নিজস্ব প্রতিবেদক
রোহিঙ্গা শরণার্থী ও তাঁদের আশ্রয়দাতা স্থানীয় জনগোষ্ঠীর সহায়তায় গত নয় বছরে ৪৬ কোটি পাউন্ডের বেশি মানবিক সহায়তা দিয়েছে যুক্তরাজ্য। বাংলাদেশে নিযুক্ত ব্রিটিশ হাইকমিশনার সারাহ কুক এ তথ্য জানিয়েছেন। বাংলাদেশে রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলায় যুক্তরাজ্য দীর্ঘদিন ধরে সহায়তা দিয়ে আসছে।
সোমবার (১৯ অক্টোবর) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে সারাহ কুকের বক্তব্যের বরাতে এ তথ্য জানানো হয়। ৪৬ কোটি পাউন্ডের পরিমাণ বাংলাদেশি মুদ্রায় সাড়ে ৭ হাজার কোটি টাকার বেশি। তবে বিনিময় হার অনুযায়ী টাকার অঙ্কে কিছুটা পরিবর্তন হতে পারে।
রোহিঙ্গা সংকটে যুক্তরাজ্যের সহায়তা
২০১৭ সালে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সহিংসতার পর বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নেন। এরপর থেকে কক্সবাজারের শরণার্থীশিবিরগুলোতে খাদ্য, আশ্রয়, স্বাস্থ্যসেবা, বিশুদ্ধ পানি ও স্যানিটেশনসহ বিভিন্ন জরুরি মানবিক সহায়তা দিয়ে আসছে যুক্তরাজ্য।
যুক্তরাজ্য সরকারের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের মার্চ পর্যন্ত রোহিঙ্গা শরণার্থী ও বাংলাদেশের আশ্রয়দাতা জনগোষ্ঠীর জন্য দেশটি ৩৭ কোটি ৯০ লাখ পাউন্ড মানবিক সহায়তার ঘোষণা দিয়েছিল। ওই সময় নতুন করে ৫২ লাখ পাউন্ড সহায়তার কথাও জানানো হয়। এ অর্থের একটি অংশ খাদ্য ও রান্নার গ্যাস সরবরাহে ব্যয় করার পরিকল্পনা ছিল।
প্রত্যাবাসনই দীর্ঘমেয়াদি সমাধান
রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধান হিসেবে তাঁদের স্বেচ্ছায়, নিরাপদে ও মর্যাদার সঙ্গে মিয়ানমারে প্রত্যাবাসনের ওপর গুরুত্ব দিয়ে আসছে যুক্তরাজ্য। তবে রাখাইন রাজ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্ব ও অধিকার নিশ্চিত করার প্রশ্নে সংকটের সমাধান এখনো অনিশ্চিত।
বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের দীর্ঘদিন ধরে সহায়তা দিতে গিয়ে স্থানীয় জনগোষ্ঠীর ওপরও অর্থনৈতিক, সামাজিক ও পরিবেশগত চাপ তৈরি হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে শরণার্থী ও আশ্রয়দাতা জনগোষ্ঠী—উভয়ের জন্য আন্তর্জাতিক সহায়তা অব্যাহত রাখা গুরুত্বপূর্ণ।
বিশেষজ্ঞদের মতে, মানবিক সহায়তার পাশাপাশি রোহিঙ্গাদের নিরাপদ প্রত্যাবাসনের উপযোগী পরিবেশ তৈরি এবং সংকটের মূল কারণ সমাধানে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন।
✍️ মন্তব্য লিখুন