নির্ধারণে ভোটারদের সিদ্ধান্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তাই ‘নো কিংস’ আন্দোলনের আয়োজকেরা জনসমাবেশের পাশাপাশি ভোটারদের সংগঠিত করার ওপরও জোর দিচ্ছেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অ্যাকাউন্ট সাময়িক বন্ধ
বিক্ষোভের দিন ‘নো কিংস’ আন্দোলনের ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট কয়েক ঘণ্টার জন্য সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যায়। বিষয়টি নিয়ে আয়োজকদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়। পরে মেটা জানায়, স্বয়ংক্রিয় নিরাপত্তাব্যবস্থার ভুলের কারণে অ্যাকাউন্টটি বন্ধ হয়েছিল। প্রতিষ্ঠানটি এ ঘটনার জন্য দুঃখ প্রকাশ করে এবং অ্যাকাউন্ট পুনরায় চালু করা হয়।
সামনে কী?
‘নো কিংস’ আন্দোলনের সাম্প্রতিক কর্মসূচি দেখাচ্ছে, ট্রাম্প প্রশাসনের বিরোধিতার পাশাপাশি আন্দোলনকারীরা এখন নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ বাড়ানোর দিকেও মনোযোগ দিচ্ছেন। তবে এই বিক্ষোভ মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফলাফলে কতটা প্রভাব ফেলবে, তা এখনই নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।
রাজপথের আন্দোলন থেকে ভোটকেন্দ্রমুখী এই উদ্যোগ যুক্তরাষ্ট্রের চলমান রাজনৈতিক বিতর্কে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
✍️ মন্তব্য লিখুন