নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা
সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ব্যবহার করে প্রতিবেশী দেশ বাংলাদেশে রাজনৈতিক কৌশল বাস্তবায়নের চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও ঢাকা-৩ আসনের সংসদ সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়। তাঁর দাবি, শেখ হাসিনার দেশে ফেরা নিয়ে যেসব বক্তব্য সামনে আসছে, সেগুলো তাঁর নিজস্ব অবস্থানের প্রতিফলন নয়; বরং প্রতিবেশী দেশের স্বার্থে তাঁকে দিয়ে এসব বলানো হচ্ছে।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) প্রকাশিত এক সংবাদে গয়েশ্বর চন্দ্র রায়ের এ বক্তব্য উঠে এসেছে। তিনি অভিযোগ করেন, শেখ হাসিনা বর্তমানে প্রতিবেশী দেশের কাছে রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ একটি হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছেন। তবে এসব অভিযোগের পক্ষে স্বাধীনভাবে যাচাই করা কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
‘দেশে ফিরতে হলেও অনুমতি নিতে হবে’
গয়েশ্বর চন্দ্র রায়ের ভাষ্য অনুযায়ী, শেখ হাসিনা দেশে ফিরতে চাইলেও তাঁকে ভারতের অনুমতির বিষয়টি বিবেচনায় নিতে হবে। তাঁর মতে, শেখ হাসিনা যুক্তরাজ্য বা অন্য কোনো দেশে অবস্থান করলে তাঁকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক কৌশল বাস্তবায়ন করা প্রতিবেশী দেশের জন্য তুলনামূলক কঠিন হতো।
তিনি আরও বলেন, শেখ হাসিনার দেশে ফেরার বিষয়ে আলোচনা থাকলেও বাংলাদেশের মানুষের প্রত্যাশা, তিনি দেশে ফিরে আসুন।
শেখ হাসিনাকে ঘিরে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণ-অভ্যুত্থানের মুখে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর শেখ হাসিনা ভারতে অবস্থান করছেন। তাঁকে দেশে ফিরিয়ে আনা এবং তাঁর বিরুদ্ধে চলমান বিচারপ্রক্রিয়া নিয়ে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কেও আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।
সম্প্রতি বাংলাদেশের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবিরও ভারতে শেখ হাসিনা ও তাঁর সহযোগীদের কর্মকাণ্ডকে দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। অন্যদিকে, শেখ হাসিনাকে প্রত্যর্পণের বিষয়ে ভারতীয় পক্ষ আইনি প্রক্রিয়ার কথা বলেছে।
গয়েশ্বর চন্দ্র রায়ের বক্তব্যের বিষয়ে প্রতিবেশী দেশের আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া এই প্রতিবেদন তৈরির সময় পাওয়া যায়নি। ফলে তাঁর অভিযোগকে রাজনৈতিক বক্তব্য হিসেবেই বিবেচনা করা প্রয়োজন।
শেখ হাসিনাকে ঘিরে রাজনৈতিক বক্তব্য, প্রত্যর্পণ প্রশ্ন এবং ঢাকা-দিল্লি সম্পর্কের ভবিষ্যৎ পরিস্থিতি—সব মিলিয়ে বিষয়টি বাংলাদেশের রাজনীতিতে আলোচনার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে রয়েছে।
✍️ মন্তব্য লিখুন