চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি | ২৬ অক্টোবর ২০২৬
চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলায় ধর্ম পরিবর্তন করে মুসলিম নারীকে বিয়ে করা এক যুবকের মৃত্যুর পর তাঁর শেষকৃত্য নিয়ে বিরোধে জড়িয়ে পড়েন বাবা ও স্ত্রী। বাবা হিন্দু রীতি অনুযায়ী সৎকারের দাবি জানান। অন্যদিকে, স্ত্রী তাঁর স্বামীর মরদেহ ইসলামি রীতিতে দাফন করতে চান। পরে পুলিশ ও স্থানীয় ব্যক্তিদের মধ্যস্থতায় বিরোধের অবসান হয়। স্ত্রীকে মরদেহ বুঝিয়ে দেওয়ার পর মুসলিম রীতি অনুযায়ী ওই যুবককে দাফন করা হয়।
ঘটনাটি ঘটেছে চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার কার্পাসডাঙ্গা এলাকায়। নিহত যুবকের নাম চঞ্চল কুমার (২৩)। ধর্ম পরিবর্তনের পর তিনি আব্দুল্লাহ নাম ধারণ করেন। তিনি কার্পাসডাঙ্গা আদিবাসীপাড়ার বাসিন্দা মিলন কুমারের ছেলে।
বাস দুর্ঘটনায় মৃত্যু
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রের বরাত দিয়ে প্রকাশিত সংবাদ অনুযায়ী, সম্প্রতি ঢাকা যাওয়ার পথে মুন্সিগঞ্জের শ্রীপুর মোড় এলাকায় বাস দুর্ঘটনায় চঞ্চল কুমারের মৃত্যু হয়। পরে তাঁর মরদেহ গ্রামের বাড়িতে পৌঁছালে শেষকৃত্য নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ দেখা দেয়।
প্রায় দুই বছর আগে চঞ্চল কুমার হিন্দুধর্ম ত্যাগ করে ইসলাম গ্রহণ করেন বলে জানা গেছে। পরে তিনি পাশের গ্রামের হামিদা খাতুন নামের এক মুসলিম নারীকে বিয়ে করেন। এরপর তাঁরা স্বামী-স্ত্রী হিসেবে সংসার করছিলেন।
মরদেহ বাড়িতে পৌঁছানোর পর নিহতের বাবা মিলন কুমার ও পরিবারের অন্য সদস্যরা হিন্দু রীতি অনুযায়ী সৎকারের দাবি জানান। অন্যদিকে, স্ত্রী হামিদা খাতুন বলেন, তাঁর স্বামী ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে তাঁকে বিয়ে করেছেন। তাই তিনি স্বামীর জানাজা শেষে ইসলামি রীতি অনুযায়ী দাফন করতে চান।
পুলিশ ফাঁড়িতে সমঝোতা, স্ত্রীর কাছে মরদেহ হস্তান্তর
বিরোধের একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে মরদেহটি কার্পাসডাঙ্গা পুলিশ ফাঁড়িতে নেওয়া হয়। পরে স্ত্রী হামিদা খাতুন বিয়ের কাবিননামা ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র পুলিশের কাছে উপস্থাপন করেন। এরপর পুলিশ ও স্থানীয় ব্যক্তিরা দুই পক্ষের সঙ্গে কথা বলে বিরোধ মীমাংসার উদ্যোগ নেন।
কার্পাসডাঙ্গা পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ জুম্মান খান, পরিবহনসংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও স্থানীয়দের মধ্যস্থতায় মরদেহটি স্ত্রীর কাছে হস্তান্তর করা হয়। পরে কার্পাসডাঙ্গা দক্ষিণপাড়া কবরস্থানে আব্দুল্লাহর মরদেহ দাফন করা হয়।
কার্পাসডাঙ্গা পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ জুম্মান খান জানান, নিহতের স্ত্রী বিয়ের কাবিননামাসহ বৈধ কাগজপত্র দেখানোর পর মরদেহ তাঁর কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। দামুড়হুদা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মো. মেজবাহ উদ্দিনও বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
✍️ মন্তব্য লিখুন