নিজস্ব প্রতিবেদক
দেশে হামের সংক্রমণ মোকাবিলায় আবারও বিশেষ টিকাদান কার্যক্রম শুরু করতে যাচ্ছে সরকার। আগামী ২৫ সেপ্টেম্বর থেকে দ্বিতীয় দফায় এই টিকাদান ক্যাম্পেইন শুরু হবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, প্রথম দফার টিকাদান কর্মসূচি শেষ হওয়ার পরও দেশে হামের সংক্রমণ অব্যাহত থাকায় সরকার নতুন করে টিকাদানের উদ্যোগ নিয়েছে। এর আগে সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে মপ-আপ কার্যক্রমের আওতায় প্রায় ১৪ লাখ শিশুকে হামের টিকা দেওয়া হয়েছে।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, হামের সংক্রমণ পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে শিশুদের টিকাদানের আওতা বাড়ানো হচ্ছে। সরকারের লক্ষ্য, ঝুঁকিতে থাকা শিশুদের দ্রুত টিকার আওতায় এনে সংক্রমণের বিস্তার কমানো।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী আরও বলেন, আগের সরকারের সময় দেশে টিকার মজুত ছিল না। বর্তমান সরকার ২১ দিনের মধ্যে ১ কোটি ৮৫ লাখ শিশুর জন্য টিকা সংগ্রহ করে টিকাদান কার্যক্রম সম্পন্ন করেছে বলে তিনি দাবি করেন।
এদিকে দেশে হামের পরিস্থিতি এখনো উদ্বেগজনক। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ১০ সেপ্টেম্বরের তথ্য অনুযায়ী, আগের ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গে আরও ৭ শিশুর মৃত্যু হয়েছে এবং নতুন করে ১ হাজার ১৯৪ শিশু আক্রান্ত হয়েছে। গত ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত হাম সন্দেহে শনাক্ত রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৬৮ হাজার ৭৪৫; নিশ্চিতভাবে হাম শনাক্ত হয়েছে ১৯ হাজার ৯৩৩ শিশুর। একই সময়ে হাম ও হামের উপসর্গে মোট মৃত্যুর সংখ্যা ১ হাজার ৯-এ পৌঁছেছে।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, হাম অত্যন্ত সংক্রামক একটি ভাইরাসজনিত রোগ। আক্রান্ত ব্যক্তির কাশি, হাঁচি ও শ্বাস-প্রশ্বাসের মাধ্যমে এটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে পারে। শিশুদের সুরক্ষায় নিয়মিত টিকাদান ও প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা গুরুত্বপূর্ণ।
২৫ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হতে যাওয়া দ্বিতীয় দফার বিশেষ টিকাদান কর্মসূচি সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে কতটা কার্যকর হয়, এখন সেটিই দেখার বিষয়। সরকারের পাশাপাশি অভিভাবকদেরও শিশুদের টিকাদানের আওতায় আনার বিষয়ে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
তথ্যসূত্র: স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য এবং ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ প্রকাশিত সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদন।
✍️ মন্তব্য লিখুন