বিশেষ প্রতিনিধি | ঢাকা | ২৬ অক্টোবর ২০২৬
যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মচারীসহ গ্রেপ্তার সাতজনকে দুই দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দিয়েছেন আদালত। তদন্তসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের দাবি, চাকরিপ্রার্থীদের কাছ থেকে ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত নিয়ে পরীক্ষার আগে প্রশ্নপত্র ও উত্তর সরবরাহের চুক্তি করেছিলেন অভিযুক্ত ব্যক্তিরা। এ ঘটনায় প্রশ্ন ফাঁসের মূল উৎস এবং চক্রের সঙ্গে জড়িত অন্য ব্যক্তিদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে।
পরীক্ষার আগে ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে প্রশ্ন ও উত্তর
গত ১০ অক্টোবর যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের সহকারী যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা পদে নিয়োগের বাছাই পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। পরীক্ষা শুরুর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে প্রশ্নপত্র ও উত্তর ছড়িয়ে পড়ে। ফাঁস হওয়া প্রশ্নের সঙ্গে মূল প্রশ্নপত্রের মিল পাওয়ায় কর্তৃপক্ষ পরীক্ষা স্থগিত করে। এ ঘটনায় ১১ অক্টোবর মতিঝিল থানায় মামলা করা হয়।
গ্রেপ্তার সাতজনের মধ্যে পাঁচজন সরকারি কর্মচারী
গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর), প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ও পরিবেশ অধিদপ্তরের কর্মচারী রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে এনবিআরের অফিস সহায়ক নূর মোহাম্মদ, কম্পিউটার অপারেটর জাহাঙ্গীর আলম ও এস এম ইমদাদুল রহমান, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের অফিস সহায়ক আসাদুল ইসলাম এবং পরিবেশ অধিদপ্তরের ডেটা এন্ট্রি অপারেটর মো. রুবেল ইসলাম রয়েছেন। অন্য দুজন মো. মফিজুল ইসলাম ও মো. হাসিনুর রহমান ওরফে সুজন।
উদ্ধার হয়েছে স্ট্যাম্প, চেক ও প্রবেশপত্র
তদন্তসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের তথ্য অনুযায়ী, অভিযুক্ত ব্যক্তিদের কাছ থেকে ১০০ টাকার ১১৬টি স্ট্যাম্প, চাকরিপ্রার্থীদের সনদপত্র, বিভিন্ন ব্যাংকের চেক ও চেকের পাতা, প্রবেশপত্র এবং মুঠোফোন জব্দ করা হয়েছে। এসব নথি ও ডিজিটাল তথ্য যাচাই করে চক্রের সদস্যদের পারস্পরিক যোগাযোগ এবং অর্থ লেনদেনের বিষয়ে তদন্ত করা হচ্ছে।
আরও ১১টি পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁসের পরিকল্পনার অভিযোগ
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আদালতে দাবি করেন, অভিযুক্ত ব্যক্তিরা আরও ১১টি নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের পরিকল্পনা করেছিলেন। তদন্ত কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, তাঁদের মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগ ছিল এবং চক্রটির কার্যক্রমের পরিধি বিস্তৃত। এ কারণে মামলার বিস্তারিত তথ্য উদ্ঘাটন এবং অন্য জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে তাঁদের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের আবেদন করা হয়। আদালত শুনানি শেষে সাতজনের প্রত্যেকের দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
প্রশ্নপত্রের মূল উৎস এখনো অজানা
তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র প্রথম কোথা থেকে এবং কার মাধ্যমে ফাঁস হয়েছিল। তদন্তসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভাষ্য অনুযায়ী, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের কেউ কেউ ফেসবুকের মাধ্যমে প্রশ্নপত্র পাওয়ার দাবি করেছেন। তবে প্রশ্নপত্রের মূল উৎস সম্পর্কে তাঁদের দেওয়া তথ্য এখনো নিশ্চিত করা যায়নি। এ ঘটনায় অন্য কারা জড়িত, তা শনাক্ত করতে তদন্ত চলছে।
চাকরির নিয়োগ পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁসের এ ঘটনা নিয়োগপ্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও মেধাভিত্তিক প্রতিযোগিতা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। তবে মামলার অভিযোগগুলো তদন্তাধীন; আদালতে অপরাধ প্রমাণিত হওয়ার আগে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের দোষী হিসেবে চূড়ান্তভাবে বিবেচনা করা যাবে না।
✍️ মন্তব্য লিখুন