নিজস্ব প্রতিবেদক
স্বাস্থ্য | ২৮ অক্টোবর ২০২৬
কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আকস্মিক পরিদর্শনে গিয়ে দীর্ঘদিন ধরে কর্মস্থলে অনুপস্থিত পাঁচ চিকিৎসকের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। একই সঙ্গে অন্যত্র সংযুক্তিতে থাকা সাত চিকিৎসককে তাঁদের নিজ নিজ কর্মস্থলে ফিরিয়ে আনার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।
বুধবার (২৮ অক্টোবর) সকাল সাড়ে আটটার দিকে হাসপাতালটি পরিদর্শন করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। এ সময় চিকিৎসকদের উপস্থিতি, রোগীদের চিকিৎসাসেবার মান এবং হাসপাতালের সার্বিক পরিবেশ পর্যালোচনা করেন তিনি। পাশাপাশি রোগীদের সঙ্গে কথা বলে তাঁদের চিকিৎসাসংক্রান্ত সমস্যার খোঁজ নেন।
৫১ চিকিৎসকের মধ্যে অনুপস্থিত ১২ জন
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, মুরাদনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কর্মরত ৫১ জন চিকিৎসকের মধ্যে পরিদর্শনের সময় ১২ জনকে অনুপস্থিত পাওয়া যায়। তাঁদের মধ্যে সাতজন অন্যত্র সংযুক্তিতে কর্মরত ছিলেন। বাকি পাঁচজন দীর্ঘদিন ধরে নিজ কর্মস্থলে অনুপস্থিত বলে জানানো হয়।
এ পরিস্থিতিতে দীর্ঘদিন অনুপস্থিত থাকা পাঁচ চিকিৎসকের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেন মন্ত্রী। অন্যত্র সংযুক্তিতে থাকা সাত চিকিৎসককে নিজ কর্মস্থলে ফিরিয়ে আনার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতেও বলেন তিনি।
সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসকদের নিয়মিত উপস্থিতি নিশ্চিত করা গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে উপজেলা পর্যায়ে চিকিৎসকসংকট ও প্রয়োজনীয় সেবার সীমাবদ্ধতার মধ্যে কর্মস্থলে অনুপস্থিতি রোগীদের ভোগান্তি বাড়াতে পারে। তাই এ ধরনের পরিদর্শন ও প্রশাসনিক পদক্ষেপের কার্যকারিতা নির্ভর করবে পরবর্তী সময়ে সেবার মান কতটা উন্নত হয়, তার ওপর।
হাসপাতালকে ১৫১ শয্যায় উন্নীত করার পরিকল্পনা
পরিদর্শনকালে মুরাদনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ১৫১ শয্যায় উন্নীত করার পরিকল্পনার কথাও জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী। প্রস্তাবিত উন্নয়ন পরিকল্পনায় রয়েছে—
* হাসপাতালে ১০টি ডায়ালাইসিস মেশিন স্থাপন।
* প্রসূতি মায়েদের জন্য ২০ শয্যার ওয়ার্ড চালু।
* নবজাতকদের জন্য ২০ শয্যার ব্যবস্থা।
* নারী ও পুরুষের জন্য পৃথক ফিজিওথেরাপি সেবা।
* মায়েদের জন্য ব্রেস্টফিডিং সেন্টার চালু।
মন্ত্রী জানান, আগামী ১৫ থেকে ১৬ দিনের মধ্যে প্রকল্পটির দরপত্র প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার পরিকল্পনা রয়েছে। এ ছাড়া ১ নভেম্বর নতুন করে যোগদান করতে যাওয়া চিকিৎসকদের মধ্য থেকে মুরাদনগর হাসপাতালে চিকিৎসক পদায়নের উদ্যোগ নেওয়ার কথাও জানান তিনি।
পরিচ্ছন্নতা ও অ্যাম্বুলেন্স সংকট নিয়েও অসন্তোষ
হাসপাতালের সার্বিক ব্যবস্থাপনায় আগের তুলনায় কিছুটা উন্নতি দেখলেও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও পরিচ্ছন্নতা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। তাঁর মতে, রোগীদের চিকিৎসা নিশ্চিত করার পাশাপাশি হাসপাতালের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখাও জরুরি।
এ ছাড়া হাসপাতালের বিকল যানবাহনগুলো কনডেমনেশন প্রক্রিয়ায় নেওয়ার নির্দেশ দেন তিনি। অ্যাম্বুলেন্সের সংকট নিরসনে আগামী অর্থবছরের মধ্যে ব্যবস্থা নেওয়ার পরিকল্পনার কথাও জানান।
স্থানীয় সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মন্ত্রী বলেন, উপজেলা পর্যায়ের স্বাস্থ্যসেবাকে আরও আধুনিক ও জনবান্ধব করে গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। মুরাদনগর হাসপাতালের চিকিৎসাসেবার মান আগের তুলনায় ভালো মনে হলেও পরিদর্শনে কিছু অনিয়ম তাঁর নজরে এসেছে। এসব বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের সতর্ক করা হয়েছে।
জবাবদিহি নিশ্চিত করাই মূল চ্যালেঞ্জ
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলো গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর চিকিৎসাসেবার অন্যতম প্রধান ভরসা। এসব প্রতিষ্ঠানে চিকিৎসকদের উপস্থিতি, প্রয়োজনীয় জনবল, ওষুধ ও আধুনিক চিকিৎসাসুবিধা নিশ্চিত করা না গেলে সাধারণ মানুষকে চিকিৎসার জন্য দূরের হাসপাতালে যেতে হয়।
মুরাদনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অনুপস্থিত চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশের পাশাপাশি শয্যাসংখ্যা ও চিকিৎসাসুবিধা বাড়ানোর পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে স্থানীয় জনগণের চিকিৎসাপ্রাপ্তি সহজ হতে পারে। তবে এসব উদ্যোগের সুফল নিশ্চিত করতে নিয়মিত তদারকি, প্রশাসনিক জবাবদিহি এবং ঘোষিত উন্নয়ন পরিকল্পনার বাস্তবায়ন জরুরি।
✍️ মন্তব্য লিখুন